যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অনুসৃত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের কূটনৈতিক পথেই হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, বহুমুখী আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বজায় রেখে ওয়াশিংটনের বৈদেশিক নীতিতেও স্পষ্ট পরিবর্তন এসেছে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড্যানিয়েল রাসেলের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন জয়শঙ্কর।
বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে মানুষ ভারত সম্পর্কে যা বলত, ওয়াশিংটন এখন ঠিক সেটিই আনন্দের সঙ্গে চর্চা করছে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে, ইউক্রেনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখছে এবং এশিয়া ও ইউরোপের অন্যান্য অংশের সঙ্গেও কাজ করছে। অর্থাৎ, ওয়াশিংটন এখন সেই কাজই করছে, যা ভারত দীর্ঘদিন ধরে করে এসেছে।
আলোচনার সময় ড্যানিয়েল রাসেল বহুমুখী কূটনীতি নিয়ে একটি মার্কিন প্রবাদ তুলে ধরে ভারতের ভারসাম্যপূর্ণ বৈদেশিক নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, জটিল এবং কখনো কখনো পরস্পরবিরোধী ভূরাজনৈতিক সম্পর্ক সামলানোর ক্ষেত্রে মার্কিন প্রশাসনও বর্তমানে একই ধরনের বহুমুখী কূটনীতি অনুসরণ করছে।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, এই পরিবর্তন বিশ্ব রাজনীতিতে একটি বড় রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। অতীতে এমন একটি ধারণা ছিল যে, কোনো দেশের অনেকগুলো বিকল্প থাকা উচিত নয়; বরং তারা যেন একটি নির্দিষ্ট শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার দিকে মনোযোগ দেয়। অথচ বৈশ্বিক পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নিজেই সবসময় নিজেদের জন্য একাধিক বিকল্প খোলা রেখেছে।
জয়শঙ্কর বলেন, সেই দ্বিমুখী কূটনৈতিক আচরণের সময় এখন শেষ হয়েছে। বর্তমানে প্রায় সবাই প্রকাশ্যে সবার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের এই কাঠামোগত পরিবর্তন বিশ্বকে একটি বহুমুখী বা বহুকেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় স্বার্থভিত্তিক বাস্তববাদী কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি দেশ নিজেদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট পরিস্থিতি থেকে নিজেদের জন্য সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।
জয়শঙ্করের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের পাশাপাশি রাশিয়া, চীন ও অন্যান্য শক্তির সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশ চলছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাশিয়া ও ইরানবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা আইন নিয়েও ওয়াশিংটনের সঙ্গে ভারতের উদ্বেগ ও স্বার্থের বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৯/৯/২০২৬