গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

মেনু

মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সম্মানী প্রসঙ্গ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৪৫ পিএম, ১১ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৫:০৮ এএম ২০২৬
মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সম্মানী প্রসঙ্গ
ছবি

মুক্তিযোদ্ধারা ১৯৭১ সালে শত্রুসেনাদের রুখে দিয়েছিল। হিমালয়ের মতো অটল থেকে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করেছিল- বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা।

গাজী রুহুল আমিন===
মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান কথাটা শুনলেই গর্বে বুক ভরে যায়। মাতা-পিতার বেপরোয়া সন্তানরাই ১৯৭১ সালে শত্রুসেনাদের রুখে দিয়েছিল। নিশ্চিত মৃত্যু হবে জেনেও যারা শত্রুসেনাদের মুখোমুখি হতে ভয় পায়নি। জাতির সেই মাহেন্দ্রক্ষণে নিজের প্রাণের চেয়েও দেশ ও জাতির ভাগ্যকে যারা অগ্রাধিকার দিয়েছিল এবং অকাতরে প্রাণ দিয়ে জাতিকে উপহার দিয়েছিল নতুন মানচিত্র। যারা হিমালয়ের মতো অটল থেকে শ্রেষ্ঠত্বের গৌরব অর্জন করেছিল, নিঃসন্দেহে তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা। আর এই বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতা পরবর্তী সকল সরকারই কমবেশি মূল্যায়ন করেছে। তবে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান হিসেবে কতটুকু মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা নিয়ে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে।     

প্রসঙ্গক্রমে একজন বরেণ্য প্রবন্ধকারের প্রবন্ধ থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছি। প্রবন্ধের নাম পণ্ডিত মহাশয়। জেলা সদর থেকে কালেক্টর মহোদয় এসেছেন বিদ্যালয় পরিদর্শনে। সাথে এনেছেন একটা কুকুর। তার আবার ৩ খানা পা। পণ্ডিত মহাশয় জেনে গেছেন ঐ কুকুরটির জন্যে সাহেবের মাসে খরচ হয় ৭৫ টাকা। পণ্ডিত মহাশয়ের সংসারে ৮ জন সদস্য। তিনি নিজে, স্ত্রী, বৃদ্ধ পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা, দূরসর্ম্পকের পিসি ও একজন কাজের মহিলা। পণ্ডিত মহাশয়ের বেতন মাসে মাত্র ২৫ টাকা।

বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে কালেক্টর মহোদয় বিদায় নিলেন। পণ্ডিত মহাশয় বিষণ্নবদনে বসে আছেন। অনেকক্ষণ কেটে গেল। হঠাৎ করে পণ্ডিত মহাশয় ছাত্রদের বললেন-বাবারা একটা অঙ্ক কষো তো। ছাত্ররা শ্লেট পেন্সিল হাতে নিলো । পণ্ডিত মহাশয় বললেন- সাহেব সাথে করে একটা কুকুর এনেছিল দেখেছিলে? ঐ কুকুরের কয়টা পা ছিল বলো দেখি? ছাত্ররা বলল-তিনটা। পণ্ডিত মহাশয় আবার বললেন-ঐ কুকুরের জন্যে সাহেবের মাসে খরচ হয় ৭৫ টাকা। আর আমার বেতন মাত্র ২৫ টাকা হলে ঐ কুকুরের কয়টা পায়ের সমান আমার ৮ জনের পরিবার। ছাত্ররা নির্বাক হয়ে পণ্ডিত মহাশয়ের মলিন মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল।

এইবার আসুন আসল কথায়। আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাপ্ত সম্মানী নিয়ে কথা বলি। ২০১৫ সালে বাজার দরের ওপর ভিত্তি করে ৬ জনের একটা পরিবারের মাসিক ব্যয়ের আলোকে সরকারি কর্মচারিদের বেতন স্কেল তৈরি করা হয়, যা নিম্ন রূপ।

*১ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ৭৮,০০০/= টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*২ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ৬৬,০০০/=টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ১,৩২,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৩ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ৫৬,৫০০/=টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ১, ১৩,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৪ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ৫০,০০০/= টাকা তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ১,০০,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৫ নং গ্রেড  ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ৪৩,০০০/= টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ৮৬,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৬ নং গ্রেড  ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ৩৫,৫০০/= টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ৭১,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৭ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ২৯,০০০/= টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ৫৮,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৮ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল  ২৩,০০০/= টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ৪৭,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*৯ নং গ্রেড  ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ২২,০০০/=  টাকা তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ৪৫,১০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।

