খাদ্যে ভেজাল, অনিয়ম ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনায় নানা অসংগতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে এক সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২৫টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ৬৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৬ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিক্রি ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সবচেয়ে বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরে। শনিবার সেখানে অভিযান চালিয়ে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে চারটি মামলা করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগরেও সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তিনটি মামলা করা হয়।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাইরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও এলাকায় আরো ১৫টি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পাবনা, বগুড়া, মাদারীপুর, নরসিংদী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, ফরিদপুর, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নীলফামারী, লক্ষ্মীপুর ও মানিকগঞ্জে এসব অভিযান চালানো হয়। সেখানে ১৫টি মামলা করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট ২৪ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এর বাইরে গত ১৭ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিচালিত একটি অভিযানে কোনো প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়নি। তবে অনিয়মের অভিযোগে তিনটি মামলা করা হয়েছে।
অর্থাৎ ১৬ থেকে ২২ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ২৫টি মামলা এবং ৬৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরেই জরিমানার পরিমাণ ৪০ লাখ টাকা, যা মোট জরিমানার অর্ধেকেরও বেশি।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক অভিযানের সাম্প্রতিক চিত্র বলছে, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এর আগের সপ্তাহেও অভিযান চালিয়ে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং সাতটি মামলা করা হয়েছিল। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহের ওই হিসাব দিয়েছিল সরকারি সংস্থাটি।
তবে শুধু জরিমানা ও মামলা করলেই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে না। খাদ্যে অনিয়মের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের সরাসরি সম্পর্ক থাকায় অভিযানের পাশাপাশি নিয়মিত তদারকি, অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ, আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং ভোক্তাদের সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠান বারবার একই ধরনের অনিয়মে জড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কারণ নিরাপদ খাদ্য কোনো বিলাসিতা নয়; এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। বাজারে খাদ্যের নামে অনিরাপদ ও ক্ষতিকর পণ্য যাতে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য অভিযানকে নিয়মিত ও আরো কার্যকর করার পাশাপাশি খাদ্য ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীলতাও নিশ্চিত করতে হবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৩/৮/২০২৬