বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার দৈবঞ্জহাটি ইউনিয়নের বলইবুনিয়া গ্রামে স্থানীয় সালিশ ও গ্রাম্য আদালতের রায় অমান্য করে বিরোধপূর্ণ জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।
অভিযোগকারী আব্দুল হাকিম মোল্লা জানান, বলইবুনিয়া মৌজার ৪৭০ নম্বর খতিয়ানের ৫৩৬ নম্বর দাগে ১২ শতক জমি তাদের বৈধ রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তি। কয়েক বছর আগে একই গ্রামের মৃত সোবহান মোল্লার ছেলে কুদ্দুস মোল্লা, কাউসার মোল্লা, সোহাগ মোল্লা ও হান্নান মোল্লা জোরপূর্বক জমিটি দখলে নেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, পরে স্থানীয় সালিশ এবং গ্রাম্য আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য উত্থাপন করা হলে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে অভিযুক্তদের জমির দখল ছেড়ে দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ওই সিদ্ধান্ত অমান্য করে তারা আবারও জমি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সরেজমিনে গিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে দেখা যায় অভিযুক্ত সোহাগ মোল্লাকে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তরা দাবি করেন, বিরোধপূর্ণ জমিটি তাদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ। তাদের ভাষ্য, আব্দুল গফুর মোল্লা তাদের অংশের জমি নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন। এ নিয়ে আদালতে বাটোয়ারা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তারা নিজেদের দাবি থেকে সরে আসবেন না বলেও জানান। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, বর্তমানে সেখানে কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে না।
অন্যদিকে আব্দুল হাকিম মোল্লার অভিযোগ, স্থানীয় সালিশ ও গ্রাম্য আদালতের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অভিযুক্তরা রাতের আঁধারে নির্মাণসামগ্রী এনে জোরপূর্বক বসতবাড়ি নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এতে বাধা দিলে তার ও পরিবারের সদস্যদের ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সার্ভেয়ার দিয়ে জমি পরিমাপ করে শরিকদের অংশ বুঝিয়ে দেওয়ার পরও অভিযুক্তরা বিভিন্ন শরিকের জমি দখলের চেষ্টা করছেন। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা জমির দখল ও ভোগদখল করতে পারছেন না।
সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিরোধপূর্ণ জমিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি, প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।
উল্লেখ্য, জমিটির মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষই নিজ নিজ দাবির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে অভিযুক্তদের দাবি।
সানা/আপ্র/৮/৭/২০২৬