আন্তর্জাতিক বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের প্রধান মূল্যসূচক সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় জুলাই মাসের জন্য দেশের বেসরকারি খাতের এলপিজি ও অটোগ্যাসের দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।
গত ২ জুলাই জারি করা কমিশনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জুলাই মাসের জন্য সৌদি আরামকো প্রতি মেট্রিক টন প্রোপেনের মূল্য ৫৮০ মার্কিন ডলার এবং বিউটেনের মূল্য ৬০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে। প্রোপেন ও বিউটেনের ৩৫:৬৫ অনুপাত অনুযায়ী গড় সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস দাঁড়িয়েছে প্রতি মেট্রিক টন ৫৯১ মার্কিন ডলার। জুন মাসে এই গড় মূল্য ছিল ৬৮০ মার্কিন ডলার। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমেছে ৮৯ মার্কিন ডলার।
এই মূল্যহ্রাসের সরাসরি প্রভাবেই দেশের বাজারে এলপিজির দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৩৫৭ টাকা কমিয়ে এক হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ২৯ টাকা ৭৬ পয়সা। এর আগে জুন মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৫৫ টাকা কমানো হয়েছিল।
এ ছাড়া রেটিকুলেটেড ব্যবস্থায় তরল অবস্থায় সরবরাহ করা এলপিজির দাম প্রতি কেজি ১২৩ টাকা ৫৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্যাসীয় অবস্থায় সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি লিটার ৭২ পয়সা ৪৮ পয়সা বা প্রতি ঘনমিটার ৭২৪ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অটোগ্যাসের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ৭০ টাকা ৮০ পয়সা, যা আগের মাসের তুলনায় কম। নতুন এই মূল্য ২ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে সরকারি খাতের ১২ দশমিক ৫ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সাই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। এর প্রভাবে গত এপ্রিলে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি হয়। ওই মাসের শুরুতে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানো হয়। পরে ১৯ এপ্রিল আরও ২১২ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে এর দাম দাঁড়ায় এক হাজার ৯৪০ টাকা। পরের মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখা হলেও যুদ্ধবিরতির পর বিশ্ববাজারে দাম কমতে শুরু করলে জুনে সিলিন্ডারপ্রতি ৫৫ টাকা কমানো হয়।
বাংলাদেশে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। এলপিজির প্রধান কাঁচামাল প্রোপেন ও বিউটেন সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো প্রতি মাসে এই দুই উপাদানের আন্তর্জাতিক মূল্য ঘোষণা করে, যা সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস নামে পরিচিত।
এই মূল্যকে ভিত্তি ধরে আমদানিকারকদের চালানমূল্য, ডলারের বিনিময় হার, আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয়, বন্দর ব্যয় এবং বিপণন খরচসহ বিভিন্ন উপাদান বিবেচনায় নিয়ে কমিশন দেশে এলপিজির সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করে। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি কনট্রাক্ট প্রাইস উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় তার সুফল সরাসরি পেয়েছেন দেশের ভোক্তারা।
এসি/আপ্র/০৭/০৭/২০২৬