গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

আত্মহত্যা প্রতিরোধ: প্রয়োজন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৩২ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:৫৪ এএম ২০২৬
আত্মহত্যা প্রতিরোধ: প্রয়োজন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ

১০ সেপ্টেম্বর বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। এ দিবসটি ঘিরে আমরা সেমিনার করি, পত্রিকায় কলাম প্রকাশ করি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা দেই। এরপর আবার সব আগের মতোই হয়ে যায়। আত্মহত্যা তো কোনো দিবসের বিষয় নয়। এটি প্রতিদিনের, প্রতি মুহূর্তের জনস্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং মানবিক মর্যাদার প্রশ্ন।

পৃথিবীতে প্রায় ৬০ হাজার মানুষ প্রতিদিন নানাভাবে আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকেন। তাদের প্রতিদিন প্রায় ৩০০০ জন আত্মহত্যা করেই ফেলেন। এই হিসাবে বিশ্বে বছরে ৮ লাখ মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে মৃত্যুবরণ করেন। প্রতি ৪০ সেকেন্ডে একজন!

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আত্মহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক প্রকল্প ‘লাইভ লাইফ: সুইসাইড প্রিভেনশন ইন বাংলাদেশ’-এর আওতায় আইসিডিডিআর’বি-এর মা ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের এক সেমিনারে জানানো হয় পুলিশের নথির ভিত্তিতে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশে প্রায় ৭৬ হাজার ৩৬১টি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশে বছরে গড়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ আত্মহত্যায় মৃত্যুবরণ করেছেন। সেমিনারে উপস্থাপিত তথ্য উপাত্ত  আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা আর বেশিও হতে পারে, কারণ সব ঘটনা সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয় না।

সংখ্যাটি ভয়াবহ। কিন্তু সংখ্যার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে, এই মৃত্যুগুলোর কয়টি প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টাকে ব্যক্তিগত ব্যর্থতা, ব্যক্তিত্বের দুর্বলতা বা ‘শাস্তিযোগ্য অপরাধ’ হিসেবে দেখার পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। 
আত্মহত্যা একটি বহুমাত্রিক জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এর পেছনে মানসিক অসুস্থতা যেমন থাকে, তেমনি থাকে পারিবারিক সংকট, সহিংসতা, সম্পর্কের ভাঙন, আর্থিক চাপ, বেকারত্ব, একাডেমিক চাপ, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং দুর্যোগ। তাই প্রতিরোধের দায়িত্বও একক কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ কোনো বিভাগের নয়।

বিষণ্নতা, ব্যক্তিত্বের বিকার, মাদকাসক্তি, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়াসহ নানা রোগের কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে থাকে। আত্মহত্যাপ্রবণতা ও মানসিক স্বাস্থ্যসচেতনতা গুরুত্বপূর্ণ। যারা আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই কোনো না কোনো মানসিক রোগ বা মানসিক সংকটে ভুগছেন। যথাযথ চিকিৎসা ও কাউন্সিলিং-এর মাধ্যমে আত্মহত্যার পথ থেকে তাদের ফেরানো সম্ভব।

কেন মানুষ আত্মহত্যা করে: ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী এমিল ডার্কহাইম তার বিখ্যাত গবেষণায় যারা আত্মহত্যা করে বা করতে চায় তাদের চারটি ভাগে ভাগ করেছেন।

এক. আত্মশ্লাঘায় পূর্ণ ব্যক্তি (ইগোস্টিক), যারা সব সময় নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে—সামাজিকতা পরিহার করে নিজের সবকিছু নিয়ে অহংবোধে ভোগে।

দুই. পরার্থবাদী (অল্ট্রুস্টিক)—যাদের সামাজিক সম্পৃক্ততা খুব বেশি।

তিন. আত্মপরিচয়হীন (এনোমিক), যারা সামাজিক রীতিনীতির ধার ধারে না—যাদের কোনো স্বকীয় পরিচয় নেই এবং নেই কোনো সামাজিক বন্ধন।

চার. অদৃষ্টবাদী (ফ্যাটালিস্টিক), যারা সবসময় অদৃষ্টের ওপর নির্ভর করে এবং খুব কঠোরভাবে সামাজিক নিয়মকানুন মেনে চলে এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে ক্ষুব্ধ হয়। এর বাইরেও আত্মহত্যার অন্তর্নিহিত কারণ নিয়ে বহু গবেষণা ও তত্ত্ব রয়েছে।

বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় আত্মহত্যার চেষ্টা এখনো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পাশ্চাত্যে মধ্য বা শেষ বয়সী মানুষেরা একাকীত্বে ভোগেন, যাকে বলা হয় ‘এম্পটি নেস্ট সিনড্রোম’। এই একাকীত্বের কারণে সেখানে ৪০-৫০ বছর বয়সী পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। আর বাংলাদেশে তরুণ তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

আত্মহত্যার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ: যারা গুরুতর মানসিক সমস্যায় ভুগছেন; সবসময় মৃত্যুর কথা বলেন, মৃত্যুচিন্তা করেন; সরাসরি বা ঘুরিয়ে আত্মহত্যা বা মৃত্যুর কথা বলছেন; আগে একা থাকতেন না কিন্তু এখন একা থাকেন, কারও সঙ্গে মেশেন না; সব বিষয়ে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন; সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর ইচ্ছা ব্যক্ত করেন; পুরোনো বন্ধু-স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছেন; আত্মহত্যার উপকরণ সংগ্রহ করেন; কোনো নির্যাতনের মুখোমুখি হয়েছেন; নিজের যত্ন নিচ্ছেন না; নিজের বিষয়সম্পত্তি অন্যদের বিলিয়ে দিচ্ছেন, কোনো উপযুক্ত কারণ ছাড়াই উইল করছেন; হাত-পা কাটাকাটি করছেন, নিজের ক্ষতি করছেন।

কারও মধ্যে আত্মহত্যার ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ দেখা গেলে তাকে উপহাস করা যাবে না। সবসময় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।   তার মনের কথা সহমর্মিতা দিয়ে শুনতে হবে। মানসিক সমস্যা বা নেশার সমস্যা থাকলে লুকিয়ে না রেখে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বন্ধুর এ ধরনের পোস্ট দেখা গেলে তৎক্ষণাৎ তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করতে হবে বা ফোনে কথা বলতে হবে। তাকে একা রাখা চলবে না। প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে ।

শাস্তি নয়, চিকিৎসা: আত্মহত্যা প্রতিরোধে প্রথম বড় নীতিগত পরিবর্তন হওয়া উচিত আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তির প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে। একজন মানুষ যখন আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, তখন তিনি তার জীবনের সবচেয়ে সংকটময় মুহূর্তে থাকেন। সে সময় তার প্রয়োজন নিরাপত্তা, চিকিৎসা, সহানুভূতি এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা। কিন্তু বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারায় আত্মহত্যার চেষ্টা এখনো শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আমাদের স্পষ্টভাবে বলতে হবে- আত্মহত্যার চেষ্টা অপরাধ নয়; একটি গুরুতর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাজনিত সংকট। আইন সংস্কারের পাশাপাশি প্রতিটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট আত্মহত্যা প্রতিরোধ কেয়ার পাথওয়ে থাকা দরকার। শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন, আত্মহত্যার ঝুঁকি নিরূপণ, নিরাপত্তা পরিকল্পনা, পরিবারের কাউন্সিলিং এবং প্রয়োজনীয় ফলোআপ নিশ্চিত করতে হবে। মৃত্যুর দরজা থেকে ফিরে আসা একজন মানুষকে আমরা  শাস্তি দেব না; বরং তাকে দ্বিতীয় সুযোগ দেব।

নীতিমালার জন্য প্রয়োজন সঠিক তথ্য-উপাত্ত: বাংলাদেশে আত্মহত্যা প্রতিরোধের আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব। পুলিশের কাছে তথ্য আছে, হাসপাতালের কাছে তথ্য আছে, গবেষকদের কাছে তথ্য আছে, স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও বিভিন্ন তথ্য রয়েছে। কিন্তু এগুলো একটি সমন্বিত জাতীয় ব্যবস্থায় নেই। ফলে আমরা অনেক সময় জানিই না-কোন বয়সে ঝুঁকি বেশি, কোন অঞ্চলে বেশি, কোন সামাজিক পরিস্থিতিতে ঝুঁকি বাড়ছে এবং কোথায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সবচেয়ে জরুরি।

