গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

শিশুর মানসিক বিকাশে পরিবেশের প্রভাব

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৩ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:২৬ এএম ২০২৬
শিশুর মানসিক বিকাশে পরিবেশের প্রভাব
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মোহাম্মদ নজাবত আলী

একটি শিশু মাতৃগর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে পিতা-মাতার আদর-স্নেহে শিশুটি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে। বিদ্যালয়ে গমনের আগমুহূর্ত পর্যন্ত পরিবারই শিশুর পাঠশালা। এ কারণে বলা হয়ে থাকে, পরিবার হচ্ছে শিশুর প্রথম পাঠশালা বা মাতৃসদন। পরিবারের পরিবেশেই শিশু বেড়ে ওঠে। সে পরিবারের ভাব-ভাষা, পরিবেশ আত্মস্থ করে। পরবর্তী জীবনে যদি ভালো পরিবেশ পায় তাহলে শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে তা হবে সহায়ক। কেননা শিশুর শারীরিক, মানসিক বিকাশে পরিবার ও চারপাশের পরিবেশের ভূমিকা অত্যন্ত গভীর ও শিশুর ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।

পৃথিবীর প্রত্যেক জীব বা প্রাণীর একটি নিজস্ব সমাজ বা পরিবেশ রয়েছে। মানুষ ছাড়া অন্যরা সমাজ ছাড়াও বাঁচতে পারে। কিন্তু মানুষ সমাজ ছাড়া বাঁচতে পারে না। এ জন্য মানুষকে সামাজিক জীব বলা হয়। সুন্দর সমাজ ও পরিবেশ আমাদের সবার কাম্য, যেখানে আমাদের বর্তমান ও অনাগত প্রজন্ম বেড়ে উঠবে একটি সুন্দর পরিবেশে। একটি সুন্দর, নিরাপদ সমাজ ও পরিবেশ শিশুর জীবনকে বদলে দিতে পারে। মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি শিশু মানসিক বিকাশ, আচার-আচরণ তার পরিবার ও চারপাশের পরিবেশ থেকে পায়। খারাপ পরিবেশ বা সমাজ শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বড় বাধা। শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। এই অনুকরণ ভালো-মন্দ দুটিই হতে পারে। এটা নির্ভর করে মূলত শিশু যে পরিবেশ বা সমাজে বাস করে। একটি সুন্দর, সুস্থ পরিবেশ ও সমাজ থেকে শিশু অনেক কিছু শিখতে পারে। বর্তমানে শিশুর সামাজিক ও মানসিকভাবে বেড়ে ওঠার জন্য অনুকূল পরিবেশের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে।

একটি সুস্থ সামাজিক পরিবেশে বেড়ে উঠবে বর্তমান ও আগামী প্রজন্ম। আমাদের প্রতিটি মানুষের জীবনের মূলমন্ত্র হচ্ছে মানবতা, মনুষ্যত্বের অধিকারী হওয়া, সততা, নৈতিকতা। সে সততা, নৈতিকতা দুর্বৃত্তের দ্বারা বা কখনও পারিবারিক স্বার্থপরতার কাছে যদি পরাজিত হয় তাহলে একজন মানুষের বিবেক, মনুষ্যত্ববোধ বলে কোনো কিছু থাকে না। তাই সততা, নৈতিকতা, বিবেক, মূল্যেবোধ মনুষ্যত্বের জয়ধ্বনিকে ওপরে তুলে ধরতে হবে। জাগরণ ঘটাতে হবে সমাজের। বর্তমান সমাজ ও রাষ্ট্রের অবক্ষয়ের চিত্র ভয়াবহ। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে সামনের দিকে, এগিয়ে যেতে হবে আলোর দিকে, এগিয়ে যেতে হবে সভ্যতার দিকে, এগিয়ে যেতে হবে একটি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণের দিকে। যে সমাজ হবে উন্নত, যে সমাজ হবে সভ্য, যে সমাজে কোনো বৈরী পরিবেশ থাকবে না, যে সমাজ নিরাপত্তা দেবে, থাকবে না কোনো ভয়ভীতি। আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে একটি শিশু নির্যাতনের শিকার হবে না, শিশু বেড়ে উঠবে উপযুক্ত পরিবেশে।

