গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের গণতান্ত্রিক মর্যাদা

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১২:৫৮ পিএম, ১৪ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ২০:১৮ এএম ২০২৬
সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের গণতান্ত্রিক মর্যাদা
ছবি

আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে

আগামী ২০ আগস্ট দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা, সংসদীয় গণতন্ত্রের পরিপক্বতা এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির মানদণ্ডও বটে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের বক্তব্য-দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারাতে হবে-বিষয়টিকে নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদীয় স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্দেশ্যে প্রণীত। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ভোট দেওয়া বা সংসদে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে সদস্যপদ বাতিলের বিধান সংসদীয় গণতন্ত্রে দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার একটি শক্তিশালী উপকরণ। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংসদের আইন প্রণয়ন কার্যক্রমের মতো নয়; এটি একটি পৃথক সাংবিধানিক নির্বাচন। ফলে এই ক্ষেত্রে ৭০ অনুচ্ছেদ সরাসরি প্রযোজ্য কি না, সে বিষয়ে আইনজ্ঞ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে মতভেদ থাকা স্বাভাবিক। এমন অবস্থায় কোনো একক রাজনৈতিক ব্যাখ্যাকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সমীচীন নয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে বিরোধীদলীয় পক্ষের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের দাবি, রাষ্ট্রপতি পদকে অধিকতর মর্যাদাবান ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ দেওয়া যেত। এই মতের সঙ্গে একমত হওয়া বা না হওয়া ভিন্ন বিষয়; কিন্তু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে উন্মুক্ত বিতর্ক গণতন্ত্রকে দুর্বল করে না, বরং শক্তিশালী করে।

নির্বাচন কমিশন যে প্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছে, তা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ আসনে গিয়ে ব্যালট সরবরাহ, স্বাক্ষরযুক্ত চেকমুড়ি, একাধিক ব্যালট বাক্স, সংসদ কক্ষেই গণনা এবং ফল ঘোষণার ব্যবস্থা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অধিকতর সুশৃঙ্খল ও পর্যবেক্ষণযোগ্য করেছে। রাষ্ট্রপতি, সংসদ নেতা, বিরোধীদলীয় নেতা ও ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের ভোটদান সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তও জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে।

তবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মূল শক্তি কেবল প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতায় সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদারতা ও সাংবিধানিক চেতনার পরিপক্বতা। রাষ্ট্রপতি এমন একটি পদ, যিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে সমগ্র রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাই তাঁকে নির্বাচনের প্রক্রিয়াও এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও তা সংঘাতময় না হয়ে সাংবিধানিক সৌন্দর্যের প্রতিফলন ঘটায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে প্রয়োজন সংযম, স্পষ্টতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বশীলতা। ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা নিয়ে যদি বাস্তবিকই সাংবিধানিক অস্পষ্টতা থেকে থাকে, তবে নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বিতর্কের অপেক্ষা না করে উপযুক্ত সাংবিধানিক ও আইনগত ফোরামে বিষয়টির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নির্ধারণ করা উচিত। এতে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি কমবে।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে প্রতিটি সাংবিধানিক পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি নির্মাণ করে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা, সাংবিধানিক ব্যাখ্যা ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে, সেগুলোকে ক্ষমতার প্রতিযোগিতার সংকীর্ণ দৃষ্টিতে নয়, রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞা ও দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক স্বার্থের আলোকে বিবেচনা করাই হবে সময়ের সবচেয়ে দায়িত্বশীল পথ।
সানা/আপ্র/১৪/৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ: ইতিহাস মুছে নতুন ইতিহাস লেখার চেষ্টা কেন
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ: ইতিহাস মুছে নতুন ইতিহাস লেখার চেষ্টা কেন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর...

বেসরকারি চাকরিজীবীদের অধিকার নিয়ে আর কালক্ষেপণ নয়
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেসরকারি চাকরিজীবীদের অধিকার নিয়ে আর কালক্ষেপণ নয়

দেশের শ্রমবাজারের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি মানুষ বেসরকারি খাতের সঙ্গে যুক্ত, অথচ তাঁদের বড় একটি অংশ এখনো...

যাত্রীবেশে গাড়িতে অপরাধীচক্র, রুখবে কে?
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যাত্রীবেশে গাড়িতে অপরাধীচক্র, রুখবে কে?

মানুষ কি এখন পথে বের হওয়ার আগে শুধু নিজের ভাগ্যকেই দায়ী করবে? দিনে-রাতে গণপরিবহনে উঠবে, মহাসড়কে চলবে...

শুধু হুঁশিয়ারি নয়, হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধে চাই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শুধু হুঁশিয়ারি নয়, হাসপাতালে অনিয়ম বন্ধে চাই দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা

সরকারি হাসপাতাল মানুষের শেষ ভরসা। বিশেষ করে ডেঙ্গুর মতো রোগের প্রাদুর্ভাবের সময়ে অসুস্থ মানুষ যখন সর...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

জুয়া ও মাদক অনেক অপরাধের মূল কারণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বর্তমানে সংঘটিত অনেক অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদককে অন্যতম মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, অপরাধের পর শুধু গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি দিলেই এটা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অপরাধ কেন সংঘটিত হচ্ছে, তার মূল কারণ খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করতে হবে। প্রিয় পাঠক, মন্ত্রীর কথার সঙ্গে আপনি কি একমত?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 2 ঘন্টা আগে