*১০ নং গ্রেড ২০১৫ সালে যার মূল বেতন ছিল ১৬,০০০/= টাকা, তা ২০২৬ সালে বাড়িয়ে ৩২,০০০/= টাকা সুপারিশ করা হয়েছে।


বাকি গ্রেডগুলোর কথা বাদ রেখে এবার মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানীর গ্রেডটা খুঁজে দেখি। ৯ম গ্রেডের মূল বেতন ২২,০০০/= টাকা আর ১০ম গ্রেডের মূল বেতন ১৬,০০০/= টাকা হলে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা প্রদানের গ্রেড হয় ৯ম ও ১০ম গ্রেডের মাঝে। অথচ মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের তকমায় ভূষিত বীর মুক্তিযোদ্ধা। আর আমাদের সরকার বাহাদুর জাতীয় অনুষ্ঠানে ঢোল সহরত করে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরের সম্মান দিয়ে থাকেন। বলুন তো মুক্তিযোদ্ধাদের লজ্জা রাখার জায়গা কোথায়?

বীর তো বীরই। সকল অবস্থাতেই তাঁরা মর্যাদার আসনে থাকবেন। বলুন তো ২, ৫০,০০০ মুক্তিযোদ্ধাদের কতজন সত্যিকার অর্থে স্বচ্ছল। কতজনের স্বক্ষমতা আছে ভালো মানের খাবার খাওয়ার? ভালো মানের বাসায় বসবাস করার? নিজস্ব গাড়ি আছে কতজনের? উন্নত চিকিৎসার জন্যে বিদেশে যাওয়ার স্বক্ষমতা আছে কতজনের? 
অথচ এই দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যাংক লুট হয়। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়। লুটকারী এবং অবৈধ সম্পদ উপার্জনকারীরাই রাজকীয় জীবন যাপন করে। পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন পরিক্রমা উপস্থাপন করলে বীর খেতাবটির অবমাননা করা হয় কিনা- বিবেচনা করুন এবং এই বীর খেতাবের মর্যাদা রক্ষা করতে সকল ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের জীবন পরিক্রমা সকলের উর্ধ্বে রাখতে হবে কিনা, সেই উত্তরটা সরকারই দিবে বলে আশা রাখি। 
লেখক: গাজী রুহুল আমিন (যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা); আহবায়ক, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা কমান্ড, পাইকগাছা, খুলনা।
সানা/আপ্র/১১/৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

নিরাপদ খাদ্য কি এখন জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন?
১০ জুন ২০২৬

নিরাপদ খাদ্য কি এখন জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন?

ভেজালের রাষ্ট্রনীতি

মাদকাসক্তি ও প্যাথলজিকাল জেলাসি: দাম্পত্যকলহের অদৃশ্য বিষ
০৯ জুন ২০২৬

মাদকাসক্তি ও প্যাথলজিকাল জেলাসি: দাম্পত্যকলহের অদৃশ্য বিষ

মাদকাসক্তি আমাদের চিরাচরিত পারিবারিক মেলবন্ধনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মাদকের প্রভাব শুধু এক...

বিদ্যুতের বাড়তি মূল্যের বোঝা কার ঘাড়ে?
০৩ জুন ২০২৬

বিদ্যুতের বাড়তি মূল্যের বোঝা কার ঘাড়ে?

পদ্ধতিগত অপচয় নাকি হরিলুট

তোফায়েল ভাইকে নিয়ে কিছু স্মৃতি, কিছু কথা
০২ জুন ২০২৬

তোফায়েল ভাইকে নিয়ে কিছু স্মৃতি, কিছু কথা

সালেহ উদ্দিন আহমদতোফায়েল আহমেদ, আমাদের তোফায়েল ভাই চলে গেলেন। যারা তাকে শুধু হাল-আমলের চশমা দিয়ে চেন...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

প্রতিবেদনের ভিত্তি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে টিআইবির প্রতিক্রিয়া

টিআইবির প্রতিবেদন শুধু পত্রিকার কাটিংয়ের ওপর নির্ভর করে প্রণীত হয়-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, গবেষণা প্রতিবেদনকে ঢালাওভাবে পত্রিকার কাটিং-নির্ভর বলা মূল বিষয়কে পাশ কাটানোর ব্যর্থ প্রয়াস ছাড়া কিছু নয়। আপনি কি মনে করেন যে, টিআইবির এই বিবৃতি যৌক্তিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে