দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ছাড়িয়েছে। চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন আদালতে মোট ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬টি মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১৮ লাখ ১৩ হাজার ২৬৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ২৮ লাখ ২৬ হাজার ২১৩টি।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জাতীয় সংসদে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রছুলের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
আইন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে অধস্তন আদালত-সব পর্যায়েই বড় ধরনের মামলার জট রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে ৩৮ হাজার ৭১৩টি মামলা। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ২১ হাজার ৬৫২টি এবং ফৌজদারি মামলা ১৭ হাজার ৬১টি।
হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৫ লাখ ২২ হাজার ৩৩১টি। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১ লাখ ১ হাজার ১৬৮টি এবং ফৌজদারি মামলা ৪ লাখ ২১ হাজার ১৬৩টি।
অন্যদিকে দেশের অধস্তন আদালতগুলোতেই সবচেয়ে বেশি মামলার চাপ রয়েছে। এসব আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৪৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৯৮৯টি।
আইনমন্ত্রী জানান, গত এক বছরে আপিল বিভাগে ৭ হাজার ৫৫৩টি এবং হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫ হাজার ৭৫৬টি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে অধস্তন আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৮৪টি মামলা। এর মধ্যে দেওয়ানি মামলা ৪৯ হাজার ৭৩টি এবং ফৌজদারি মামলা ২ লাখ ২৬ হাজার ১১টি।
মামলাজট কমাতে সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে ২০টি জেলায়। সেখানে আদালতে নিয়মিত মামলা দায়েরের হার ৬২ দশমিক ০৮৩ শতাংশ কমেছে। এ উদ্যোগ সফল হওয়ায় পর্যায়ক্রমে ঢাকাসহ দেশের সব জেলায় বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতার আইনি বাধ্যবাধকতা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আদালতের ওপর চাপ কমানো এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা আরো সম্প্রসারণ করা হবে।
সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, অধস্তন আদালতে বিচারাধীন দেওয়ানি মামলার মধ্যে ৫ বছরের বেশি পুরোনো মামলার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৪টি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা বিচার বিভাগের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে অর্থ ঋণ আদালতেও মামলা রয়েছে। আইনমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের আদালতগুলোতে ৩ হাজার ৬২৫টি অর্থ ঋণ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
বিচারক সংকটের তথ্যও তুলে ধরে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচজন এবং হাইকোর্ট বিভাগে ১০১ জন বিচারপতি কর্মরত রয়েছেন। অধস্তন আদালতে বিচারকের ২ হাজার ৬২০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৯৬৪ জন।
সানা/আপ্র/৭/৭/২০২৬