কারাবন্দি সাংবাদিক দম্পতি শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপাকে পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আদেশ পাওয়ার পর ২১ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁদের নিজেদের, স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়দেনা, আয়ের উৎস ও সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে।
রোববার (২৩ আগস্ট) দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের পরিচালক এস এম এম আখতার হামিদ ভূঁইয়া রোববার পৃথক দুটি আদেশে সই করেন। কমিশনের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-২ শাখা থেকে এ আদেশ জারি করা হয়।
শাকিল আহমেদের কাছে আদেশটি গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে। আর ফারজানা রূপার কাছে আদেশ পাঠানো হবে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপারের মাধ্যমে।
দুদকের কর্মকর্তারা জানান, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে কমিশনের ‘স্থির বিশ্বাস’ হয়েছে যে, শাকিল আহমেদ ও ফারজানা রূপা জ্ঞাত আয়ের বাইরে নিজেদের নামে অথবা বেনামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হয়েছেন।
আদেশ অনুযায়ী, শাকিল আহমেদকে নিজের, স্ত্রী এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়দেনা, আয়ের উৎস ও সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ দিতে হবে। একইভাবে ফারজানা রূপাকে নিজের, স্বামী এবং নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদ ও দায়দেনার হিসাব জমা দিতে হবে।
দুজনকেই দুদকের নির্ধারিত ছকে এসব তথ্য দিতে হবে। প্রয়োজনে নির্ধারিত ফরমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সহায়ক কাগজপত্রও জমা দিতে হবে।
ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া যায়নি: দুদকের অভ্যন্তরীণ নথি অনুযায়ী, প্রথমে তাঁদের দেওয়া ঠিকানায় সম্পদ বিবরণীর আদেশ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ দায়িত্ব দেওয়া হয় দুদকের কনস্টেবল মো. জুয়েলকে। তবে সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় গিয়ে শাকিল ও ফারজানা কাউকেই পাওয়া যায়নি। পরে সম্পদ বিবরণীর মূল ফরমসহ আদেশ দুদকে ফেরত দেন ওই কনস্টেবল।
পরে দুদক জানতে পারে, শাকিল আহমেদ গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং ফারজানা রূপা মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এ কারণে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁদের কাছে আদেশ পৌঁছানোর সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।
কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তাঁরা যেদিন আদেশ গ্রহণ করবেন, সেদিন থেকেই ২১ কার্যদিবসের সময় গণনা করা হবে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট দেশের বাইরে যাওয়ার সময় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফারজানা রূপা ও শাকিল আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। শাকিল আহমেদ তেজগাঁও থানার মামলায় গ্রেফতার হয়ে কাশিমপুর কারাগারে রয়েছেন। ফারজানা রূপা যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় গ্রেফতার হয়ে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে আছেন।
শাকিল আহমেদ একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান এবং ফারজানা রূপা একই প্রতিষ্ঠানের প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২১ আগস্ট বিমানবন্দর থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৩/৮/২০২৬