স্টেকহোল্ডারদের একসঙ্গে নিয়ে একটি জাতীয় আত্মহত্যা সার্ভেলেইন্স সিস্টেম এখন সময়ের দাবি। হাসপাতাল, পুলিশ ও সামাজিক উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য- এই তিন উৎসের তথ্য সমন্বিত করে উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত একটি নির্ভরযোগ্য ডেটাবেজ তৈরি করা যেতে পারে। তবে শুধু কতজন মৃত্যুবরণ করলেন, তা জানলেই হবে না। জানতে হবে কেন তারা ঝুঁকিতে পড়লেন, কোথায় সাহায্য পাওয়ার সুযোগ ছিল এবং কোন পর্যায়ে ইন্টারভেনশন করলে জীবনটি রক্ষা করা সম্ভব হতে পারত। তাই প্রতিটি আত্মহত্যাকে শুধু একটি সংখ্যা হিসেবে নয়, একটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু হিসেবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

প্রাণঘাতী উপকরণের সহজলভ্যতা কমাতে হবে: আত্মহত্যার সব কারণ আমরা তাৎক্ষণিকভাবে দূর করতে পারব না। কিন্তু আত্মহত্যার সুযোগ ও প্রাণঘাতী উপকরণের সহজলভ্যতা কমানো সম্ভব। বাংলাদেশের গ্রামীণ বাস্তবতায় কীটনাশক এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কৃষির জন্য কীটনাশক প্রয়োজন-কিন্তু অত্যন্ত বিষাক্ত কীটনাশক যেন অনিয়ন্ত্রিতভাবে মানুষের হাতে না পৌঁছায়, সেটি নিশ্চিত করা সম্ভব। এটি শুধু কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিষয় নয়; এটি আত্মহত্যা প্রতিরোধেরও বিষয়।

উচ্চঝুঁকির কীটনাশক চিহ্নিত করা, পর্যায়ক্রমে কম বিষাক্ত বিকল্পে যাওয়া, বিক্রেতার লাইসেন্সিং, বিক্রির রেকর্ড রাখা, নিরাপদ সংরক্ষণ এবং ছোট প্যাকেজিং-এসব নিয়ে প্রমাণভিত্তিক নীতি প্রয়োজন। কৃষির প্রয়োজন অক্ষুণ্ন রেখে কীভাবে প্রাণঘাতী কীটনাশকের অপব্যবহারের ঝুঁকি কমাতে হবে। পাশাপাশি প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিশেষ কিছু ওষুধের বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যকে জাতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া: তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য এখন আর উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। একাডেমিক চাপ, সম্পর্কের সংকট, বেকারত্ব, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, বুলিং, সাইবারবুলিং ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা অনেক তরুণের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর চাপ তৈরি করছে। কিন্তু আমাদের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এখনো পর্যাপ্ত নয়।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এই মুহূর্তে বাস্তবসম্মত না হলেও একজন প্রশিক্ষিত মেন্টাল হেলথ ফোকাল শিক্ষক, কাউন্সিলিং ব্যবস্থা এবং বিশেষজ্ঞের কাছে রেফারেল ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব। শিক্ষক ও চিকিৎসকদেরও আত্মহত্যার সতর্কসংকেত শনাক্ত করার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করা গেলে মানসিক সংকটে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানো অনেক সহজ হবে। এসব ক্ষেত্রে টেলি-সাইকিয়াট্রি সেবার সম্প্রসারণ করা যেতে পারে।

৯৯৯-কে মানসিক সংকটের সঙ্গেও প্রস্তুত হতে হবে: আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তি সবসময় প্রথমে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে যাবেন না। তিনি হয়তো পরিবারের সদস্য, বন্ধুবান্ধব, শিক্ষক অথবা জরুরি হেল্পলাইনে যোগাযোগ করবেন। তাই ৯৯৯-এর মতো জরুরি সেবার রেসপন্ডারদের জন্য আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও সংকট মোকাবিলার বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

