সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি (এসসিবিএ) কার্যনির্বাহী কমিটির ২০২৬-২৭ সেশনের বার্ষিক নির্বাচন আগামী ১১ ও ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান মিলন ১৮ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেন।
নির্বাচনী তফসিল অনুযায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ১ মার্চ এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ৪ মার্চ।
এসসিবিএ কার্যনির্বাহী কমিটির মোট ১৪টি পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পদগুলো হলো সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, দুজন করে সহসভাপতি ও সহকারী সম্পাদক এবং সাতজন সদস্য।
এদিকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনজীবী সমিতির এই নির্বাচনের রেশ ছড়িয়ে যায় জাতীয় রাজনীতিতেও। তাই দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো এ নির্বাচনকে অত্যন্ত ‘মর্যাদা’র বলেও মনে করে। ফলে এবারের নির্বাচনে প্রার্থীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রার্থিতা ঘোষণা করে চলেছেন।
প্রার্থিতা ঘোষণাকৃত একজন হলেন সাবেক ছাত্রনেতা, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রিয় মুখ, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ফরিদপুরের কৃতিসন্তান মো. আসাদুজ্জামান মনির। তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করতে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই- যেখানে বাইরের কারো হস্তক্ষেপ থাকবে না। বারের গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য নির্বাচন করছি। আমরা আইনজীবীরা সবাই সবাইকে চিনি। আশা করি নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবে; কারো কাছে মাথা নত করবে না।’
প্রার্থিতা ঘোষণাকৃত আরেকজন হলেন সাবেক ছাত্রনেতা, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিএম আব্দুর রাফেল। তিনিও কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচন করতে জোর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমি নিয়মিত প্র্যাকটিশনার। বিগত সময়ে সব সময় আইনজীবীদের পাশে থেকেছি। তারা আমাকে পছন্দ করেন। তারাই আমার শক্তি। আশা করছি, ওই ভোটশক্তি আমাকে বিজয়ী করবে।’
সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা সভাপতিসহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে বিজয়ী হন। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা সম্পাদকসহ বাকি ১০টি পদে জয় পান। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবী নেতারা এসসিবিএ কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বন্ধ করেন। এরপর ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট এসসিবিএর একটি অন্তর্বর্তী কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। এতে বিএনপিপন্থি আইনজীবী এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে সভাপতি ও মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলকে সম্পাদক মনোনীত করা হয়। পরে ব্যারিস্টার কাজল দায়িত্ব নেননি এবং সহকারী সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. মাহফুজুর রহমান মিলনকে সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
আপ্র/কেএমএএ/২২.০২.২৬