গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ঢাকার রাস্তায় রাইডশেয়ারিং সেবায় চালক-যাত্রী নারী

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৫৭ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৩৬ এএম ২০২৬
ঢাকার রাস্তায় রাইডশেয়ারিং সেবায় চালক-যাত্রী নারী
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ঢাকার ব্যস্ত সড়ক। চারদিকে গাড়ির ভিড়, যানজট আর হর্নের শব্দ। এর মধ্যেই ফাঁক গলে এগিয়ে যাচ্ছে একটি মোটরসাইকেল। চালকের মাথায় হেলমেট, চোখ রাস্তায়। পেছনে বসা যাত্রীও নারী। পাশ দিয়ে যাওয়া মানুষের কৌতূহলী চোখ হঠাৎ থেমে যায় মোটরসাইকেলটির দিকে। কারণ চালক ও যাত্রী- দুজনই নারী। এ দৃশ্য এখনো ঢাকার রাস্তায় খুব পরিচিত নয়। তবে ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে চিত্র। নারীর জন্য নারী চালকের রাইডশেয়ারিং সেবা নিয়ে এসেছে ‘মায়া রাইড’। অপরিচিত পুরুষের মোটরসাইকেলের পেছনে বসতে অস্বস্তি বোধ করা নারীদের জন্যই মূলত এই উদ্যোগ।

‘মায়া’র একজন চালক সাথী (ছদ্মনাম)। ছয় বছর বয়সী মেয়ের দেখাশোনা, সংসারের কাজ- সবকিছু সামলে সুযোগ পেলেই মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন তিনি। এরপর অপরিচিত কোনো নারী যাত্রীকে তার গন্তব্যে পৌঁছে দেন। গত জুলাই থেকে এখন পর্যন্ত ৩৮টি রাইড দিয়েছেন সাথী। তবে তার কাজের ধরন একেবারেই নিয়মবাঁধা নয়। কোনো দিন তিনটি রাইড দিয়েছেন, আবার মেয়ের পরীক্ষা বা সংসারের ব্যস্ততায় কয়েক সপ্তাহ মোটরসাইকেল নিয়ে বের হওয়াও হয়নি।

অস্বস্তি থেকে জন্ম ‘মায়া’র: নারীদের যাতায়াতকে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করার ভাবনা থেকেই ফাহাদ চৌধুরী ও তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস গত এপ্রিলে শুরু করেন ‘মায়া’ উদ্যোগ। ‘উইমেন ফার্স্ট রাইড সার্ভিস’ স্লোগানে যাত্রা শুরু করা এই উদ্যোগ প্রথমে মোটরসাইকেল রাইড দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে যুক্ত হয়েছে প্রাইভেট কার ও কার-শেয়ারিং সেবাও। ভাবনাটির শুরু হয়েছিল খুব সাধারণ একটি প্রশ্ন থেকে। ঢাকার রাস্তায় চলাচলের সময় ফাহাদ ও জান্নাতুল দেখতেন, অনেক নারীই দ্রুত যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল রাইডশেয়ারিং ব্যবহার করছেন। কিন্তু অপরিচিত পুরুষ চালকের পেছনে বসে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে অনেক নারীই স্বস্তি বোধ করেন না। তাহলে চালকও যদি নারী হন- এ প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় উদ্যোগটির পথচলা। প্রথমে ফেসবুকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রচারণা চালান ফাহাদ। সেখান থেকেই নারী যাত্রী ও সম্ভাব্য নারী চালকদের সাড়া পাওয়া শুরু হয়। পরে চালু হয় ‘মায়া রাইড’। বর্তমানে ১০ জনের বেশি নারী নিয়মিত এই সেবা নেন। কেউ সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন রাইড বুক করেন আবার কেউ অফিসে যাতায়াতের জন্য সপ্তাহে ১০টি পর্যন্ত রাইড নেন। চাহিদার দিক থেকে গুলশান ও বনানীর অফিস এলাকা এগিয়ে। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর ও বসুন্ধরা থেকেও নিয়মিত বুকিং আসে; বিশেষ করে সকালে অফিস শুরুর সময় রাইডের চাহিদা বেড়ে যায়।

প্রথম রাইডে ভয় পেয়েছিলেন সাথী: ফেসবুকে ‘মায়া’র চালক নিয়োগের বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেছিলেন সাথী। তবে সিদ্ধান্ত নিতে তার প্রায় এক মাস সময় লেগেছিল। পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে শেষ পর্যন্ত মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তায় নামার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের যাতায়াতের অভিজ্ঞতাও তাকে এই কাজে আসতে উৎসাহ দিয়েছে। বাসে চলাচলের সময় নানা ধরনের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। আবার প্রাইভেট কার বা অটোরিকশায় উঠলে শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করতেন। নিজের চলাচলের জন্য তাই মোটরসাইকেলকেই তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক মনে হয়েছে তার। সাথীর ভাষায়, অনেক নারী অপরিচিত পুরুষের সঙ্গে রাইড শেয়ার করতে না চাইলেও তাদের সামনে সবসময় বিকল্প থাকে না। সেই বিকল্প তৈরির ইচ্ছা থেকেই ‘মায়া’য় যোগ দেওয়া।

