গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ইসলাম===

দয়াল নবীর (সা.) অনিন্দ্য শিক্ষা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৬ পিএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২০:২৬ এএম ২০২৬
দয়াল নবীর (সা.) অনিন্দ্য শিক্ষা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মাহমুদ আহমদ    

ক্রোধ বা রাগ মানুষের সহজাত একটি প্রবৃত্তি। অনেকেই হঠাৎ করে সামান্য কিছুতেই রেগে যায়। এই রাগ তার শরীর-স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি ডেকে আনে। এটি তার মনন ও স্বাভাবিক জীবন চলার স্বাভাবিক চলার পথে এক ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

আল্লাহপাক মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করেছেন, তাই জীবনে চলার পথে মানুষের মাঝে রাগ, ক্রোধ বা উত্তেজনা সৃষ্টি হতেই পারে। তবে ইসলামি শিক্ষা হলো- আমরা যেন আমাদের ক্রোধকে দমন করে রাখি। আর তাকেই মুমিনদের দলভুক্ত করা হয়েছে যে, ক্রোধ দমন করে চলে।

আমরা যেহেতু দুর্বল, আমরা সব সময় ক্রোধ দমন করতে পারি না; সেহেতু সামন্যতেই রেগে যাই। শুধু রেগে যাই না বরং রাগের মাথায় অনেক কিছু করে ফেলি। অথচ আমাদের প্রিয়নবী ও শ্রেষ্ঠ নবী হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর কতই না জুলুম অত্যাচার, নির্যাতন করেছে, তারপরও তিনি কখনও ক্রোধের বশবর্তী হয়ে কাউকে কষ্ট দেননি। কতই না কটু ও মন্দ কথা বলা হয়েছে, এতে তিনি কি কখনও রাগ দেখিয়েছেন? না, তিনি তো ছিলেন দয়ার মহাসাগর। তারই উম্মত হয়ে আমরা কেন তার শিক্ষা অনুযায়ী নিজেদের জীবন পরিচালনা করব না। এছাড়া ইসলামের এমন কোনো আদেশ-নিষেধ দেওয়া হয়নি, যা পালন করতে আমাদের জন্য কষ্টকর।

রাগ দমনে মহানবী (সা.) যে পদ্ধতি অবলম্বন করতে শিক্ষা দিয়েছেন: মেশকাত শরীফের এক হাদিসে উত্তেজিত অবস্থাকে শিথিল করতে পানি পানের উল্লেখ রয়েছে। হজরত আবু যার (রা.) বর্ণনা করেছেন, হজরত মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমাদের মাঝে কারো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, তখন সে যদি দাঁড়ানো থাকে তবে যেন বসে পড়ে, যদি এতে রাগ চলে যায় তো ভালো, অন্যথায় যেন সে মাটিতে শুয়ে পড়ে’ (আহমদ, তিরমিজি)।

হজরত আবু আইব আনসারী (রা.) বর্ণনা করেছেন, হজরত রসুল করিম (সা.) বলেছেন, ‘কোনো লোকের জন্য তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি রাগ করে এভাবে সালাম-কালাম বন্ধ করে থাকা উচিত নয় যে, দুই জনের দেখা হলে, একজন এদিকে আরেক জন ওদিকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তাদের দুই জনের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম যে সালাম দ্বারা আগে কথা-বার্তা শুরু করে’ (বুখারি, কিতাবুল আদব)।

সালমান ইবনে সুরদ (রা.) বলেন, একবার দু’জন ব্যক্তি রসুল (সা.)-এর পাশে বসে একে অপরকে গালি দিল। আমরা সেখানে বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় রসুল (সা.) বললেন, ‘আমি একটা বাক্য জানি, যা বললে ক্রোধ সংবরণ করা সম্ভব। আর তা হলো, আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)।

এই রাগ সংবরণের জন্য মানুষের ঈমান, আত্মিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি বাড়ানো প্রয়োজন। হজরত নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘শক্তিশালী সে নয়, যে যুদ্ধে ব্যাপক বীরত্ব দেখায় বরং শক্তিশালী হলো সেই ব্যক্তি; যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে’ (মুসলিম)। হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘হে আদম সন্তান! যখনই তুমি রেগে যাবে এবং রাগের বশবর্তী হয়ে খারাপ আচরণ করবে, তখনই তুমি আগুনে পড়বে।’

