সন্তানদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই টাকা-পয়সা ব্যবস্থাপনা, সঞ্চয় ও ব্যয়ের সঠিক ধারণা গড়ে তুলতে অভিভাবকদের জন্য নানা কার্যকর কৌশল ও পরামর্শ উঠে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরের সাইবার নিরাপত্তা পেশাদার জেমি কোরাম তার ১০ বছর বয়সী মেয়েকে সুপারমার্কেটে নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে আর্থিক শিক্ষা দিচ্ছেন। প্রথমে দুই মিনিটের টাইমার দিয়ে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করান, পরে ১০ মিনিট সময় দিয়ে বাজেট ও করের হিসাব মাথায় রেখে একটি পণ্য বেছে নেওয়ার সুযোগ দেন। তাঁর লক্ষ্য, শিশু যেন বড় হয়ে টাকা-পয়সা নিয়ে কোনো হীনম্মন্যতায় না ভোগে এবং সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বর্তমানে অনেক অভিভাবক নিজেরা আর্থিক বিষয়ে খুব বেশি আত্মবিশ্বাসী না হলেও সন্তানদের আর্থিকভাবে সচেতন করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন পারিবারিক অর্থ ব্যবস্থাপনা অ্যাপ গ্রিনলাইট-এর শিক্ষা বিষয়ক পরিচালক জেনিফার সিটজ। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য ডেবিট কার্ড, গেমভিত্তিক অ্যাপসহ নানা ডিজিটাল টুলস এখন অর্থ শেখাকে সহজ করেছে।
নার্স থেকে আর্থিক কনটেন্ট নির্মাতা হওয়া নাসিমা ম্যাকএলরয় নিজের ঋণ শোধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে অন্য মায়েদেরও অর্থ ব্যবস্থাপনায় সচেতন করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানদের আর্থিক শিক্ষা দিতে হলে ঘরের বাজেট, কেনাকাটা ও প্রয়োজন-বিলাসিতা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা জরুরি। ওয়ার্কমানি প্রতিষ্ঠাতা ক্যারি জয় গ্রাইমস বলেন, বাস্তব জীবনের সিদ্ধান্তে শিশুদের যুক্ত করা উচিত, যাতে তারা অর্থের মূল্য বুঝতে পারে।
কিডভেস্টরসের প্রধান নির্বাহী কোর্টনি পেটওয়ে মনে করেন, শিশুদের হাতে ছোট পরিমাণ অর্থ দিয়ে নিজের মতো খরচের সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে তারা ধীরে ধীরে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে।
সঞ্চয়ের জন্য ঘরে সঞ্চয়, বিনিয়োগ ও দানের আলাদা পাত্র ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে শিশুরা চোখের সামনে সঞ্চয় বাড়তে দেখে উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে ভুল খরচ করলে অভিভাবকদের অতিরিক্ত রাগ না দেখিয়ে তাদের শেখার সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন কনজিউমার ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ ববি রেবেল। সূত্র: এপি
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৬/৭/২০২৬