আগের দফার আলোচনার পর ইরানের ওপর হামলা ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আর কোনো আস্থা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তেহরান এখন যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। আর তাদের সঙ্গে কিসের ভিত্তিতে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব, সেটাও আমরা জানি না।”
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রয়েছেন পেজেশকিয়ান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এ সময় তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে যুদ্ধ বন্ধ এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। কাতার ও পাকিস্তান ইরানের বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে বলে জানান পেজেশকিয়ান।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ তুলে নেবে, ইরানের তেল বিক্রির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে, আনুমানিক ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের জব্দ ইরানি সম্পদ ছাড় করবে এবং লেবানন ও ইয়েমেনসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলবে। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল আবার স্বাভাবিক করবে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত শুক্রবার জানিয়েছিলেন, প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো নিতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে উভয় পক্ষের সম্মত বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু হতে পারে। এ আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টিও থাকবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরানের প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেননি। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধের দায় ইরানের নয় বলেও দাবি করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রই আমাদের সামনে সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে।” ইরানের জন্য পথ বন্ধ করে দেওয়া হলে প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া ‘স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, শক্তি প্রয়োগের বদলে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান সম্ভব। আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান হলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, “ইরান ২০০ বছর ধরে কোনো দেশে হামলা চালায়নি।” যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের শাসনব্যবস্থা কয়েক দিনের মধ্যে ভেঙে পড়বে - এমন ধারণা থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুদ্ধে জড়িয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান আরো বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা মোকাবিলা করেছি এবং ভবিষ্যতেও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকব। কোনো ইরানি কমান্ডারকে হত্যা করা কিংবা অর্থনৈতিক চাপ - কোনোটিই ইরানিদের পিছু হটতে বাধ্য করতে পারেনি।”
ইরানের প্রস্তাবের বিষয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, তেহরান কূটনৈতিক পথেই সংঘাতের সমাধান চাচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ কমানোর শর্ত দিয়েছে। সূত্র: আল-জাজিরা
সানা/আপ্র/২৮/৯/২০২৬