চীনের সরবরাহব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ইউরোপের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পাশাপাশি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুং।
তার মতে, চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা ও কৌশলগত স্বাধীনতা রক্ষা করা জরুরি। মঙ্গলবার পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশে নিরাপত্তা ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ সতর্কবার্তা দেন। বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে শুরু হতে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) শীর্ষ সম্মেলনে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।
বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে চীনের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করাও ইইউর নেতাদের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে। লিন চিয়া-লুং বলেন, চীনের কর্তৃত্ববাদী আদর্শ ইউরোপের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে মৌলিকভাবে সাংঘর্ষিক।
তাই চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কেবল অর্থনৈতিক ঝুঁকি নয়, এটি ইউরোপের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকি। তিনি আরও বলেন, সরবরাহব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ইউরোপ হবে এমন এক ইউরোপ, যে নিজের স্বাধীনতার একটি অংশ অন্যের হাতে তুলে দিয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ইমেইলে যোগাযোগ করা হলেও ওয়ারশে অবস্থিত চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব দেয়নি।
চীনের আপত্তি সত্ত্বেও ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্য ও সম্পর্ক জোরদার করতে চায় তাইওয়ান। লিন চিয়া-লুংয়ের মতে, তাইওয়ানের সঙ্গে বাণিজ্য ইউরোপের জন্য লাভজনক হতে পারে।
তিনি বলেন, তাইওয়ান ও ইউরোপ গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধে বিশ্বাস করে। তাইওয়ানের প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনভিত্তিক উন্নয়ন মডেল ইউরোপের সমৃদ্ধি বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে। লিনের ভাষ্য, তাইওয়ানের মডেল সিলিকন ভ্যালিতে উদ্ভাবন ও সমৃদ্ধির বিকাশে সহায়তা করেছে। ইউরোপের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুফল পাওয়া সম্ভব।
তাইওয়ানের কর্মকর্তারা বিদেশ সফরে গেলে চীন নিয়মিত প্রতিবাদ জানায়। দেশটির প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের সঙ্গেও আলোচনায় বসতে রাজি নয় বেইজিং। চীনের দাবি, লাই একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী। তবে তাইওয়ানের সরকার এ ধরনের অবস্থানের বিরোধিতা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সম্পর্ক সম্প্রসারণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই বছরের বেশি সময় আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর লিন কয়েকবার ইউরোপ সফর করেছেন। এসব সফরের মধ্যে পোল্যান্ড সফরও রয়েছে। অতীতে চীনের আপত্তির কারণে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ইউরোপ সফর ছিল বিরল।
ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার তাইওয়ানের উদ্যোগ ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর আরও জোরালো হয়েছে। একই সময়ে চীনের সঙ্গে ইউরোপের বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য ঘাটতি এবং রাশিয়াকে চীনের সহায়তা নিয়ে ইউরোপের উদ্বেগ। পোল্যান্ডসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশের সঙ্গে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। তবে তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার বেইজিংয়ের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
তাইওয়ানের বক্তব্য, বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমান মর্যাদায় সম্পর্ক গড়ে তোলার অধিকার তাদের রয়েছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স।
ডিসি/আপ্র/১৫/১০/২০২৬