গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

মেনু

মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সম্মানী প্রসঙ্গ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৪৫ পিএম, ১১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ০২:২১ এএম ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সম্মানী প্রসঙ্গ
ছবি

মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালে শত্রুসেনাদের রুখে দিয়েছিল। হিমালয়ের মতো অটল থেকে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করেছিল- বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা।

গাজী রুহুল আমিন===
মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান কথাটা শুনলেই গর্বে বুক ভরে যায়। মাতা-পিতার বেপরোয়া সন্তানরাই ১৯৭১ সালে শত্রুসেনাদের রুখে দিয়েছিল। নিশ্চিত মৃত্যু হবে জেনেও যারা শত্রুসেনাদের মুখোমুখি হতে ভয় পায়নি। জাতির সেই মাহেন্দ্রক্ষণে নিজের প্রাণের চেয়েও দেশ ও জাতির ভাগ্যকে যারা অগ্রাধিকার দিয়েছিল এবং অকাতরে প্রাণ দিয়ে জাতিকে উপহার দিয়েছিল নতুন মানচিত্র। যারা হিমালয়ের মতো অটল থেকে শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করেছিল, নিঃসন্দেহে তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা। আর এই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতা পরবর্তী সকল সরকারই কমবেশি মূল্যায়ন করেছে। তবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে কতটুকু মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে।     

প্রসঙ্গক্রমে একজন বরেণ্য প্রবন্ধকারের প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি। প্রবন্ধের নাম পণ্ডিত মহাশয়। জেলা সদর থেকে কালেক্টর মহোদয় এসেছেন বিদ্যালয় পরিদর্শনে। সাথে এনেছেন একটা কুকুর। তার আবার ৩ খানা পা। পণ্ডিত মহাশয় জেনে গেছেন ঐ কুকুরটির জন্যে সাহেবের মাসে খরচ হয় ৭৫ টাকা। পণ্ডিত মহাশয়ের সংসারে ৮ জন সদস্য। তিনি নিজে, স্ত্রী, বৃদ্ধ পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা, দূরসর্ম্পকের পিসি ও একজন কাজের মহিলা। পণ্ডিত মহাশয়ের বেতন মাসে মাত্র ২৫ টাকা।

বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে কালেক্টর মহোদয় বিদায় নিলেন। পণ্ডিত মহাশয় বিষণ্নবদনে বসে আছেন। অনেকক্ষণ কেটে গেল। হঠাৎ করে পণ্ডিত মহাশয় ছাত্রদের বললেন-বাবারা একটা অঙ্ক কষো তো। ছাত্ররা শ্লেট পেন্সিল হাতে নিলো । পণ্ডিত মহাশয় বললেন- সাহেব সাথে করে একটা কুকুর এনেছিল দেখেছিলে? ঐ কুকুরের কয়টা পা ছিল বলো দেখি? ছাত্ররা বলল-তিনটা। পণ্ডিত মহাশয় আবার বললেন-ঐ কুকুরের জন্যে সাহেবের মাসে খরচ হয় ৭৫ টাকা। আর আমার বেতন মাত্র ২৫ টাকা হলে ঐ কুকুরের কয়টা পায়ের সমান আমার ৮ জনের পরিবার। ছাত্ররা নির্বাক হয়ে পণ্ডিত মহাশয়ের মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল।

এইবার আসুন আসল কথায়। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্ত সম্মানী নিয়ে কথা বলি। ২০১৫ সালে বাজার দরের ওপর ভিত্তি করে ৬ জনের একটা পরিবারের মাসিক ব্যয়ের আলোকে সরকারি কর্মচারিদের বেতন স্কেল তৈরি করা হয়, যা নিম্ন রূপ।

*১ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ৭৮,০০০/= টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*২ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ৬৬,০০০/=টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ১,৩২,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৩ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ৫৬,৫০০/=টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ১, ১৩,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৪ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ৫০,০০০/= টাকা তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ১,০০,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৫ নং গ্রেড  ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ৪৩,০০০/= টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ৮৬,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৬ নং গ্রেড  ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ৩৫,৫০০/= টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ৭১,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৭ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ২৯,০০০/= টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ৫৮,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৮ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল  ২৩,০০০/= টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ৪৭,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৯ নং গ্রেড  ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ২২,০০০/=  টাকা তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ৪৫,১০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*১০ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ১৬,০০০/= টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ৩২,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।


বাকি গ্রেডগুলোর কথা বাদ রেখে এবার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানীর গ্রেডটা খুঁজে দেখি। ৯ম গ্রেডের মূল বেতন ২২,০০০/= টাকা আর ১০ম গ্রেডের মূল বেতন ১৬,০০০/= টাকা হলে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা প্রদানের গ্রেড হয় ৯ম ও ১০ম গ্রেডের মাঝে। অথচ মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের তকমায় ভূষিত বীর মুক্তিযোদ্ধা। আর আমাদের সরকার বাহাদুর জাতীয় অনুষ্ঠানে ঢোল সহরত করে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরের সম্মান দিয়ে থাকেন। বলুন তো মুক্তিযোদ্ধাদের লজ্জা রাখার জায়গা কোথায়?

বীর তো বীরই। সকল অবস্থাতেই তাঁরা মর্যাদার আসনে থাকবেন। বলুন তো ২, ৫০,০০০ মুক্তিযোদ্ধাদের কতজন সত্যিকার অর্থে স্বচ্ছল। কতজনের স্বক্ষমতা আছে ভালো মানের খাবার খাওয়ার? ভালো মানের বাসায় বসবাস করার? নিজস্ব গাড়ি আছে কতজনের? উন্নত চিকিৎসার জন্যে বিদেশে যাওয়ার স্বক্ষমতা আছে কতজনের? 
অথচ এই দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক লুট হয়। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়। লুটকারী এবং অবৈধ সম্পদ উপার্জনকারীরাই রাজকীয় জীবন যাপন করে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন পরিক্রমা উপস্থাপন করলে বীর খেতাবটির অবমাননা করা হয় কিনা- বিবেচনা করুন এবং এই বীর খেতাবের মর্যাদা রক্ষা করতে সকল ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন পরিক্রমা সকলের উর্ধ্বে রাখতে হবে কিনা, সেই উত্তরটা সরকারই দিবে বলে আশা রাখি। 
লেখক: গাজী রুহুল আমিন (যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা); আহবায়ক, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা কমান্ড, পাইকগাছা, খুলনা।
সানা/আপ্র/১১/৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

বঙ্গোপসাগরে গ্যাস চুরি ঠেকাতে বাংলাদেশের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি
০৯ জুলাই ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে গ্যাস চুরি ঠেকাতে বাংলাদেশের পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি

সিরাজুল ইসলাম    বঙ্গোপসাগর বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি সমুদ্র নয়; এটি দেশের ভবিষ্...

পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল বন্ধ হোক
০৯ জুলাই ২০২৬

পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল বন্ধ হোক

ওসমান গনিএকটি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান এবং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা পরিমাপের সবচ...

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি
০৯ জুলাই ২০২৬

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি

মো. জাহিদুল হাসানমাওয়া উপজেলার সোনাতুন্দি গ্রামের হাট দারিয়াপুর স্কুলের করিম মাস্টারকে কখনো ঢাকায় আস...

আবুল কাসেম ফজলুল হক: চরিত্রবান বুদ্ধিজীবী
০৮ জুলাই ২০২৬

আবুল কাসেম ফজলুল হক: চরিত্রবান বুদ্ধিজীবী

ড. কুদরত-ই-হুদাআমার জ্ঞানবুদ্ধি হওয়ার পর থেকে দেখে আসছি, প্রতি পাঁচ বছর পরপর কিছু কিছু মানুষ হঠাৎ বা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বাক্প্রতিবন্ধী ববি বেগম হত্যায় গ্রেফতার পাঁচ, চলছে জিজ্ঞাসাবাদ

নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনে হামলা ও লুটের শিকার হয়ে বাক্প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ ববি বেগম নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল পর্যন্ত নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন যে, এই আসামিদের যথাযথ বিচারের আওতায় এনে বৃদ্ধা হত্যার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে