দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হতে পারে এমন শঙ্কার কথা জানিয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে বিশেষ সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে, বিষয়টির সঙ্গে একমত নয় র্যাব। বিশেষ এই বাহিনীর মতে, এমন কোনো হুমকি নেই এবং অপরাধীরা হামলা করার সাহস করবে না।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) কাওরান বাজারের র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, এরকম কোনো আশঙ্কা বা থ্রেট এই মুহূর্তে আমরা দেখছি না। আমরা প্রত্যাশা করছি, অপরাধীরা এই ধরনের সাহস অন্তত করবে না। নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় আমাদের ডিপ্লোমেন্ট রয়েছে।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার আশঙ্কা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা যেকোনো থ্রেট ও ঝুঁকি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে থাকি। এই বিষয়টি আমরা জেনেছি। আমরা আমাদের যে সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা আছে, সরকারি অফিস এবং পাবলিক বা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে স্থাপনাগুলো আছে সবগুলোর নিরাপত্তায় আমাদের টহল, গোয়েন্দা টিম ও গোয়েন্দা নজরদারি চলমান আছে। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নিয়োজিত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও পল্টন থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে দেশি-বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, গুলি, দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ পাঁচজনকে গ্রেফতারের বিষয়েও জানায় র্যাব। খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, গত ২৭ এপ্রিল র্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, মোহাম্মদপুর ও পল্টন এলাকার বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে। পরে র্যাব-২ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আব্দুর রহমান ওরফে রহমত উল্লাহ (৪২), মনিরুল ইসলাম ওরফে রাডার মনির (৪৯), মো. নুর হোসেন (৫০), আল আমিন ওরফে ফাটা আল আমিন (২৪) এবং মো. সুর নবী (১৯)। গ্রেফতারের সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ৩৩ রাউন্ড গুলি, দুটি চাপাতি এবং এক লাখ দুই হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। এছাড়া একই রাতে মোহাম্মদপুরের ৪০ ফিট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি দেশীয় একনলা বন্দুক ও একটি কার্তুজ জব্দ করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে খালিদুল হক হাওলাদার বলেন, অপরাধীরা অপরাধ যাতে করতে না পারে সে জন্য ২৪টি টহল টিম মোহাম্মদপুর, আদরবর, ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট ও শেরে বাংলা নগর এলাকায় কাজ করছে। আমরা মোটরসাইকেলে পেট্রোলিং করেছি। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও জয়েন্টলি কোলাবরেশনে আমরা কাজ করছি। একসময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী যখন ছিল, আমরা সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশসহ এই জেনেভা ক্যাম্পে ডজনের উপরে ব্লক রেট দিয়েছি। জেনেভা ক্যাম্পের যে মাদকের প্রবণতা আমরা অনেকাংশে কমিয়েছি। আমাদের এই ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। সামনেও চলমান থাকবে।
সানা/আপ্র/২৯/৪/২০২৬