অফিসের কাজের চাপ, দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব কিংবা মানসিক চাপের কারণে অনেকেই মাথাব্যথায় ভোগেন। এ সময় অনেকে বারবার চা বা কফি পান করলেও অতিরিক্ত ক্যাফেইন কিছু ক্ষেত্রে উল্টো মাথাব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বিকল্প হিসেবে ক্যাফেইনমুক্ত ভেষজ পানীয়, বিশেষ করে পুদিনা পাতার চা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পুদিনা পাতায় থাকা মেনথল পেশির টান কমাতে এবং শরীরে আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি করতে সহায়তা করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মেনথল টেনশনজনিত মাথাব্যথার উপসর্গ কমাতে উপকারী হতে পারে। তবে ঘন ঘন বা তীব্র মাইগ্রেনে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পুদিনা চা শুধু মাথাব্যথাই নয়, সর্দি-কাশি ও নাক বন্ধের অস্বস্তিও কিছুটা কমাতে পারে। গরম চায়ের বাষ্প ও মেনথলের শীতল অনুভূতি শ্বাস নিতে স্বস্তি দেয় এবং গলা আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া পুদিনা চা হজমে সহায়ক হিসেবেও পরিচিত। ভারী খাবারের পর গ্যাস, বদহজম বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যা কমাতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে। এতে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান পরিপাকতন্ত্রের পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে। তবে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বা অন্য কোনো পরিপাকজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পুদিনার প্রাকৃতিক সুগন্ধ মুখের দুর্গন্ধ কমাতেও সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এর কিছু অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ক্যাফেইনমুক্ত হওয়ায় সন্ধ্যা বা রাতে পুদিনা চা পান করলে ঘুমের ব্যাঘাতের আশঙ্কা তুলনামূলক কম থাকে। এর সতেজ সুগন্ধ মানসিক চাপ কমাতে এবং শরীরকে কিছুটা প্রশান্তি দিতেও সহায়ক হতে পারে।
যেভাবে তৈরি করবেন
এক কাপ ফুটন্ত পানিতে ৫–৬টি তাজা পুদিনা পাতা বা ১ চা-চামচ শুকনো পুদিনা পাতা দিয়ে ৫–৭ মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর ছেঁকে নিয়ে ইচ্ছা করলে সামান্য মধু বা কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশাতে পারেন। অতিরিক্ত চিনি ব্যবহার না করাই ভালো।
সতর্কতা
যাদের অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স (জিইআরডি) রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে পুদিনা চা কিছু সময় অস্বস্তি বাড়াতে পারে। এছাড়া গর্ভবতী নারী, স্তন্যদানকারী মা কিংবা দীর্ঘমেয়াদি কোনো রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত ভেষজ চা পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
এসি/আপ্র/০৮/০৭/২০২৬