নারী চালকেই স্বস্তি: ‘মায়া’র নিয়মিত যাত্রীদের একজন আনিকা সালসাবিল। দক্ষিণ বনশ্রী থেকে ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে যাতায়াত করেন তিনি। আগে অন্য প্ল্যাটফর্ম থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিতেন। পরে ফেসবুকে ‘মায়া’র কথা জানতে পেরে এই সেবা নেওয়া শুরু করেন। আনিকার কাছে এই সেবার সবচেয়ে বড় সুবিধা স্বস্তি। নারী চালক থাকায় পুরো পথ তুলনামূলক নিশ্চিন্তে থাকা যায়। অফিসে যাওয়ার সময় তাড়া থাকলে মোটরসাইকেলের কারণে দ্রুত গন্তব্যেও পৌঁছানো সম্ভব।

কীভাবে বুকিং দেবেন: ‘মায়া’ মূলত ফেসবুকভিত্তিক যোগাযোগের মাধ্যমে রাইডের বুকিং নেয়। যাত্রীদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ফেসবুক প্রোফাইল ও ফোনকলের মাধ্যমে তথ্য নেওয়া হয়। বর্তমানে রাজধানীর ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, বসুন্ধরা, বারিধারা ও পুরান ঢাকায় সেবাটি চালু রয়েছে। রাত ৯টা পর্যন্ত সেবা পাওয়া যায়। বৃষ্টি বা খারাপ আবহাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে চালক চাইলে আগাম বুক করা রাইড বাতিল করতে পারেন। কোনো এলাকা চালকের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হলেও রাইড প্রত্যাখ্যানের সুযোগ রয়েছে। মোটরসাইকেলের প্রতিটি রাইডে ১০ শতাংশ এবং প্রাইভেট কারে ১৫ শতাংশ কমিশন নেওয়া হয়। পাশাপাশি কার-শেয়ারিং সেবায় চারটি গাড়িতে প্রায় ১৫ জন চাকরিজীবী নারী মাসিক চুক্তিতে যাতায়াত করছেন। তবে উদ্যোগটির সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ- যাত্রীর তুলনায় নারী চালকের সংখ্যা কম। ফলে চাহিদা থাকলেও সবসময় প্রয়োজনমতো রাইড দেওয়া সম্ভব হয় না।

শুধু নিরাপদ যাতায়াত নয়, আয়ের পথও: ‘মায়া’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌসের লক্ষ্য শুধু নারীদের জন্য স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করা নয়। একই সঙ্গে দক্ষ ও পেশাদার নারী চালকদের জন্য তৈরি করতে চান আয়ের সুযোগ। আগামী এক বছরে আরও অনেক দক্ষ, পেশাদার ও যাচাইকৃত নারী চালককে ঢাকার রাস্তায় দেখতে চান তিনি। তার ভাবনায়, একজন নারী অন্য নারীর নিরাপদ যাতায়াতের সঙ্গী হওয়ার পাশাপাশি নিজের জন্যও তৈরি করতে পারেন আয়ের একটি পথ।

কেএমএএ/আপ্র/০৪.১০.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

কর্মজীবী নারীদের পারিবারিক আবেগঘন শ্রম সমাজে পুরোপুরি অস্বীকৃত
১৪ অক্টোবর ২০২৬

কর্মজীবী নারীদের পারিবারিক আবেগঘন শ্রম সমাজে পুরোপুরি অস্বীকৃত

কর্মজীবী নারীরা শুধু অফিসের কাজ করেন না, ঘরের সব দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্র...

হঠাৎ হারিয়ে যায় পরিচয়হীন ভাগ্যবিড়ম্বিত মানবসন্তান পথশিশুরা
১৪ অক্টোবর ২০২৬

হঠাৎ হারিয়ে যায় পরিচয়হীন ভাগ্যবিড়ম্বিত মানবসন্তান পথশিশুরা

প্রায় প্রতিদিনই দশ-এগারো বছরের শেফালি বিজয় সরণি মোড়ে দাঁড়িয়ে ফুল বিক্রি করত। তারা দুই ভাইবোন এখানেই...

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে কন্যাশিশুর সুরক্ষায় সব পরিবারই উদ্বিগ্ন
১৪ অক্টোবর ২০২৬

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে কন্যাশিশুর সুরক্ষায় সব পরিবারই উদ্বিগ্ন

কন্যাশিশুদের ঘিরে বাংলাদেশে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে। স্কুলে যাওয়ার পথে নিরাপত্তা, অপরিচিত মানুষের সঙ...

মায়েদের সঙ্গে কারাগারে বন্দি ৩০৩ শিশু
১৪ অক্টোবর ২০২৬

মায়েদের সঙ্গে কারাগারে বন্দি ৩০৩ শিশু

দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে ৩০৩টি শিশু রয়েছে বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দিয়েছে সমাজসেবা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পরিচয় যা-ই হোক, চাঁদাবাজ-দখলদারদের ছাড় নয়: ডিএমপি কমিশনার

চাঁদাবাজ, ভূমি দখলবাজ ও মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় বা অবস্থান বিবেচনা না করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দীন আহমদ। এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো ধরনের শিথিলতা দেখানো যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সেপ্টেম্বর মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এসব নির্দেশনা দেন কমিশনার। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- কমিশনার যে নির্দেশনা দিয়েছেন, পুলিশ সদস্যরা তা বাস্তবে তা করতে পারবেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 19 ঘন্টা আগে