বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি নেতৃত্ব দখলের প্রতিযোগিতায় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানির প্রধানদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলে বড় আকারের বিনিয়োগ ও এআই অবকাঠামো নিশ্চিত করাই এখন দুই নেতার অন্যতম অগ্রাধিকার।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ডেটা সেন্টার ও শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগিতায় রয়েছে বিভিন্ন দেশ। তবে মাক্রোঁ ও মোদী ব্যক্তিগত কূটনৈতিক সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এই দৌড়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছেন।
জুনে অনুষ্ঠিত জি–সেভেন সম্মেলনে মাক্রোঁ সফটব্যাংকের প্রধান মাসায়োশি সনসহ শীর্ষ প্রযুক্তি নেতাদের আমন্ত্রণ জানান এবং ফ্রান্সে বড় ধরনের এআই ডেটা সেন্টার বিনিয়োগে রাজি করাতে সক্ষম হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহীসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে ভারতে শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছেন।
বিশেষ করে অ্যামাজনের ঘোষিত বড় অঙ্কের বিনিয়োগের একটি অংশ এআই ও ক্লাউড অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে বলে জানা গেছে। এর আগে মাইক্রোসফট, গুগল ও ইনটেলের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গেও মোদীর বৈঠক হয়, যার মাধ্যমে ভারতের এআই পরিবেশে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি এসেছে।
মাক্রোঁর ক্ষেত্রে সফটব্যাংকের ২০৩১ সালের মধ্যে ফ্রান্সে বৃহৎ এআই ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও কূটনৈতিক আলোচনার ফল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোচনার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহসহ অবকাঠামোগত প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
ভারতের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, দেশটি এখনো নিজস্ব উন্নত চিপ বা শীর্ষস্থানীয় এআই মডেল তৈরিতে পিছিয়ে রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অবস্থান শক্ত করতে বিদেশি বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
তবে মোদী সরকার দেশটিকে এআই হাব হিসেবে গড়ে তুলতে কর ছাড়, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন উৎসাহ এবং বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগে নানা সুবিধা দিচ্ছে। মাইক্রোসফট ও গুগলের বড় বিনিয়োগের ঘোষণাও সেই উদ্যোগের অংশ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক এআই অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও ভারত এখনো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে মোদীর নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বিনিয়োগ টানার প্রচেষ্টা আরো জোরদার হয়েছে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৬/৭/২০২৬