ত্বকের সুরক্ষায় নারীদের জন্য অভিনব এক স্মার্ট গহনা বাজারে এনেছে নতুন একটি স্টার্টআপ। ‘জেম’ নামের এ স্মার্ট নেকলেস রিয়াল-টাইমে ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির মাত্রা পরিমাপ করতে পারে এবং ব্যবহারকারীকে প্রয়োজনীয় সতর্কবার্তাও জানায়।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘নাইনটি’ নামের স্টার্টআপটি এ স্মার্ট গহনা বাজারে আনার ঘোষণা দিয়েছে। নারীরা যাতে সারাদিনে অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছে।
স্টার্টআপটির প্রতিষ্ঠাতা স্টেসি সালভি। তিনি জনপ্রিয় ফিটনেস ব্র্যান্ড ফিটবিটে প্রায় আট বছর কাজ করেছেন। গুগল ফিটবিট অধিগ্রহণের আগে ও পরের সময় মিলিয়েই তার এ অভিজ্ঞতা।
গোলাকার নকশার এ নেকলেসে রয়েছে বিশেষ সেন্সর, যা অতিবেগুনি-এ এবং অতিবেগুনি-বি রশ্মির মাত্রা পরিমাপ করতে সক্ষম। একজন ব্যবহারকারী দিনের বিভিন্ন সময়ে রোদে কতটা সময় কাটাচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করে তথ্য হালনাগাদ হবে।
স্টার্টআপটির দাবি, ব্যবহারকারী বাইরে হাঁটছেন কিংবা রোদেলা জানালার পাশে বসে আছেন—উভয় ক্ষেত্রেই ‘জেম’ অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসার সঠিক হিসাব দিতে পারবে।
নেকলেস থেকে সংগৃহীত তথ্য একটি বিশেষ অ্যাপে পাঠানো হবে। অ্যাপটি ব্যবহারকারীর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত প্রোফাইল তৈরি করবে। ওই প্রোফাইলের মাধ্যমে জানা যাবে একজন মানুষের ত্বক কতটা অতিবেগুনি রশ্মি সহ্য করতে পারে, কখন সানস্ক্রিন ব্যবহার করা প্রয়োজন এবং কতক্ষণ রোদে থাকা নিরাপদ।
একই সঙ্গে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সময়োপযোগী স্মারক বার্তাও পাবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ফলে গরমের মৌসুমে এবং এর বাইরেও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের জন্য কার্যকর হতে পারে।
নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জেম’কে পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির নতুন একটি শ্রেণি হিসেবে বর্ণনা করেছে। বাজারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের অতিবেগুনি রশ্মি পরিমাপক সেন্সর থাকলেও লকেটযুক্ত নেকলেস আকারে এমন পণ্য তুলনামূলকভাবে নতুন।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে ‘জেম’ কেনা যাচ্ছে। এর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০ ডলার। তবে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্রেতারা সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ ছাড়ে ২০০ ডলারে নেকলেসটি কিনতে পারবেন। সূত্র: এনগ্যাজেট
সানা/আপ্র/১৩/৬/২০২৬