গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় এক মাসের ব্যবধানে আবারও গণ-অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার টেপিরবাড়ি এলাকার ‘কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড’ কারখানায় অর্ধশতাধিক নারী শ্রমিক হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে অনেককে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে গত জুন মাসে একই কারখানায় লিজা আক্তার নামে এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে বহু শ্রমিক অসুস্থ হওয়ায় কারখানার কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শ্রমিকরা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে কারখানার পঞ্চম তলার সুইং (সেলাই) বিভাগে কাজ করার সময় কয়েকজন শ্রমিক হঠাৎ মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও দুর্বলতা অনুভব করেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে একে একে আরও শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে কারখানার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ অসুস্থ শ্রমিকদের উদ্ধার করে মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালসহ আশপাশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠায়। অল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হয় কর্তৃপক্ষকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীদের দায়িত্বে রাখা হয়।
অসুস্থ শ্রমিক শাহিনুর বলেন, “কাজ করার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরতে শুরু করে। এরপর পেটে প্রচণ্ড ব্যথা ও বমি বমি ভাব হয়। কেন এমন হলো, তা বুঝতে পারছি না।”
আল-হেরা হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, কতজন শ্রমিক ভর্তি হয়েছেন এবং তাদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী জানান, ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি এক সংবাদকর্মীর মোবাইল ফোন জোর করে নিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
শ্রমিকদের হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি কারখানা কর্তৃপক্ষ। বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে একই কারখানার শ্রমিক লিজা আক্তারের মৃত্যুর পর কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সহকর্মীদের অভিযোগ ছিল, গুরুতর অসুস্থ হওয়ার পরও ছুটি না পাওয়ায় লিজার অবস্থার অবনতি হয়। পরে শ্রমিকদের আন্দোলনের মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষ দুই দিনের ছুটি ঘোষণা করে।
একই প্রতিষ্ঠানে এক মাসের ব্যবধানে দুই দফা এমন ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে দ্রুত তদন্ত এবং কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সানা/আপ্র/৭/৭/২০২৬