রাজধানীতে ঋণগ্রহীতার পরিচয়ে ফাঁদে ফেলে ভুক্তভোগীদের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে মারধর, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. আনোয়ার হোসেন (৪৫), বদিউজ্জামান শাহীন (৪৫), মরিয়ম (৪৯), শাহাদাত হোসেন (৫৮) ও উর্মী বেগম (৩৯)।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপকমিশনার মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি ঋণগ্রহীতা পরিচয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। পরবর্তীতে কৌশলে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করে নির্ধারিত স্থানে ডেকে নিয়ে রিকশায় করে খিলগাঁওয়ের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করা কয়েকজন ব্যক্তি ভুক্তভোগীকে মারধর করে এবং এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ব্যাংক কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে এক লাখ দশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গত ২২ জুন খিলগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তৎপরতায় রাজধানীর সবুজবাগ, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।
ডিবি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে একই কৌশলে আরো একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়ের তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্তে এবং ভুক্তভোগীদের বিষয়ে আরো তথ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।
গ্রেফতারদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
সানা/আপ্র/৬/৭/২০২৬