ইলন মাস্ক এখন এমন এক আর্থিক ও প্রযুক্তিগত অবস্থানে পৌঁছেছেন, যেখানে তিনি ইতিহাসের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। তার করপোরেট সাম্রাজ্য এতটাই বিস্তৃত ও বৈশ্বিক ব্যবস্থার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত যে, এর পতন প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
এ অবস্থার মধ্যেই তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা রেখে বিতর্কিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করে চলেছেন। স্পেসএক্সের বহুল প্রত্যাশিত শেয়ার বাজারে আসার আগমুহূর্তেও তিনি তার অনলাইন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মে তিনি ধারাবাহিকভাবে কট্টর ডানপন্থি মতাদর্শকে উসকে দেওয়ার মতো মন্তব্য করেছেন, যা বিভিন্ন দেশে অভিবাসনবিরোধী উত্তেজনা বাড়িয়েছে বলে সমালোচকরা অভিযোগ করছেন।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে এক সহিংস ঘটনার পর অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট আলোচনায় মাস্কের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। যুক্তরাজ্যের শীর্ষ নেতৃত্ব তার বক্তব্যকে উসকানিমূলক হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
এর আগে তিনি যুক্তরাজ্যের এক হত্যাকাণ্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অভিবাসন ও ভোট জালিয়াতি সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়েও মন্তব্য করেন, যা কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই বিতর্ক তৈরি করেছে বলে সমালোচকরা দাবি করেন।
মাস্কের মতাদর্শ অনুযায়ী, পশ্চিমা সভ্যতা অভিবাসন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং তথাকথিত সাংস্কৃতিক প্রভাবের কারণে সংকটে পড়ছে। এই অবস্থানকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে তার মতবিরোধ বাড়ছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অভিযোগ করেছেন, মাস্ক তার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভাজন তৈরি করছেন এবং বিদেশি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। এর জবাবে মাস্ক বলেন, অভিবাসন ও সহিংসতা নিয়ে জনমতের প্রতিক্রিয়াই এসব বিতর্কের মূল কারণ।
এক সময় যেকোনো বড় প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী এমন বিতর্কিত অবস্থান নিলে করপোরেট কাঠামোয় সংকট তৈরি হতো। তবে মাস্কের ক্ষেত্রে তার ব্যবসায়িক প্রভাব ও প্রযুক্তিগত সাম্রাজ্য এতটাই বিস্তৃত যে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, তার কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য শেয়ার বাজার অন্তর্ভুক্তি হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও পরোক্ষভাবে তার অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যের অংশ হয়ে যাবেন।
অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লাগাতার মন্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান আধুনিক করপোরেট ইতিহাসে এক নতুন ও অস্বাভাবিক নজির তৈরি করেছে।
সম্প্রতি এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সভ্যতার পতন ঘটলে অন্য কিছুর কোনো মূল্য থাকবে না।” সূত্র: অ্যাক্সিওস
সানা/আপ্র/১৩/৬/২০২৬