শিশুরা একটি জাতির কর্ণধার। কেননা শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে তারা যৌবনে পা দেয়- যাকে আমরা যুব বা তরুণ বলি। এ সময়টা মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। এই দীর্ঘ সময়ে একটি শিশু তিনটি সময় বা কাল অতিক্রম করে বড় হয়। এ সময়ে তারা যদি উপযুক্ত পরিবেশ না পায়, তাহলে তাদের বিপথগামী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আমাদের চারপাশে যা কিছু ঘটছে, তা সুস্থ পরিবেশের পরিচয় বহন করে না।

আমরা প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগ বা বিভিন্ন গণমাধ্যমে যা দেখছি একটি শিশুর বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে, তা ইতিবাচক নয়। চারদিকে যেন সামাজিক, রাজনৈতিক, পারিবারিক অস্থিরতা। শিশু ও নারী নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণের ভয়াবহতা সমাজকে গ্রাস করছে। এই বৈরী পরিবেশ কোমলমতি শিশু দেখতে দেখতে বড় হচ্ছে। তার মানসপটে ভেসে উঠছে প্রতিকূল পরিবেশের বিভিন্ন দিক।

‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;/জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর/ধ্বংসস্তূপ-পিঠে চলে যেতে হবে আমাদের।/চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ,/প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল,/এ বিশ্বকে শিশুর বাসযোগ্য করে যাব আমি- নবযাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার’- কবির এ মর্মবাণী উল্টোপথে চলছে আজকের সমাজে। নবাগত শিশুদের জন্য স্থান করে দিতে হবে। তবে যাওয়ার আগে শিশুদের জন্য বাসযোগ্য করতে হবে আজকের সমাজকে। আজকের পৃথিবীটা মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, দয়া-মমতা এখন অনেকটা নিঃশেষ। আজকের শিশুই আমাদের ভবিষ্যৎ, যারা শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে একদিন জাতির কর্ণধার হবে, জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে উন্নতির সোপানে। কবি গোলাম মোস্তফা বলেছেন, ‘ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে’। কবি সুকান্ত, গোলাম মোস্তফার শিশু সম্পর্কে তাদের ভবিষ্যৎ ও অমীয় বাণী আজ সমাজে অনুপস্থিত। তার পরিবর্তে আজ শিশুরা নানাভাবে নির্যাতিত, হত্যা, ধর্ষণের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র। যে চিত্রগুলো আমাদের বিবেকবান মানুষকে প্রচণ্ডভাবে নাড়া দেয়। সমাজ শিশুদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এভাবে চলতে থাকলে সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে।

আগে উল্লেখ করা হয়েছে, শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তারা বড়দের কাছ থেকে ভালো কিছু শিখতে চায়। কিন্তু কোথায় সে পরিবেশ? নিজের পরিবার ভালো হলেও তো কোনো লাভ নেই। সামাজিক জীব হিসেবে প্রতিবেশীদের সঙ্গে তো মিশতে হয়। তাই প্রত্যেক পরিবারের ভাবতে হবে কাদের সঙ্গে সে মেশে। যার যার অবস্থান থেকে বর্তমান ও অনাগত শিশুদের অনুকূলে একটি সুন্দর ও নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখি।

লেখক: সহকারী শিক্ষক (অব.), চামরুল উচ্চ বিদ্যালয়, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া
(মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব)

কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ডায়াবেটিস নিয়ে কেমন জীবনযাপন করবেন
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডায়াবেটিস নিয়ে কেমন জীবনযাপন করবেন

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

আত্মহত্যা প্রতিরোধ: প্রয়োজন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আত্মহত্যা প্রতিরোধ: প্রয়োজন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। এ দিবসটি ঘিরে আমরা সেমিনার করি, প...

প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিজ্ঞানই হতে পারে আগামীর বড় সম্পদ
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিজ্ঞানই হতে পারে আগামীর বড় সম্পদ

মো. মুখলেছুর রহমানভবিষ্যতে একাডেমিক সার্টিফিকেটের মূল্য কতটা থাকবে- তার চূড়ান্ত উত্তর পেতে আর হয়তো খ...

মব সহিংসতা: শুধু সংখ্যা নয়, খুঁজতে হবে ধরন
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মব সহিংসতা: শুধু সংখ্যা নয়, খুঁজতে হবে ধরন

আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরআইনের শাসনের সবচেয়ে মৌলিক শর্তগুলোর একটি হলো- কেউ অপরাধী কি না, তা নির্ধারণ করবে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 18 ঘন্টা আগে