গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

সাহস জোগানোসহ নিঃস্বার্থভাবে সম্পর্ক রাখে প্রিয় বন্ধু

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৪৫ পিএম, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২১:২১ এএম ২০২৬
সাহস জোগানোসহ নিঃস্বার্থভাবে সম্পর্ক রাখে প্রিয় বন্ধু
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বন্ধুত্ব জীবনের অন্যতম সুন্দর সম্পর্ক। আনন্দের সময় যেমন একজন ভালো বন্ধু পাশে থাকেন, তেমনি কঠিন সময়েও সাহস জোগান। সেই প্রিয় বন্ধুত্বকে উদযাপন এবং পুরোনো দিনের স্মৃতিকে নতুন করে মনে করার একটি বিশেষ উপলক্ষ হলো প্রিয় বন্ধুর দিবস।

যারা কখনও নাগরিক ব্যান্ডের বেতারযন্ত্রে কথোপকথন শুনেছেন কিংবা ১৯৭০-এর দশকের এমন কোনও অনুষ্ঠান দেখেছেন- যেখানে আমেরিকার মহাসড়কে চলাচলকারী ট্রাকচালকদের জীবন তুলে ধরা হতো, তারা সম্ভবত ‘দশ-চার, ভালো বন্ধু’ কথাটির সঙ্গে পরিচিত। মজার হলেও এ কথাটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে যোগাযোগ ও বন্ধুত্বের পুরোনো দিনের এক বিশেষ স্মৃতি।

প্রিয় বন্ধুর দিবসের ইতিহাস: প্রিয় বন্ধুর দিবসের পেছনের ইতিহাস শুনলে অনেকেরই অবাক লাগতে পারে। এই দিবসের ধারণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে নাগরিক ব্যান্ডের বেতারযন্ত্র এবং এক সময়ের জনপ্রিয় যোগাযোগব্যবস্থা। ধারণা করা হয়, দিনটির প্রাথমিক ভাবনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। নাগরিক ব্যান্ডের বেতারযন্ত্রের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ‘দশ-চার, ভালো বন্ধু’ কথাটিও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। সে সময় ট্রাকচালকসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা নিজেদের গাড়িতে এই বেতারযন্ত্র ব্যবহার করতেন। মুঠোফোন কিংবা গাড়িতে ব্যবহারের উপযোগী ফোনের প্রচলনের আগের সময়ে দূরপথে চলার সময় একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এটি ছিল বেশ কার্যকর একটি মাধ্যম। এই বেতারযন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত ও সংক্ষিপ্তভাবে বার্তা আদান-প্রদানের জন্য বিভিন্ন সংখ্যাভিত্তিক সংকেত ব্যবহার করা হতো। যেমন- ‘১০-৯’ বলা হলে শেষ কথাটি আবার বলতে বলা হতো। ‘১০-১০’ দিয়ে বোঝানো হতো বার্তা দেওয়া শেষ, এখন পরবর্তী বার্তার অপেক্ষায় থাকা। ‘১০-২০’ ব্যবহার করে কারও অবস্থান জানতে চাওয়া হতো। আর ‘১০-২০০’ বলা হলে বোঝানো হতো পুলিশের প্রয়োজন রয়েছে। তবে এসব সংকেতের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হয়ে ওঠে ‘১০-৪’। এর অর্থ ছিল বার্তা পাওয়া গেছে বা কথা বুঝতে পেরেছি। এর সঙ্গে ‘ভালো বন্ধু’ ধরনের স্নেহপূর্ণ সম্বোধন যোগ হওয়ায় ‘১০-৪, ভালো বন্ধু’ কথাটি ধীরে ধীরে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগের একটি পরিচিত অভিব্যক্তিতে পরিণত হয়।

