যুক্তরাষ্ট্র নিজের ইচ্ছাতেই নিঃসঙ্গ শক্তিতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, ওয়াশিংটনের আমূল পুনর্বিন্যাস এবং চীনের উত্থান বিশ্ব রাজনীতির প্রচলিত ভারসাম্যকে নতুন করে রূপ দিচ্ছে।
৬২তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় জয়শঙ্কর বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তীব্র প্রতিযোগিতা, বিকাশমান ও মধ্যম শক্তির দেশগুলোর অধিকতর স্বাবলম্বী হওয়ার প্রবণতা এবং অংশীদারত্বের বৈচিত্র্যায়ন ও ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে।
সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আজকের বিশ্ব পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের একটি আমূল পুনর্বিন্যাসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে-এ বিষয়ে উপস্থিত কেউই দ্বিমত করবেন না। এই পুনর্বিন্যাসকে যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছাকৃত অবস্থান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের ইচ্ছাতেই নিঃসঙ্গ শক্তিতে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার দ্বিতীয় প্রধান বৈশিষ্ট্য হিসেবে চীনের উত্থানকে চিহ্নিত করেন জয়শঙ্কর। চীনের অর্থনৈতিক ক্ষমতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বে উৎপাদন খাতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পরিচালনা করছে দেশটি। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের রাজনৈতিক প্রভাবও বাড়ছে।
বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের তীব্র প্রতিযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এই প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং বিভিন্ন দেশের হাতে থাকা যেকোনো ধরনের প্রভাবকে প্রতিযোগিতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হয়েছে।
বিকাশমান ও মধ্যম শক্তির দেশগুলোর আত্মসচেতনতা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। তাঁর ভাষ্য, এসব দেশ এখন আরো বেশি স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছে। ভারতের ‘আত্মনির্ভর’ ধারণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশগুলো সরবরাহ শৃঙ্খল আরো শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে অংশীদারত্বের বৈচিত্রায়ন এবং ঝুঁকি কমানোর নীতি গ্রহণ করছে।
জয়শঙ্কর বলেন, একসঙ্গে কাজ করার জন্য প্রতিটি বিষয়ে দেশগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্যের প্রয়োজন নেই। অতীতে সব বিষয়ে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা স্বার্থের শক্তিশালী মিলকে সহযোগিতার পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হতো। এখন সেই মানদণ্ড অনেক বেশি নমনীয়। পর্যাপ্ত সাধারণ ভিত্তি বা লক্ষ্য থাকলেই দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার জন্য তা যথেষ্ট।
উদীয়মান শক্তিগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে তিনি কোয়াড, ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর, আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোর এবং ব্রিকসের কথা উল্লেখ করেন।
ব্রিকস প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, এটি এমন দেশগুলোর একত্রিত হওয়ার উদাহরণ, যারা মনে করে ব্যক্তিগত কণ্ঠস্বরের চেয়ে যৌথ কণ্ঠস্বর অনেক বেশি শক্তিশালী। তাঁর মতে, নমনীয় ও বহুমুখী অংশীদারত্বের মাধ্যমেই পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
সানা/ডিসি/আপ্র/৪/১০/২০২৬