চট্টগ্রামে টানা অতি ভারি বর্ষণের কারণে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে পারেনি দেশি-বিদেশি তিনটি ফ্লাইট। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দুটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে এবং একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চট্টগ্রামে নামতে না পেরে ঢাকায় ফিরে যায়।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইব্রাহীম খলিল এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আবুধাবি থেকে চট্টগ্রামগামী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট এবং শারজাহ থেকে চট্টগ্রামগামী এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইট বৈরী আবহাওয়ার কারণে শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে ঢাকায় অবতরণ করে।
এ ছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী বাংলাদেশ বিমানের একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও চট্টগ্রামে নামতে না পেরে পুনরায় ঢাকায় ফিরে যায়।
তবে প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রাম থেকে নির্ধারিত সব ফ্লাইট যথাসময়ে গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সোমবার অতি ভারি বর্ষণে রূপ নেয়। এরপর সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত মুষলধারে বৃষ্টি অব্যাহত থাকে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৮৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এই বৃষ্টিতে নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, হালিশহর, রামপুর, তিন পোলের মাথা ও বাটালি রোডসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সকাল থেকেই নগরবাসীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সড়কে রিকশা ছাড়া অন্য যানবাহনের চলাচল ছিল তুলনামূলক কম। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নগরীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতকে ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতকে অতি ভারি বর্ষণ হিসেবে ধরা হয়। সে হিসাবে, চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত অতি ভারি বর্ষণের পর্যায়ে পড়েছে।
এসি/আপ্র/০৭/০৭/২০২৬