নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব অপারেশনাল সাপোর্টের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আরো সম্প্রসারণে জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ও পুলিশ সদস্যদের অধিকতর মোতায়েন, নেতৃত্বস্থানীয় পদে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের নিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনে জাতিসংঘের সক্রিয় সমর্থন কামনা করেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ কন্টিনজেন্টের পরিচালনাগত সহযোগিতা, আর্থিক প্রতিপূরণ দ্রুত নিষ্পত্তি, পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং হাইতিতে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সামরিক ও পুলিশ সদস্যদের প্রতিপূরণ সংক্রান্ত কার্যক্রম সহজতর করতে জাতিসংঘের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য অতুল খারেকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় অবদানের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকেও কৃতজ্ঞতা জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা অন্যতম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনের পরিবেশগত প্রভাব কমাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সৌর প্যানেল স্থাপন করেছে। এ ক্ষেত্রে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে জাতিসংঘের সহযোগিতায় মিশন এলাকায় আরও ব্যাপকভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে বাংলাদেশ আগ্রহী।
তিনি বলেন, নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। নারী শান্তিরক্ষীদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব ও নারী-বান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে প্রতিকূল ও আক্রমণাত্মক পরিস্থিতিতে শান্তিরক্ষীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উন্নত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হাইতির বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ তিনটি আধুনিক ও উচ্চ সক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রচলিত পুলিশ ইউনিটের তুলনায় এসব ইউনিটে বিশেষ অস্ত্র ও কৌশলগত অভিযান, দ্রুত সাড়া প্রদান, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়করণ, ফরেনসিক ও অপরাধস্থল ব্যবস্থাপনা, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সাইবার অপরাধ তদন্ত, নৌ-অভিযান এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে।
হাইতিতে এসব সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহারের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সংক্রান্ত আলোচনায় অংশ নিতে আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুলাই জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ পুলিশের তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল যাবে। প্রস্তাবিত সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্তিসহ আলোচনার সফল বাস্তবায়নে জাতিসংঘের পূর্ণ সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের পাশাপাশি অন্যান্য পুলিশ অবদানকারী দেশের স্বনির্ভর ইউনিটের সঙ্গে যৌথভাবেও বাংলাদেশের বিশেষায়িত পুলিশ দল বা প্লাটুন মোতায়েনে বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।
বৈঠকে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের নীল পতাকার অধীনে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের পেশাদারিত্ব এবং জাতিসংঘের লজিস্টিক সহায়তার সমন্বয়ে বৈশ্বিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হবে।
জবাবে অতুল খারে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও শৃঙ্খলার উচ্চ প্রশংসা করেন। পরিবেশ সুরক্ষায় বাংলাদেশের অগ্রণী ভূমিকারও প্রশংসা করে তিনি হাইতিতে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট মোতায়েনসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে জাতিসংঘের অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এসি/আপ্র/০৭/০৭/২০২৬