হজরত শেখ সাদী (রহ.) বলেছেন, ‘তুমি যখন লড়ায়ের উপক্রম দেখ, তখন তুমি ধৈর্য ধারণ কর। কেননা, নম্রতায় লড়াই বন্ধ করে, নম্র ব্যবহার ও মিষ্টি ভাষায় একটি উগ্র হাতীকেও চুল দিয়ে বেঁধে রাখা যায়। অতএব, তুমি যেখানেই লড়াই দেখ নম্র ব্যবহার কর। কেননা, রেশম অত্যন্ত নরম কিন্তু তা ধারাল ছুরি দ্বারা কাটা যায় না’ (গুলিস্তা, বয়ান-১৫৩)। তিনি বলেন, ‘তুমি দুর্গের দেওয়ালের ওপর পাথর ছুড়ে মেরোনা। কেননা হতে পারে দুর্গ হতে পাথর এসে তোমার শরীরে লাগবে’ (গুলিস্তা, বয়ান-১৫৫)।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রসুল করিম (সা.) বলেছেন, ‘সে ব্যক্তি বীর পুরুষ নয় যে কুস্তিতে অপরকে ধরাশায়ী করে দেয় বরং বাহাদুর তো হলো সেই ব্যক্তি, যে ক্রোধ ও উত্তেজনার সময় আত্মসংযমী হয়’ (বুখারি)। ‘হজরত আবু হুরায়রা (রা.) আরো বর্ণনা করেন, একবার একজন লোক মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে আরজ করল, হে আল্লাহর রসুল! ‘আমাকে নসিহত করুন। তিনি (স.) বললেন, উত্তেজিত হয়ো না।’ লোকটি বার বার নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নসহিত করতে আরজ করতে থাকলেন। আর মহানবী (সা.) বার বার বলতে থাকলেন, ‘উত্তেজিত হয়ো না’ (বুখারি, কিতাবুললি ইমান)।

আল্লাহপাক চান তার বান্দারা যেন একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে জীবন পরিচালনা করেন। অথচ আমরা দেখতে পাই, সমাজ ও দেশে যত ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, এর মূলে হলো ক্রোধ। আর এ ক্রোধ থেকেই মানুষ একের পর এক অন্যায় ও জুলুম করে থাকে। কিন্তু জুলুম করাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার নিজের ওপর হারাম করেছেন। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন- ‘হে আমার বান্দারা, আমি আমার ওপর জুলুম করাকে হারাম করে দিয়েছি। এ কারণে আমি তোমাদের জন্যও জুলুম করা হারাম করে দিলাম। তাই তোমরা পরস্পরের প্রতি জুলুম করো না’ (মুসলিম)।

আরেকটি হাদিসে এসেছে, হজরত আবু মূসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ জালিমদের অবকাশ দিয়ে থাকেন। অবশেষে যখন তাকে ধরেন, তখন আর ছাড়েন না। এরপর মহানবী (সা.) এ আয়াত পাঠ করেন, ‘আর এরকমই বটে আপনার রবের পাকড়াও, যখন তিনি কোনো জনপদবাসীকে পাকড়াও করেন তাদের জুলুমের দরুন। নিঃসন্দেহে তার পাকড়াও বড় যন্ত্রণাদায়ক, অত্যন্ত কঠিন’ (বুখারি)।

অন্য একটি হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ওপর জুুলুম করেছে সে যেন তার কাছ থেকে ক্ষমা নিয়ে নেয়। তার ভাইয়ের পক্ষে তার কাছ থেকে পুণ্য কেটে নেওয়ার আগেই। কারণ সেখানে কোনো দিনার বা দিরহাম নেই। তার কাছে যদি পুণ্য না থাকে তবে তার (মজলুমের) গোনাহ এনে তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে।’ (বুখারি)

মানুষের সঙ্গে কারণে হোক আর অকারণে, কোনোভাবেই অন্যায় আচরণ, জুলুম-অত্যাচার করা যাবে না। মানুষের প্রতি জুলুম-অত্যাচার সবচেয়ে মারাত্মক অপরাধ। এ কারণেই অত্যাচারিত ব্যক্তির আবেদন-নিবেদন আল্লাহ তাআলার দরবারে সরাসরি পৌঁছে যায়। আল্লাহতায়ালার মাজলুমের চাওয়া-পাওয়া খুবই দ্রুততার সঙ্গে কবুল করে থাকেন। এক কথায় ধর্ম-বর্ণ নির্বীশেষে সবার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের শিক্ষা ইসলাম প্রদান করে। তাই আমরা যদি দয়াল নবীর (সা.) এই অনিন্দ্য শিক্ষার ওপর আমল করি, তাহলে সমাজ ও দেশ হবে শান্তিময়।

আল্লাহপাক আমাদের ক্রোধ দমন করার আর সব ধরনের জুলুম-অন্যায় থেকে নিজেকে বিরত রাখার তৌফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও ইসলামি চিন্তাবিদ

কেএমএএ/আপ্র/১০.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ১১০০ কোটি টাকা
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ১১০০ কোটি টাকা

ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী কার্যক্রম সম্প্রসারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি...

সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা চার হাজার ৩৪১ জন হাজিকে উদ্বৃত্ত চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার...

নফস নিয়ন্ত্রণে রাখার ১০ কার্যকর উপায়
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নফস নিয়ন্ত্রণে রাখার ১০ কার্যকর উপায়

নফস মানুষের স্বাভাবিক সত্তার একটি অংশ। এটি মানুষকে ভালো ও মন্দ—উভয় দিকেই পরিচালিত করতে পারে। তবে মান...

আজ শুভ জন্মাষ্টমী, দেশজুড়ে নানা আয়োজনে উদ্যাপন
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ শুভ জন্মাষ্টমী, দেশজুড়ে নানা আয়োজনে উদ্যাপন

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ও আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি শুভ জন্মাষ্টমী আজ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে ড. ইউনূসকে

বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই কর পরিশোধের জন্য ড. মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৩ অর্থবছর সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন এই রায় সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 18 ঘন্টা আগে