ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার গৌরীনাথপুর বাজার এখন দেশের অন্যতম বড় ড্রাগন ফলের পাইকারি বাজারে পরিণত হয়েছে। একসময় প্রান্তিক বাজার হিসেবে পরিচিত এ বাজারে বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফলের বেচাকেনা হয়। এই বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শতাধিক পাইকারি আড়ত, যার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রাগন ফল সরবরাহ করা হচ্ছে। সৃষ্টি হয়েছে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান।
জেলা জুড়ে ড্রাগন ফলের চাষাবাদ বাড়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ফলের চাহিদাও বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফল গৌরীনাথপুর বাজারে নিয়ে আসেন। আড়তগুলোতে চলে কেনাবেচা, বাছাই, ওজন ও প্যাকেজিংয়ের ব্যস্ততা। লাল টুকটুকে ড্রাগন ফলে ভরে ওঠে পুরো বাজার।
স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে ড্রাগন চাষ করেছেন। বাজারটি কাছাকাছি হওয়ায় সহজেই ফল বিক্রি করা যায়। এতে পরিবহন ব্যয় ও ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমেছে। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, সাইকেল কিংবা বস্তায় করে ফল এনে বাজারে বিক্রি করেন কৃষকেরা।
একটি আড়তের হিসাবরক্ষক জাকির হোসেন বলেন, বাজারটি গড়ে ওঠায় বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি আড়তে কাজ করে মাসে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা আয় করেন। এছাড়া ফল পরিমাপ, বাছাই ও প্যাকেজিংয়ের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরাও মাসে গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা উপার্জন করছেন।
নাটোর থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ বলেন, গৌরীনাথপুর বাজারের ড্রাগনের মান ভালো এবং দামও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। তাই তিনি নিয়মিত এ বাজার থেকে ফল কিনে ট্রেনে করে নাটোরে নিয়ে যান।
পাইকারি ও খুচরা আড়তদার সাঈদ সরকার জানান, বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ড্রাগন ফল বেচাকেনা হয়। এখান থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে ফল সরবরাহ করা হয়। ফলের আকার ও মান অনুযায়ী দামের তারতম্য হয়।
এসি/আপ্র/০৮/০৭/২০২৬