একজন কলার যদি বলেন, ‘আমি আর বাঁচতে চাই না’, সেটি সাধারণ অভিযোগ নয়; এটি সম্ভাব্য মানসিক স্বাস্থ্যের জরুরি অবস্থা। কীভাবে কথা বলতে হবে, কীভাবে তাৎক্ষণিক ঝুঁকি বোঝা যাবে, কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং কখন অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ বা মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে-এসবের জন্য একটি সুস্পষ্ট গাইডলাইন বা প্রটোকল থাকা দরকার।

দরকার বাস্তবায়নযোগ্য কর্মকৌশল: প্রয়োজন একটি জাতীয় আত্মহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক কর্মকৌশল। এতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি, স্বরাষ্ট্র, আইন, সমাজকল্যাণ, স্থানীয় সরকার , তথ্য ইত্যাদি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে  একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

যে কাজগুলো দিয়ে শুরু করা যেতে পারে, তা হলো আত্মহত্যার চেষ্টা-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া; জাতীয় আত্মহত্যা সার্ভেইলেন্স সিস্টেম-এর পাইলট প্রকল্প চালু করা; উচ্চঝুঁকির কীটনাশক নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া; ঝুঁকিপূর্ণ ওষুধগুলো যাতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি না হয়, এ জন্য ফার্মেসিগুলো রেগুলেশনের আওতায় নিয়ে আসা; হাসপাতালগুলোতে সুইসাইড এটেম্পট পাথওয়ে কেয়ার চালু করা; ৯৯৯ ও অন্যান্য জরুরি সেবার কর্মীদের আত্মহত্যাপ্রবণ কলারদের সাথে ডিল করার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া; স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব কাঠামো তৈরি করা; উপজেলা থেকে জাতীয় পর্যায়ে মানসিক রোগ দ্রুত সনাক্তকরণ ও উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
এই কর্মপরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট বাজেট, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান, সময়সীমা এবং উপযুক্ত ইন্ডিকেটর থাকতে হবে।

আত্মহত্যা প্রতিরোধে আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হতে পারে একে কেবল ‘সচেতনতার সমস্যা’ ভাবা। শুধু সচেতনতাই জীবন বাঁচায় না। জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন সময়মতো চিকিৎসা, সময়মতো সহায়তা, দক্ষ পেশাজীবী, যুগোপযোগী আইন এবং কার্যকর সামাজিক সুরক্ষা।

আত্মহত্যার প্রতিটি ঘটনা একটি পরিবারের শোক, অনেকগুলো সম্পর্কের অবসান, একটি সম্ভাবনাময় জীবনের সমাপ্তি এবং হয়তো একটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু। আর প্রতিটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু আমাদের জন্য একটি প্রশ্ন রেখে যায়-আমাদের যা করার ছিল তা কী আমার যথাযথভাবে করেছিলাম।

লেখক: অধ্যাপক, চাইল্ড এডোলেসেন্ট ও ফ্যামিলি সাইকিয়াট্রি, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ
(মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব)

কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিজ্ঞানই হতে পারে আগামীর বড় সম্পদ
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিজ্ঞানই হতে পারে আগামীর বড় সম্পদ

মো. মুখলেছুর রহমানভবিষ্যতে একাডেমিক সার্টিফিকেটের মূল্য কতটা থাকবে- তার চূড়ান্ত উত্তর পেতে আর হয়তো খ...

মব সহিংসতা: শুধু সংখ্যা নয়, খুঁজতে হবে ধরন
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মব সহিংসতা: শুধু সংখ্যা নয়, খুঁজতে হবে ধরন

আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরআইনের শাসনের সবচেয়ে মৌলিক শর্তগুলোর একটি হলো- কেউ অপরাধী কি না, তা নির্ধারণ করবে...

শিশুরা হারিয়ে যাচ্ছে কোন অরণ্যে
০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশুরা হারিয়ে যাচ্ছে কোন অরণ্যে

ইরাজ আহমেদপাখিদের দল থেকে একটি দুটি করে পাখি হারিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত উধাও হয়ে যাচ্ছে তারা। রূপকথার গল্...

গালাগালির ‘সংস্কৃতি’, বাকস্বাধীনতার সীমা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ‘ব্যবহার’
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গালাগালির ‘সংস্কৃতি’, বাকস্বাধীনতার সীমা এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ‘ব্যবহার’

আমীন আল রশীদজুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনীতি ও সামাজিক পরিসরে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পরস...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই