গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

ক্লিনিক থেকে ক্লিনিকে, বাড়ছে ‘অ্যাসথেটিক’ অর্থনীতি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭:১৭ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৮:৪৭ এএম ২০২৬
ক্লিনিক থেকে ক্লিনিকে, বাড়ছে ‘অ্যাসথেটিক’ অর্থনীতি
ছবি

প্রতীকী ছবি

শোয়েব সাম্য সিদ্দিক ====

ঢাকার বাণিজ্যিক ভবনগুলোর চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। একই ভবনে রেস্তোরাঁর পাশের তলাতেই দেখা মিলছে লেজার অ্যাসথেটিক ক্লিনিকের। গত দুই দশকে সৌন্দর্য চিকিৎসা সীমিত পরিসর ছাড়িয়ে শহুরে জীবনের নিয়মিত অংশ হয়ে উঠেছে। একসময় যা ছিল উচ্চ আয়ের মানুষের বিলাসিতা, এখন তা মধ্যবিত্ত চাকরিজীবী, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের কাছেও সহজলভ্য। অনেকের কাছে এটি আর বিলাসিতা নয়, আত্মপরিচর্যার স্বাভাবিক অনুষঙ্গ। তবে এই পরিবর্তন শুধু সামাজিক প্রবণতার ফল নয়, এর পেছনে রয়েছে শক্তিশালী এক অর্থনৈতিক বাস্তবতা।

বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা বাজারের আকার এখন প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা, অর্থাৎ বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৮০০ থেকে ৮২৫ মিলিয়ন ডলার। এই বাজার মূলত তিনটি খাতে গড়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড় অংশ প্রসাধনী ও ত্বক পরিচর্যার পণ্যের খুচরা বিক্রি-ক্রিম, সিরাম, সানস্ক্রিন, মেকআপ ও চুলের যত্নের পণ্য, যা দোকান, সুপারশপ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিক্রি হচ্ছে। একটি বাজার পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালে শুধু ত্বক পরিচর্যা পণ্যের বাজারই ১৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর পরেই রয়েছে পার্লার ও সেলুন সেবা, যেখানে হাজারও ছোট প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত অবদান বাজারকে বড় করেছে। আর সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে চিকিৎসাভিত্তিক অ্যাসথেটিক সেবা। বোটক্স, ফিলার, লেজার থেরাপি, পিআরপি ও থ্রেড লিফটের মতো সেবার বাজার এখন প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার, যা মোট বাজারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

এই উপখাতের আকার নিচ থেকে হিসাব করলেও মোটামুটি একই চিত্র পাওয়া যায়। একটি ক্লিনিকে বোটক্সের একেকটি সেশনের খরচ ৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। বোটক্স, ফিলার ও থ্রেড লিফট মিলিয়ে পূর্ণ মুখের চিকিৎসায় লাগে ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকা, যার ফল সাধারণত ৪ থেকে ৬ মাস স্থায়ী হয়; ফলে গ্রাহককে বারবার সেবা নিতে হয়। একটি মাঝারি ক্লিনিক মাসে ১৫ থেকে ২০টি সেবা দিলেই বছরে আয় হয় প্রায় ৫০ থেকে ৭০ লাখ টাকা; বড় হাসপাতালভিত্তিক বা চেইন প্রতিষ্ঠানের আয় এর কয়েক গুণ। দেশে এক থেকে দুই হাজার সক্রিয় সেবাকেন্দ্র ধরলে এই উপখাতের বাজার প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছানো অস্বাভাবিক নয়, যদিও এসবের কোনো সরকারি শুমারি নেই। তবু চিত্রটি স্পষ্ট, খুচরা পণ্য সবচেয়ে বড় অংশ, পার্লার সেবা সবচেয়ে বিস্তৃত, আর চিকিৎসাভিত্তিক অ্যাসথেটিক সেবাই সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে।

খাতটির ভেতরের চিত্র দেখলে এর বিস্তার আরো স্পষ্ট হয়। ঢাকায় এখন এমন পরিচর্যা কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে একাধিক শাখায় শতাধিক চিকিৎসক ও থেরাপিস্ট কাজ করেন, যাদের বড় অংশ নারী। দেশে লেজারভিত্তিক অ্যাসথেটিক চিকিৎসার যাত্রা শুরু হয় ২০০৪ সালে, দাগ-তিল অপসারণ ও হেয়ার রিমুভাল দিয়ে, আর এখন যুক্ত হয়েছে আরো আধুনিক প্রযুক্তি। এতে বোঝা যায়, খাতটি শুধু প্রযুক্তিতেই এগোচ্ছে না, নারীর কর্মসংস্থানেরও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়ছে; তুরস্কভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান দেশের প্রথম পূর্ণাঙ্গ প্রসাধনী অস্ত্রোপচার হাসপাতাল চালু করেছে, যা প্রযুক্তি, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতায় নতুন গতি আনছে।

এই খাতের প্রভাব গ্রাহকের অভিজ্ঞতাতেও স্পষ্ট। কিছুদিন আগেও বোটক্স বা ফিলারের জন্য অনেককে থাইল্যান্ডে যেতে হতো, এখন তারা একই সেবা দেশেই নিচ্ছেন। অর্থনীতির ভাষায় এটি আমদানি প্রতিস্থাপনের ছোট কিন্তু বাস্তব উদাহরণ, যাতে চিকিৎসা ব্যয়ের অর্থ দেশেই থাকে, কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমে। অবশ্য উচ্চমানের অস্ত্রোপচারভিত্তিক চিকিৎসার জন্য এখনও অনেকে থাইল্যান্ড, ভারত বা তুরস্কে যান; তবে অ-অস্ত্রোপচারভিত্তিক সেবায় দেশীয় সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। বৈশ্বিক অ্যাসথেটিক মেডিসিন বাজারে যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে, ইউরোপে অ্যান্টি-এজিং চাহিদা দীর্ঘদিন স্থিতিশীল, তবে সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল। চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও থাইল্যান্ডে মধ্যবিত্তের আয় বৃদ্ধি, সৌন্দর্যসচেতনতা ও মেডিক্যাল ট্যুরিজম এই প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি।

দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ড এ খাতকে বড় শিল্পে পরিণত করেছে, তুরস্ক চুল প্রতিস্থাপনে বিশ্বের সেরা, আর ভারত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কম খরচে উন্নত চিকিৎসা দিয়ে লাখো বিদেশি রোগী আকর্ষণ করছে, যাতে পর্যটন ও হোটেল খাতও লাভবান হচ্ছে। বাংলাদেশের বাজার এখনও মূলত অভ্যন্তরীণ চাহিদানির্ভর; আমরা এখনো নিজেদের নাগরিকদের বিদেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া কমানোর পর্যায়ে আছি। তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলছে, সঠিক নীতিমালা, দক্ষ জনবল ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে এই বাজারও অল্প সময়ে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত হতে পারে।

এই খাতের বিস্তারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে সৌন্দর্যবিষয়ক কনটেন্ট, বিফোর-আফটার ছবি ও ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রচারণা অ্যাসথেটিক চিকিৎসার গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। তবে ফিল্টার ও সম্পাদিত ছবিতে তৈরি নিখুঁত সৌন্দর্যের ধারণা অনেকের নিজের চেহারা সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করছে; আত্মমর্যাদা অতিরিক্ত বাহ্যিক স্বীকৃতির ওপর নির্ভরশীল হলে উদ্বেগ ও আত্মঅসন্তুষ্টি বাড়তে পারে বলে মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন।

অন্যদিকে অনেকে সচেতন সিদ্ধান্তেই এসব চিকিৎসা নেন, যা তাদের কাছে আত্মবিশ্বাস ও পেশাগত উপস্থাপনার অংশ। এই খাতের ইতিবাচক দিকও কম নয়। নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক বেশি, দেশীয় প্রসাধনী শিল্পও সম্প্রসারিত হচ্ছে, আর বিদেশে চিকিৎসার ব্যয় দেশে ধরে রাখা গেলে বৈদেশিক মুদ্রার চাপও কমে।

তবে ঝুঁকিও কম নয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা নিয়ন্ত্রণের ঘাটতি। বোটক্স, ডার্মাল ফিলারসহ ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসা নিবন্ধিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হওয়ার কথা, কিন্তু এ খাতের জন্য এখনও স্বতন্ত্র লাইসেন্সিং ও কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো নেই। ভুল প্রয়োগ গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে; আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাহিত্যে ত্বকের ক্ষতি থেকে বিরল ক্ষেত্রে স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনাও নথিভুক্ত আছে। পিআরপি থেরাপিতেও কঠোর জীবাণুমুক্ত পরিবেশ জরুরি, অথচ কোথাও কোথাও প্রশিক্ষণহীন কর্মীদের দিয়ে সেবা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

খরচও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উন্নতমানের বোটক্স বা ফিলার চিকিৎসায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা, আর পূর্ণাঙ্গ মুখ পুনর্গঠনে লাখ টাকারও বেশি লাগতে পারে, ফলে এই সেবা এখনও মূলত উচ্চ ও উচ্চ-মধ্যবিত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সামাজিক সংকোচও পুরোপুরি কাটেনি; অনেকে প্রকাশ্যে এসব চিকিৎসার কথা বলতে চান না, যা বাজারের স্বচ্ছতা কমায়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আমদানিনির্ভরতা; অধিকাংশ যন্ত্রপাতি ও ইনজেক্টেবল উপকরণ বিদেশ থেকে আসে বলে প্রকৃত দেশীয় মূল্য সংযোজন কতটা, ওই প্রশ্ন থেকেই যায়।

কে যোগ্য চিকিৎসক, কোন ক্লিনিক নিরাপদ, তা যাচাইয়ের কার্যকর কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা নেই। খাতের বড় অংশ করজালের বাইরে থাকায় রাষ্ট্র রাজস্ব হারাচ্ছে, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতিও বিস্তৃত হচ্ছে। চিকিৎসাশিক্ষায় অ্যাসথেটিক মেডিসিনকে স্বীকৃত বিশেষায়িত শাখা হিসেবে গুরুত্ব না দেওয়ায় দক্ষ জনবল তৈরির পথও সীমিত। অথচ সমন্বিত মানসনদ, নিবন্ধন ব্যবস্থা, কর কাঠামোর আওতায় আনা এবং ইনজেকশনভিত্তিক চিকিৎসার জন্য আলাদা লাইসেন্সিং চালু করা গেলে অল্প সময়েই এই খাতকে আরো নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব।

সৌন্দর্য চিকিৎসার এই ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি আমাদের সামনে এক দ্বৈত বাস্তবতা তুলে ধরছে। একদিকে এটি ভোগবাদ ও সামাজিক প্রতিযোগিতার প্রতিফলন, অন্যদিকে কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের একটি সম্ভাবনাময় খাত। প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার যৌথ এই বাজারকে তাই অবহেলা করার সুযোগ নেই। সঠিক নীতিমালা, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও মান নিশ্চিত করা গেলে এটি কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদাই পূরণ করবে না, ভবিষ্যতে রপ্তানিমুখী সেবা শিল্প হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে। প্রতিবেশী দেশগুলোর অভিজ্ঞতা বলছে, সেই সম্ভাবনা বাংলাদেশের সামনেও উন্মুক্ত।
লেখক: ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
সানা/আপ্র/২৯/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

রেন্টাল ও এলপিজির ভুল থেকে কি শিক্ষা নেবে বিদ্যুৎ বিতরণ খাত?
২৯ জুলাই ২০২৬

রেন্টাল ও এলপিজির ভুল থেকে কি শিক্ষা নেবে বিদ্যুৎ বিতরণ খাত?

এম এম মুসা======একটি প্রশ্ন করা যাক। খুব সহজ প্রশ্ন। বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি হলে টাকা যাবে কার পকেটে?...

তেলের পরে গ্যাসের লাইন: জ্বালানি সংকটের ভবিষ্যৎ কী
২৭ জুলাই ২০২৬

তেলের পরে গ্যাসের লাইন: জ্বালানি সংকটের ভবিষ্যৎ কী

আমীন আল রশীদ    জ্বালানি তেলের পরে এবার সিএনজি স্টেশনেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি। জ্...

চুলার আগুন থেকে শিল্পের চাকা- গ্যাস সংকটে বিপন্ন বাংলাদেশ
২৭ জুলাই ২০২৬

চুলার আগুন থেকে শিল্পের চাকা- গ্যাস সংকটে বিপন্ন বাংলাদেশ

ড. হারুন রশীদ    সকালে রান্নাঘরে চুলা জ্বলছে না। দুপুরে পরিবারের খাবার তৈরি হয়নি...

দাম্পত্য সম্পর্কে মাদকের প্রভাব
২৭ জুলাই ২০২৬

দাম্পত্য সম্পর্কে মাদকের প্রভাব

বিবাহ একটি শরীর বৃত্তিয়-মনো- সামাজিক বন্ধন যা পারস্পরিক বিশ্বাস,  সম্মান, স্বীকৃতি,  সহভাগ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 18 ঘন্টা আগে