আবারো মাতৃত্বের পথে পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খান। ৪১ বছর বয়সে দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি মাতৃত্বকালীন ছবি পোস্ট করে সুখবর জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সাদা রঙের গাউনে বেবি বাম্প স্পষ্ট করে ছবিতে দেখা গেছে তাকে। ক্যাপশনে মাহিরা লেখেন, আমরা নিজেদের মতো করে পরিকল্পনা করি, তারপর আসে আল্লাহর পরিকল্পনা। ২০২৩ সালে ব্যবসায়ী সেলিম করিমকে বিয়ে করেন মাহিরা।
এই দম্পতির এটাই প্রথম সন্তান। এর আগে অভিনেতা আলি আসকারিকে বিয়ে করেছিলেন মাহিরা। সেই সংসারে ২০১০ সালে ছেলে আজলানের জন্ম হয়। তবে এবারের অভিজ্ঞতা কাছে আগের তুলনায় অনেকটাই আলাদা বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও দেখা গেছে মাহিরাকে।
সেখানেই প্রকাশ্যে আসে তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর। টিআইএফএফ-এর কমিউনিটি ইমপ্যাক্ট প্রোগ্রামে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সিনেমায় অবদানের জন্য সম্মানিতও হন তিনি। ‘ইউর মাদার ইউর মাদার ইউর মাদার’ সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারেও উপস্থিত ছিলেন মাহিরা। শাড়িতে সাজা অভিনেত্রী সেখানেই গর্বের সঙ্গে নিজের বেবি বাম্প প্রকাশ করেন।
তবে রেড কার্পেটে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হাজির হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য খুব সহজ ছিল না। এক সাক্ষাৎকারে মাহিরা বলেন, আমি সাধারণত খুব ব্যক্তিগত জীবনযাপন করি। তাই নিজের কোনও ব্যক্তিগত খবর প্রকাশ্যে আনতে গেলে একটু নার্ভাস হয়ে পড়ি। তার উপর পোশাক নিয়েও চিন্তা ছিল। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বেবি বাম্প নিয়ে রেড কার্পেটে হাঁটা একেবারেই অন্যরকম অভিজ্ঞতা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য বিষয়টি লুকিয়ে রাখার পরিবর্তে নিজের বর্তমান সময়টাকে উপভোগ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
মাহিরার কথায়, আমি ভাবলাম, এই মুহূর্তে আমার জীবনের বাস্তবতা এটাই। তাই লুকিয়ে রাখার চেষ্টা না করে সেটাকে গ্রহণ করার মধ্যেই একটা মুক্তি রয়েছে। ২৪ বছর বয়সে প্রথমবার মা হওয়ার সঙ্গে এবারের অভিজ্ঞতার তুলনাও করেছেন অভিনেত্রী। মাহিরার মতে, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক এবং মানসিক দু’দিক থেকেই অনেক কিছু বদলে যায়। শেষবার যখন অন্তঃসত্ত্বা হয়েছিলাম, তখন আমার বয়স ছিল ২৪। এখন ৪১। আমি শারীরিক, মানসিক এবং আবেগের দিক থেকে সম্পূর্ণ অন্য একজন মানুষ। বর্তমান গর্ভাবস্থায় ক্লান্তি ও শারীরিক সমস্যাও বেশি অনুভব করছেন মাহিরা। একইসঙ্গে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানের বিষয়ে উদ্বেগ এবং দায়িত্ববোধও বেড়েছে বলে জানান তিনি। তার কথায়, এই বয়সে আপনি অনেক বেশি বোঝেন, অনেক বেশি চিন্তা করেন।
বুঝতে পারেন, জীবন কতটা মূল্যবান এবং কতটা ভঙ্গুর। নতুন এই অধ্যায় তার পূর্ব পরিকল্পনায় ছিল না বলেই জানিয়েছেন মাহিরা। তবে জীবন যে সবসময় নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে না, সেটাই যেন এখন তার সবচেয়ে বড় উপলব্ধি।
মাহিরা বলেন, আমরা অনেক কিছু পরিকল্পনা করি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তার পরিকল্পনাই সবচেয়ে বড়। এই সময়টা আমাকে শিখিয়েছে, সবকিছুর উত্তর আগে থেকেই জানা জরুরি নয়। জীবন কখনও কখনও নিজের মতো করেও চমকে দিতে পারে।
ডিসি/আপ্র/১৩/৯/২০২৬