অনেকেই ‘ইন্টারনেট’ আর ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’কে (ডডড) একই বিষয় ভেবে ভুল করি। সেই ভুল ভাঙানোর জন্যই হয়তো এই দিনটি বিশেষ। আসলে দিবসটি ‘বিশ্ব ইন্টারনেট দিবস’ নয়, বরং ‘ইন্টারনট (ওহঃবৎহধঁঃ) দিবস’। ২৩ আগস্ট দিনটি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েবের দুনিয়ায় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার পাওয়ার দিন- যার পোশাকি নাম ‘ইন্টারনট দিবস’।
১৯৯১ সালের ঠিক এই দিনে ব্রিটিশ কম্পিউটার বিজ্ঞানী টিম বার্নার্স-লি তার উদ্ভাবিত ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব সর্বসাধারণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করে দেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব প্রবেশ করে তথ্য আদান-প্রদানের এক নতুন যুগে- যার ৩৫ বছর পূর্ণ হলো।
ইন্টারনেট বনাম ওয়েব: ইন্টারনেট এবং ওয়েব এক জিনিস নয়। ইন্টারনেট হলো বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য কম্পিউটারের একটি বিশাল ফিজিক্যাল নেটওয়ার্ক বা অবকাঠামো। অন্যদিকে, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব হলো সেই নেটওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি তথ্যভাণ্ডার, যেখানে ওয়েবসাইট ও ওয়েবপেজগুলো হাইপারলিংকের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। সহজ কথায়, ইন্টারনেট যদি হয় রাস্তা, তবে ওয়েব হলো সেই রাস্তার পাশে গড়ে ওঠা অজস্র দোকানপাট ও ভবন।
উল্লেখ্য, প্রকৃত ‘ইন্টারনেট দিবস’ পালিত হয় ২৯ অক্টোবর- যেদিন ১৯৬৯ সালে আরপানেটের (অজচঅঘঊঞ) মাধ্যমে প্রথম ইলেকট্রনিক মেসেজ পাঠানো হয়েছিল।
‘ইন্টারনট’ কারা; গবেষকদের মতে, ‘ইন্টারনেট’ (ওহঃবৎহবঃ) এবং ‘অ্যাস্ট্রোনট’ (অংঃৎড়হধঁঃ) বা মহাকাশচারী- এই দুটি শব্দের সংমিশ্রণে তৈরি হয়েছে ‘ইন্টারনট’ (ওহঃবৎহধঁঃ) শব্দটি। মহাকাশচারীরা যেমন অসীম শূন্যতায় ভেসে নতুন পৃথিবী আবিষ্কার করেন, তেমনি সাইবার স্পেসে ঘুরে বেড়ানো এবং ওয়েবের জাদুকরী দুনিয়ায় বিচরণকারী মানুষদের বলা হয় ইন্টারনট। ২৩ আগস্ট দিনটি মূলত এই ইন্টারনটদের জন্যই উৎসর্গীকৃত।
যেভাবে শুরু ওয়েবের যাত্রা: আধুনিক জীবন আজ যে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে বন্দী, তার সূচনা হয়েছিল নীরবেই। ১৯৮৯ সালের ১২ মার্চ ইউরোপীয় পারমাণবিক গবেষণা সংস্থায় (ঈঊজঘ বা সার্ন) কর্মরত অবস্থায় টিম বার্নার্স-লি প্রথম এই ওয়েবের প্রস্তাব দেন। তার তৈরি প্রথম ওয়েব ব্রাউজারের নামও ছিল ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব’। ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট তিনি ওয়েবের প্রকল্পটি বিশ্বের সামনে আনলেও ২৩ আগস্ট থেকে নতুন ব্যবহারকারীরা এতে যুক্ত হতে শুরু করেন। প্রথম ওয়েবসাইটের লিংকটি আজও সচল আছে (যঃঃঢ়://রহভড়.পবৎহ.পয/)। এরপর ১৯৯৩ সালের এপ্রিলে সার্ন ওয়েব প্রযুক্তিকে সবার জন্য সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে উন্মুক্ত করে দেয়, যা ডিজিটাল বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করে।
সার্চ ইঞ্জিন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: ওয়েব ব্রাউজার আর সার্চ ইঞ্জিন ছাড়া বর্তমান ইন্টারনেট কল্পনা করা কঠিন। গুগলের বহু আগে ১৯৯০ সালে প্রথম সার্চ ইঞ্জিন ‘আর্চি’ (অৎপযরব) চালু করেন অ্যালান এমটেজ। এটি তিনি মন্ট্রিলের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য তৈরি করেছিলেন। অন্যদিকে ব্রাউজারের ইতিহাসে প্রথম দিকে মোজাইক বা নেটস্কেপ নেভিগেটর জনপ্রিয় ছিল। বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য (প্রায় ৯৫ শতাংশ শেয়ার) বিস্তার করলেও বর্তমানে গুগলের ক্রোম ব্রাউজার বাজার দখল করে শীর্ষে রয়েছে (প্রায় ৬৪.৭ শতাংশ)।
যোগাযোগের ইতিহাসেও ওয়েব এনেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। ১৯৯৭ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে চলা সিক্সডিগ্রিস ডটকমকে (ঝরীউবমৎববং.পড়স) প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ধরা হয়। এটিই পরবর্তীকালে ফ্রেন্ডস্টার, মাইস্পেস ও বর্তমানের ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর রাস্তা খুলে দেয়।
কেএমএএ/আপ্র/২৩.০৮.২০২৬