প্রাবন্ধিক, গবেষক, সাহিত্য সমালোচক ও সমাজ বিশ্লেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের শেষ বিদায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকে টানা বৃষ্টি চললেও সোমবার (৬ জুলাই) বেলা ১১টার পর থেকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে জড়ো হন।
শ্রদ্ধা নিবেদন পর্বে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, প্রগতি লেখক সংঘ, বাংলাদেশ লেখক শিবির, রাষ্ট্রভাষা বাংলা রক্ষা কমিটি, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন এবং দুর্নীতি বিরোধী জাতীয় সমন্বয় কমিটি অংশ নেয়। পাশাপাশি গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ কপিরাইট অফিস, শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়।
রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় গণফ্রন্ট, জেএসডি, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, বাসদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পার্টি, বাংলাদেশ গরীব মুক্তি আন্দোলনসহ আরো অনেকে অংশ নেয়। এ ছাড়া ভাষাবিদ মনসুর মুসা, সাবেক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ, গবেষক মফিদুল হক, অধ্যাপক সিদ্দিকুর রহমানসহ বিভিন্ন ব্যক্তি শ্রদ্ধা জানান।
শ্রদ্ধা শেষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দীন স্টালিন বলেন, অধ্যাপক ফজলুল হকের মৃত্যু জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের আন্দোলনে বড় ক্ষতি। তিনি বলেন, উগ্রবাদীরা তাঁর সন্তানকে হত্যা করলেও তিনি কখনো দমে যাননি এবং লেখনী ও সম্পাদনার মাধ্যমে অবিচল থেকেছেন।
শারমিন এস মুরশিদ বলেন, এমন জ্ঞানী মানুষের প্রস্থান সমাজে বড় শূন্যতা তৈরি করছে এবং তাঁদের আদর্শ ধরে রাখাই এখন সময়ের দাবি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা বলেন, ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন মুহূর্তেও তাঁর প্রতিবাদী অবস্থান ও শিক্ষার্থীবান্ধব ভূমিকা অনুকরণীয়।
শহীদ মিনারে বাবার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে অধ্যাপক ফজলুল হকের মেয়ে শুচিতা শারমিন বলেন, তাঁর বাবা সবসময় সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের উন্নয়নের কথা ভাবতেন এবং সেই আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান। পরে মরদেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে নেওয়া হয়। বৃষ্টির কারণে শুরুতে শ্রদ্ধা নিবেদন ব্যাহত হলেও পরে বিভিন্ন অনুষদ, প্রশাসন ও শিক্ষক সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, তিনি রাষ্ট্র ও সমাজ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করতেন এবং তাঁর কাজের মাধ্যমে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাঁর মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদের অবসান।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরদেহ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের জন্য নেওয়া হবে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৬/৭/২০২৬