সুজাউদ্দৌলা সুজন, জামালপুর: জামালপুর সদর উপজেলায় ১৩টি ঘোড়া জবাই করে প্রায় এক হাজার কেজি মাংস ঢাকার বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ১৮ বস্তা ঘোড়ার মাংসসহ একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দ করা মাংস মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়।
আটক পাঁচজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে ছয় মাস এবং দুজনকে দুই মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমন হোসেন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ড দেন। পরে বিকেল তিনটার দিকে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার শোলাকড়ি গ্রামের মো. হুমায়ুন কবির (৪০), গোপালপুর উপজেলার চরদুবাকান্দি গ্রামের আলফাজ (৪২) ও একই গ্রামের মো. শহিদ (৩৫), জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার জোরব্রিজ এলাকার পিকআপ ভ্যানচালক মো. জুয়েল এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বাটকুল গ্রামের পিকআপ ভ্যানের সহকারী তাসির মিয়া (২৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর সদর উপজেলার তুলসীরচর এলাকায় চক্রটি ১৩টি ঘোড়া কিনে জবাই করে। পরে সেগুলোর মাংস ১৮টি বস্তায় ভরে একটি পিকআপ ভ্যানে তোলা হয়। মাংস নিয়ে পিকআপটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নরুন্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের একটি দল অভিযান চালায়।
অভিযানটি পরিচালিত হয় উপজেলার মিরাপুর এলাকায়। সেখানে পিকআপটির গতিরোধ করে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাংস উদ্ধার করা হয়। পরে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তাগুলোতে গরুর মাংস নয়, ঘোড়ার মাংস রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পিকআপ ভ্যানসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এর আগেও একইভাবে অন্তত চারবার ঘোড়ার মাংস ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেছেন তাঁরা। প্রতি কেজি ঘোড়ার মাংস প্রায় ৪০০ টাকা দরে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার রেস্তোরাঁয় বিক্রি করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, পরে এসব রেস্তোরাঁয় ঘোড়ার মাংস গরুর মাংস হিসেবে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হতো।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভোরে একটি পিকআপ ভ্যানে বিপুল পরিমাণ ঘোড়ার মাংস আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র এভাবে ঘোড়া জবাই করে মাংস ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছে-এমন তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। তাদের গতিবিধির ওপর বেশ কিছুদিন ধরে নজর রাখছিল পুলিশ। একপর্যায়ে বিপুল পরিমাণ মাংস ঢাকার উদ্দেশে নেওয়ার সময় তাদের আটক করা সম্ভব হয়।
নরুন্দি পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাজমুল হক বলেন, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছিল। তাদের ধরতে পুলিশের একটি দল বেশ কিছুদিন ধরে কাজ করছিল। অবশেষে ঘোড়ার মাংসসহ চক্রটির সদস্যদের আটক করা হয়েছে।
পুলিশের উদ্ধার করা মাংস পরে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। এ ঘটনায় আটক পাঁচজনের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘোড়ার মাংস গরুর মাংসের নামে বিক্রির অভিযোগটি শুধু ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণাই নয়, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের বিষয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ঢাকার কোন কোন রেস্তোরাঁয় এসব মাংস সরবরাহ করা হয়েছে এবং আগের চার দফায় কোথায় কোথায় তা বিক্রি করা হয়েছিল, তা তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৩/৮/২০২৬