তোমাকে পাইনি বলে
আতিকুর ফরায়েজী
তোমাকে পাইনি বলে
পৃথিবী থেমে যায়নি,
নদীগুলো যথারীতি সাগরের দিকে যায়,
শালিকেরা নিজেদের সাংসারিক গল্প বলে।
তোমাকে পাইনি বলে
কোনো মহাবিপ্লব ঘটেনি,
শুধু পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্যকে
আমি আজও সন্দেহ করি।
তোমাকে পাইনি বলে
এখনো কবিতা লিখি,
ভিতরের ভাঙা ঘরগুলো
একে একে মেরামত করি।
তালের খান্ডা পিঠা
বিলকিস নাহার মিতু
তালতলাতে তাল পড়েছে
ধপাস ধপাস করে,
খোকন গিয়ে তুলেছে তাল
ছোট্ট দুহাত ভরে।
খোকন গেল দাদির কাছে
নিয়ে পাকা তাল,
নারকেল-চিনির সাথে দাদি
তাল করেছে জ্বাল।
সেই তালেতে করবে বরা
করবে খান্ডা পিঠা,
দুধ ভাতেতে জ্বালানো তাল
খেতে ভারী মিঠা।
অদেখা চিঠি
সিবগাতুর রহমান
হৃদয়-খাতায় মন-কলমে
লিখেছি এক চিঠি,
পড়তে পারবে ঠিক যখন
খুলবে হৃদয়-দিঠি।
সোনালি সেই শৈশব-দিন,
যৌবনের উন্মাদ-
ওই চিঠিতে আঁকা আছে
হারানো সেই স্বাদ।
জীবন-নদীর উজান-ভাটি,
সুখ-দুঃখ ও ব্যথা,
সেই চিঠিতে লেখা আছে
জমানো সব কথা।
কত কাহিনি, কত না গল্প
আনন্দ-বেদনার,
দেখবে সেই চিঠির বুকে
রয়েছে বেশুমার।
স্বপ্ন-বোনা আশার আলো,
নিরাশার আঁধার-
স্মৃতির পাতায় যতন করে
লিখেছি বারবার।
ছত্রে-ছত্রে, পাতায়-পাতায়
রয়েছে হাসি-কান্না,
সেই চিঠিটা খামেই বন্দি,
খোঁজে নিজ ঠিকানা!
পড়বে যদি সেই চিঠিটা,
ডুব দাও এই অন্তরে-
জীবনের সব গল্প সেথায়
সাজানো থরে থরে।
যদিও কিছু আছে
মোঃ রহমত আলী
এমন কিছু কান্না আছে, যা দেখা যায় না,
শোনা-ও যায় না, তাই অনুধাবন-ও হয় না।
এমন কিছু কথা আছে, যা বোঝা যায় না,
তাই অনুতাপ-ও প্রকাশ করা হয় না।
এমন কিছু ব্যথা আছে, যা খোলা যায় না,
তাইতো অদেখা আজও তা খোঁজা হয় না।
এমন কিছু দুঃখ আছে, যা বলা যায় না,
শত বলে বলেও কভু বোঝানো হয় না।
এমনও কিছু বেদনা, যা খুলে বলা যায় না,
ইশারায় অনুভব হয় তবে অনুমান করা হয় না।
এমনও কিছু সুখ, ছোঁয়া যায়, তবু ধরা যায় না,
যেমন কতক ধোঁকাবাজ চেহারা চেনা হয় না।
ডাক
শেলী নাজ
রাত্রি ডাকহরকরা, বিলি করে স্মৃতির চাবুক
আমাকে ডাকছে দূর থেকে এক চুম্বক পাহাড়
আমাকে ডাকছে তার ভাষাহীন অলঙ্ঘ্য বাসনা
অন্ধ চোখ, শুধু তার গান শুনি, জানি না ঠিকানা।
কত দিন পরি নাই পাটভাঙা ধনেখালি শাড়ি
অনেক জহর গিলে ভুলে থাকি লুপ্ত জহরত
কান্নার হীরক আমি তুলে রাখি ম্যাজিক সিন্দুকে
আয়নার ভাঙা বুকে ভাঙা মুখ দেখি আমারই।
ফুলভর্তি হ্রেষা ডাক, কোথায় সে ক্ষিপ্র অশ্বারোহী!
রক্ত গলগল ঝরে, বাল্যকাল আমাকে ডাকছে
রাত্রির উদ্দাম পাব থেকে আনন্দের ফেনা এসে
ঘরবন্দী দেশহারা দাসটির মনে লেগে থাকে,
জেলখাটা কয়েদির মতো আমি শুনছি সে ডাক
মুক্তির মাণিক্য জ্বলা তীব্র রোদ, ডাকছে আমাকে
তবু মুক্তি নেই আর মাংসসহ বিক্রি হয়ে গেছি
সারা রাত শুনি ঘরপলাতকা আর্ত সেরেনাদ।
ছায়া
শুভাশিস সিনহা
ছায়াটাকে হারিয়ে ফেলব
অতল ঘুমের ঘন বনে
এত আলো এত বাদলায়
এই ভয় জাগিয়াছে মনে!
জাগিয়াছে তরলে লবণে
নয়ন শ্যামল সরোবর,
কেন হিম এই পরশন
কেন কম্পন থরথর!
কেঁপে উঠে যদি নেভে বাতি
গহিনে জলসা হলে শেষ,
কবে কোন গাথাগীতিকার
আসরে মুখর আনদেশ।
সব স্মৃতি আগলায়ে থাকি
বক্ষে বাঁধিয়া লোহাপ্রাণ,
শঙ্কা ঘেরিছে দেহ-মন
বাতাসে ভাসিছে ধূপঘ্রাণ...
কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