গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

মেনু

টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম অচল, ৩৩০ মিলিমিটার বর্ষণ

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

জেলা প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

প্রকাশিত: ১২:২১ পিএম, ০৭ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৬:৫৪ এএম ২০২৬
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম অচল, ৩৩০ মিলিমিটার বর্ষণ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে অব্যাহত বর্ষণে পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে জেলা প্রশাসন এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে আহ্বান জানিয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, সোমবার সকাল ৯টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান। এতে জলাবদ্ধতার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও রয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে নগরীর চকবাজার, উত্তর আগ্রাবাদ, কমার্স কলেজ রোড, হালিশহর, ইপিজেড, বন্দর, পাঠানটুলি, চান্দগাঁও ও পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যায়। অনেক স্থানে বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।

কাপাসগোলা এলাকার বাসিন্দা শহীদুল হক বলেন, ভারী বৃষ্টি হলেই নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে প্রতিবছর একই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

কাতালগঞ্জের বাসিন্দা মাসুদ ফরহান জানান, সকালে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে বাসা থেকে বের হতে হয়েছে। বছরের পর বছর বর্ষা এলেই তাদের এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী বলেন, নগরজুড়ে পানি নিষ্কাশনের কাজ চলছে। কয়েকটি স্থানে সাময়িক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও বৃষ্টি কমে এলে দ্রুত পানি নেমে যাবে।

তিনি অভিযোগ করেন, পতেঙ্গা এলাকায় পানি নিষ্কাশনের কাজের সময় কয়েকজন ব্যক্তি সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ছিনিয়ে নিয়েছেন এবং পানি চলাচলে বাধা দিচ্ছেন। এতে ওই এলাকায় জমে থাকা পানি সরতে বিলম্ব হচ্ছে।

অন্যদিকে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় আকবর শাহ থানার ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর, শান্তিনগর পাহাড়, বেলতলী ঘোনা, মতিরঝর্ণা টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিলসংলগ্ন পাহাড়, ঢেবারপাড়, আমবাগান, দক্ষিণ পাহাড়তলী মৌজার সেকান্দর কলোনি, ঠান্ডাছড়ি ও সন্দ্বীপ কলোনিসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। প্রশাসন আটটি আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তুত রেখেছে।

চট্টগ্রাম পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত জানান, রোববার রাত থেকেই মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারী পরিবারগুলোর কাছে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে, চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত পাহাড়ধসে হতাহতের খবর না মিললেও প্রবল বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় চট্টগ্রামেও উদ্বেগ বেড়েছে।

এসি/আপ্র/০৭/০৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

সার না পেয়ে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা নিলেন ক্ষৃব্ধ কৃষকেরা
২৩ আগস্ট ২০২৬

সার না পেয়ে ডিলারের গুদাম ভেঙে ১৯৭ বস্তা নিলেন ক্ষৃব্ধ কৃষকেরা

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বারবার ডিলারের কাছে গিয়েও সার না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ কৃষকেরা একটি গুদা...

ঢাকার রেস্তোরাঁয় গরুর বলে ঘোড়ার মাংস, পাঁচজনের কারাদণ্ড
২৩ আগস্ট ২০২৬

ঢাকার রেস্তোরাঁয় গরুর বলে ঘোড়ার মাংস, পাঁচজনের কারাদণ্ড

সুজাউদ্দৌলা সুজন, জামালপুর: জামালপুর সদর উপজেলায় ১৩টি ঘোড়া জবাই করে প্রায় এক হাজার কেজি মাংস ঢাকার ব...

এক নারীকে নিয়ে দুই ভাইয়ের মারামারি, ভিডিও ভাইরাল
২৩ আগস্ট ২০২৬

এক নারীকে নিয়ে দুই ভাইয়ের মারামারি, ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রকাশ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

চাঁদাবাজদের সঙ্গে পুলিশ জড়িত থাকলেও তালিকা হবে

সারাদেশে চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরির পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদেরও তালিকা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগরসহ দেশের সব মহানগর এলাকায় চিহ্নিত চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাঁদের ধরতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন মন্ত্রীর এই বক্তব্যে চাঁদাবাজিসহ অপরাধ কমবে?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে