গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

মহাকাশে প্রথম অরবিটাল ডগফাইটের মহড়া যুক্তরাষ্ট্রের

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২৪ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:০৭ এএম ২০২৬
মহাকাশে প্রথম অরবিটাল ডগফাইটের মহড়া যুক্তরাষ্ট্রের
ছবি

এআই দ্বারা নির্মিত ছবি

মহাকাশে সামরিক স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের কৌশলগত সক্ষমতা, গতিশীলতা এবং টিকে থাকার ক্ষমতা যাচাইয়ে প্রথমবারের মতো ‘অরবিটাল ডগফাইটিং’ বা কক্ষপথে নিকট-দূরত্বের সংঘাতের অনুকরণে মহড়া চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘অ্যাপোলো ম্যানুভার্স ২০২৬’ নামের এ মহড়ায় কৃত্রিম সংঘাতের পরিবেশে বিভিন্ন সামরিক স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের কৌশলগত চলাচল এবং পারস্পরিক আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর এই মহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ ক্রমেই জনাকীর্ণ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং চীন ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ মহাকাশে অন্য মহাকাশযান নজরদারি ও স্যাটেলাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।

মহাকাশে বিভিন্ন স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানকে পরস্পরের সাপেক্ষে আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার কৌশলে পরিচালনার এই পদ্ধতিকে ‘অরবিটাল ডগফাইটিং’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের ভাইস চিফ অব স্পেস অপারেশনস জেনারেল মাইকেল এ. গুটলেইন। তিনি এ কৌশলের সঙ্গে যুদ্ধবিমানের ‘ক্লোজ এয়ার কমব্যাট’ বা নিকট দূরত্বের আকাশযুদ্ধের তুলনা করেছেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

মহড়াটির কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে ইউএস স্পেস কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল স্টিফেন হোয়াইট বলেন, একটি স্থির ও অনুমানযোগ্য কক্ষপথ থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করলে মহাকাশে থাকা সম্পদগুলো এমন নির্দিষ্ট অবস্থানে আটকে থাকে, যা সহজেই প্রতিপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। মহাকাশে নিজেদের টিকিয়ে রাখা, সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতা নিশ্চিত করা এবং কৌশলগত সুবিধা অর্জনের জন্য সক্ষমতায় উচ্চতর গতিশীলতা ও টিকে থাকার ক্ষমতা প্রয়োজন।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অংশগ্রহণে ‘অ্যাপোলো ম্যানুভার্স ২০২৬’ মহড়াটি পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এতে একাধিক কক্ষপথে সরাসরি মহাকাশযান পরিচালনা এবং সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে যুদ্ধকালীন সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

জেনারেল স্টিফেন হোয়াইট বলেন, এ ধরনের মহড়া মহাকাশে কৌশলগত সুবিধা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও চাহিদা চিহ্নিত করার সুযোগ দেয়। সরাসরি মহাকাশযান পরিচালনার মাধ্যমে একাধিক কক্ষপথে সমন্বিত কার্যক্রম চালানো অংশীদার দেশগুলোর যুদ্ধকালীন দক্ষতাও বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে রণকৌশল পরিমার্জন, প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিস্থিতিতে সরবরাহব্যবস্থা মূল্যায়ন এবং স্যাটেলাইটের রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবাদানের চাহিদা নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে।

মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি পৃথক সামরিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মার্কিন সেনাবাহিনী বা নৌবাহিনীর মতো সশস্ত্র বাহিনীর স্বাধীন শাখা হিসেবে ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় ইউএস স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছর ‘ইউএস স্পেস কমান্ড’কেও সমন্বিত একটি কমব্যাট্যান্ট কমান্ড হিসেবে পুনরায় চালু করা হয়।

স্নায়ুযুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের আমলে তৈরি করা স্পেস কমান্ড পরবর্তী সময়ে ২০০২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়ে বিলুপ্ত করা হয়েছিল। পরে মহাকাশে সামরিক অভিযান পরিচালনার সার্বিক দিকনির্দেশনা ও দায়িত্ব পালনের জন্য ইউএস স্পেস কমান্ডকে পুনরায় সক্রিয় করা হয়।

অন্যদিকে, স্পেস ফোর্স সামরিক সদস্যদের সংগঠিত করা, প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং আধুনিক সরঞ্জামে সজ্জিত করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার দায়িত্ব পালন করছে।

বর্তমানে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক ও সামরিক স্যাটেলাইট সক্রিয় রয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই কক্ষপথে থাকা সামরিক স্যাটেলাইটগুলো সংঘাতের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও বৈশ্বিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। ফলে স্যাটেলাইটের গতিশীলতা, নজরদারি, প্রতিরক্ষা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত কক্ষপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা ক্রমেই সামরিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই মহড়ার মধ্য দিয়ে মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতার ধরনও যে বদলাচ্ছে, তার একটি ইঙ্গিত পাওয়া গেল। একসময় মহাকাশে স্যাটেলাইট স্থাপন ও পরিচালনাই ছিল প্রধান সক্ষমতার বিষয়; এখন সেগুলোকে প্রতিকূল ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া, প্রতিপক্ষের গতিবিধি মোকাবিলা করা এবং নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ সম্পদকে টিকিয়ে রাখার সক্ষমতাও সামরিক প্রস্তুতির অংশ হয়ে উঠছে।
সানা/আপ্র/১১/৯/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

চাকরি কেড়ে নেওয়া রোবটই এবার এআইয়ের বিরুদ্ধে
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাকরি কেড়ে নেওয়া রোবটই এবার এআইয়ের বিরুদ্ধে

রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে,...

এআইয়ের পরিণতি ঠেকাতে কেউ প্রস্তুত নয়
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআইয়ের পরিণতি ঠেকাতে কেউ প্রস্তুত নয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির সুদূরপ্রসারী পরিণতি মোকাবিলায় বিশ্ব এখনো প্রস্তুত নয় বলে সতর্ক ক...

এআই এজেন্টের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই এজেন্টের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন প্রতিনিধি বা এআই এজেন্ট ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব এজেন্ট নিজে পরিকল্পনা করতে...

স্মার্টফোন থেকে খুলে নেওয়া যাবে ক্যামেরা, নতুন চমক
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্মার্টফোন থেকে খুলে নেওয়া যাবে ক্যামেরা, নতুন চমক

একঘেয়ে কালো ও আয়তাকার স্মার্টফোনের প্রচলিত নকশা থেকে বেরিয়ে এবার ভিন্নধর্মী একটি ডিভাইস নিয়ে এসেছে ফ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 18 ঘন্টা আগে