ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক নারীকে স্ত্রী দাবি করে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রকাশ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ভাঙ্গা থানার সামনে ও থানা চত্বরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে এক নারীকে কেন্দ্র করে দুই ব্যক্তির হাতাহাতি এবং তাঁকে টানাটানির দৃশ্য দেখা যায়।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী কয়েক দিন আগে তাঁর স্বামীর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যান। পরে তাঁদের সাভারে অবস্থানের খবর পাওয়া যায়। সেখান থেকে আত্মীয়স্বজন তাঁকে ও ওই যুবককে ভাঙ্গায় নিয়ে আসেন। বিষয়টি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে মীমাংসার জন্য দুই পক্ষের লোকজনকে নিয়ে থানায় আসার পরই দুই ভাইয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুই মিনিট ১১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারীকে ঘিরে দুই ব্যক্তি মারামারি ও হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। আশপাশের লোকজন তাঁদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে কয়েকজন নারী ওই নারীর পোশাক ধরে টানাটানি করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
ভিডিওতে ওই নারীকে প্রথমে তাঁর স্বামী হিসেবে দাবিদার বড় ভাইকে অস্বীকার করতে দেখা যায়। পরে তিনি তাঁকে স্বামী হিসেবে স্বীকার করেন এবং জানান, স্বামীকে ছেড়ে তিনি তাঁর দেবরকে বিয়ে করেছেন।
দুই ভাইয়ের বাড়ি যে ইউনিয়নে, সেই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাকলেস হরকরা জানান, প্রায় দুই বছর আগে ওই নারীর বিয়ে হয়েছিল। পরে তাঁর সঙ্গে দেবরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে পরিবারে মাঝেমধ্যে বিরোধ হতো। গত মঙ্গলবার ওই নারী এক কাপড়ে দেবরের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যান। পরে জানা যায়, তাঁরা সাভারে গিয়েছিলেন।
ওই নারীর বাবার ভাষ্য, বিষয়টির আইনি ও সামাজিকভাবে সমাধানের উদ্দেশ্যে উভয় পক্ষের লোকজনকে নিয়ে তাঁরা থানায় এসেছিলেন। সেখানে দুই পক্ষের আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়।
ওই নারী বলেন, তাঁর প্রথম স্বামী ও পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নির্যাতন করতেন। সে সময় তাঁর দেবর তাঁকে সহযোগিতা করতেন। পরে তিনি স্বামীকে ছেড়ে দেবরকে বিয়ে করেন। এরপর তাঁরা বাড়ি থেকে চলে গিয়ে অন্যত্র সংসার শুরু করেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, এক নারীকে কেন্দ্র করে থানার ফটকের সামনে প্রথমে ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। পরে তাঁরা থানা চত্বরে ঢুকেও বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশ হস্তক্ষেপ করে তাঁদের শান্ত করে থানা থেকে বের করে দেয়।
ওসি জানান, এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁরা বাড়িতে ফিরে গিয়ে নিজেদের মধ্যে বিষয়টির সমাধান করবেন বলে জানিয়েছেন।
সানা/আপ্র/২৩/৮/২০২৬