সাতক্ষীরার ভোমরা, তলুইগাছা ও কুশখালী সীমান্ত এলাকায় মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের তৎপরতা আবারো বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব চক্র সীমান্তকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, মানবপাচার ও মাদকসহ বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তাদের কথামতো না চললে বিজিবির হাতে ধরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনেক সময় নিরীহ মানুষকেও বিজিবির মাধ্যমে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়। দালালদের সঙ্গে কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশ রয়েছে বলেও স্থানীয়দের একাংশের দাবি।
গত ২৫ জুন গভীর রাতে কুশখালী সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের পুশব্যাকে ১০ জন বাংলাদেশি নারী-পুরুষ দেশে ফেরেন বলে জানা যায়। তারা যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। দেশে ফেরার পরপরই সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় দালাল চক্রের কবলে পড়েন তারা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দেশে প্রবেশের পরই দালালরা তাদের আটকে রেখে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে। দ্রুত বাড়ি ফেরার তাগিদে অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দেন। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় মাথাপিছু তিন হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্র বিভিন্ন ঘাট নিয়ন্ত্রণ করে এসব অপকর্ম চালাচ্ছে। ঘাটগুলোর সঙ্গে যুক্ত লোকজন ভারত–বাংলাদেশ যাতায়াত, চোরাচালানসহ নানা অবৈধ কাজে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চক্রের সদস্য হিসেবে স্থানীয় কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে, যাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, দেশে ফিরে পরিবারের কাছে যাওয়ার পথে দালালরা তাদের পথরোধ করে টাকা দাবি ও হয়রানি করে। পরে প্রাণের ভয়ে তারা টাকা দিতে বাধ্য হন।
স্থানীয়রা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য দিন দিন বাড়ছে। তারা দ্রুত এ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বিজিবির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ককে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা সীমান্তে মানবপাচার, চাঁদাবাজি ও দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সানা/আপ্র/৬/৭/২০২৬