১৯৭৮ সালে আমেরিকার মহাসড়কে চলাচলকারী ট্রাকচালকরা যখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছিলেন, তখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার তাদের সম্মান জানাতে ৪ অক্টোবরকে ‘১০-৪ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দিনটি বিভিন্নভাবে পালিত হয়ে আসছে। তবে বর্তমানে এর আনুষ্ঠানিকতা আগের মতো নেই এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকেও দিনটির আর কোনও সরকারি স্বীকৃতি নেই। সময়ের সঙ্গে যোগাযোগপ্রযুক্তির ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে। মুঠোফোনের মতো সহজ ও দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা জনপ্রিয় হওয়ায় নাগরিক ব্যান্ডের বেতারযন্ত্রের ব্যবহারও অনেকটাই কমে যায়। তবে ২০০৪ সালে অপ্রত্যাশিতভাবে ‘১০-৪’ কথাটি আবার নতুন করে আলোচনায় আসে।

মৌসুমের শুরুটা একটু ভিন্নভাবে উদযাপন করার একটি মজার উপায় খুঁজছিলেন এক স্নোবোর্ডার। তিনি ‘১০-৪’ কথাটিকে নতুনভাবে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেন এবং দিনটির নাম দেন ‘জাতীয় ভালো বন্ধুর দিবস’। এবার অবশ্য এর সঙ্গে মহাসড়কের ট্রাকচালকদের সম্পর্কের চেয়ে বন্ধুত্ব উদযাপনের বিষয়টিই বেশি গুরুত্ব পায়। নাম থেকেই বোঝা যায়, নতুনভাবে দিনটির মূল উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে সত্যিকারের ভালো বন্ধুদের উদযাপন করা। যারা জীবনের আনন্দ-বেদনা ভাগ করে নেন, বিপদের সময় পাশে দাঁড়ান, প্রয়োজনে সাহস জোগান এবং নিঃস্বার্থভাবে বন্ধুত্বের সম্পর্ককে আগলে রাখেন এই দিনটি মূলত তাদের জন্যই।

কেএমএএ/আপ্র/০৪.১০.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

মানুষের বিবেকহীন স্বার্থ, অসচেতনতা ও নিষ্ঠুরতায় বিপন্ন হচ্ছে প্রাণিকুল
০৫ অক্টোবর ২০২৬

মানুষের বিবেকহীন স্বার্থ, অসচেতনতা ও নিষ্ঠুরতায় বিপন্ন হচ্ছে প্রাণিকুল

পৃথিবী শুধু মানুষের বসবাসের জায়গা নয়। এই পৃথিবীতে মানুষের পাশাপাশি রয়েছে অসংখ্য প্রাণী- যাদের প্রত্য...

অনামিকায় আংটি পরার রীতিতে লুকানো সাংস্কৃতিক বিবর্তন
০৫ অক্টোবর ২০২৬

অনামিকায় আংটি পরার রীতিতে লুকানো সাংস্কৃতিক বিবর্তন

আজকাল ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের ফিড স্ক্রল করলেই ভেসে ওঠে আবেগঘন ভালোবাসার মুহূর্ত। কোনোটিতে দেখা যায়,...

মা-বাবার প্রয়োজন সন্তানের সঙ্গ, ভালোবাসা ও নিরাপত্তা
০৫ অক্টোবর ২০২৬

মা-বাবার প্রয়োজন সন্তানের সঙ্গ, ভালোবাসা ও নিরাপত্তা

কোনো কাজে কিংবা একটু আড়াল হলেই মা-বাবা সন্তানদের নিয়ে ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। বৃদ্ধ মা হয়তো দরজার দিকে তাক...

ঠোঙা-কাগজে রাস্তার খাবারে অজান্তেই থাকে মারাত্মক বিপদ
০৫ অক্টোবর ২০২৬

ঠোঙা-কাগজে রাস্তার খাবারে অজান্তেই থাকে মারাত্মক বিপদ

বাসে বসে জানালা দিয়ে কেনা আমড়া, শসা কিংবা পেয়ারা মাখা; বিকেলে পথের ধারের ঝালমুড়ি, ছোলা বা ভাজাপোড়া ক...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

আদালতে হেলমেট ছুড়ে আখতারুজ্জামান বললেন, কেন পরব

রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে নেওয়ার সময় মাথা থেকে হেলমেট খুলে ছুড়ে ফেলেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জন। শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান থেকে নামানোর সময় এ ঘটনা ঘটে। প্রিয় পাঠক আপনি কি মনে করেন তিনি সঠিক প্রশ্ন করেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে