প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটক ভিসা পুনরায় চালু হওয়ায় আবেদনকারীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে। চিকিৎসা ভিসার ক্ষেত্রেও শিথিল করা হয়েছে বিধিনিষেধ। গত ২৯ জুন থেকে ঢাকাসহ দেশের পাঁচটি কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গভাবে আবেদন গ্রহণ শুরু হলেও নতুন টাইম-স্লট পদ্ধতি নিয়ে আবেদনকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কসংলগ্ন ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, আবেদন গ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই শত শত মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। সকাল থেকে দফায় দফায় বৃষ্টিতে ভিজে এবং রোদের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে অনেককে। অসুস্থ রোগী নিয়ে আসা আবেদনকারীদের দুর্ভোগ ছিল আরো বেশি।
মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা আশরাফুল ইসলাম জানান, তার ৩০ বছর বয়সী ছেলে ফুসফুসের জটিল রোগে আক্রান্ত। দেশে অস্ত্রোপচার করেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। চিকিৎসার জন্য ভারতে নেওয়ার উদ্দেশ্যে আগেও দুবার মেডিকেল ভিসার আবেদন করেছিলেন, কিন্তু অনুমোদন পাননি। এবার আবার আবেদন জমা দিতে এসেছেন।
অন্যদিকে, মদন মিত্র নামে এক বৃদ্ধ বলেন, পর্যটক ভিসা বন্ধ থাকায় দীর্ঘদিন কলকাতায় আত্মীয়দের কাছে যেতে পারেননি। প্রায় আড়াই বছর পর আবার সেখানে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
টাইম-স্লট নিয়ে ক্ষোভ
গত ১ জুলাই থেকে ভারতীয় ভিসা আবেদন জমায় নতুন টাইম-স্লট পদ্ধতি চালু করেছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার। এই ব্যবস্থায় আবেদনকারীকে প্রথমে অনলাইনে প্রাথমিক নিবন্ধন করে নির্ধারিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। পরে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ফি জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ভিসা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হয়।
তবে আবেদনকারীদের অভিযোগ, সাধারণভাবে এই স্লট পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। অনেকের দাবি, বিভিন্ন এজেন্সি ও দালালচক্র কৌশলে অধিকাংশ স্লট দখল করে নিচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে তাদের মাধ্যমে আবেদন করতে হচ্ছে।
আকলিমা খাতুন বলেন, সরকারি ভিসা ফি ১ হাজার ৫০০ টাকা হলেও স্লট না পাওয়ায় একটি এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে গিয়ে তাকে ৮ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর্মী শৈশব সরকার। তিনি জানান, চার দিন চেষ্টা করেও নিজে স্লট পাননি। শেষ পর্যন্ত চারটি ভিসার আবেদনের জন্য একটি এজেন্সিকে ৪০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে, যেখানে সরকারি ফি ছিল মাত্র ৬ হাজার টাকা।
সক্রিয় দালালচক্রের অভিযোগ
দীর্ঘদিন পর ভিসা আবেদন শুরু হওয়ায় কেন্দ্র ঘিরে দালালচক্রও সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন আবেদনকারীরা। তাদের দাবি, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়ে আগে আবেদন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে।
ঝালকাঠির নিশিত কুমার দাস জানান, নির্ধারিত সময়ে আবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ লাইন দেখে তিনি একটি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে তিনটি আবেদনের জন্য অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা দেন। এরপর নির্ধারিত সময়েই তিনি আবেদন জমা দিতে সক্ষম হন।
অভিযোগ অস্বীকার আইভ্যাকের
এসব অভিযোগের বিষয়ে ভিসা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে প্রবেশপথে দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপক পরিচয়দানকারী সুশান্ত সাহা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দালালের মাধ্যমে কাউকে আগে প্রবেশ করানোর সুযোগ নেই। কেউ এ ধরনের প্রতিশ্রুতিতে অর্থ দিলে প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
টাইম-স্লট পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আবেদনকারীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে যে কেউ নিজেই আবেদন করতে পারবেন, কোনো এজেন্সির সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এসি/আপ্র/০৭/০৭/২০২৬