দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতাও নিশ্চিত করা জরুরি। জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সিরাজগঞ্জ ও খুলনায় বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার চুক্তি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের পর প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
চুক্তির আওতায় বন্ধ থাকা তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল দ্রুত চালু করতে বেসরকারি দুই উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড ইজারা পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অন্যদিকে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী মিলস লিমিটেড ইজারা পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের সঙ্গে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের পৃথক চুক্তি সই হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পাশে থাকবে সরকার এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করা গেলে কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবনের নিশ্চয়তা তৈরি হবে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতিতে ভূমিকা রাখবে।
দেশকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে নেওয়াকে সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশীয় উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে উৎসাহিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতি সহায়তা দেবে।
তিনি বলেন, জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়। সাধারণ মানুষকে অভাবের মধ্যে রেখে কিংবা তাদের মুখ বন্ধ করে কোনো রাষ্ট্র শক্তিশালী হতে পারে না।
সরকারের নীতির লক্ষ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি দেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যেখানে মানুষ বর্তমান অবস্থার চেয়ে ভালো থাকবে। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করাই সরকারের নীতির মূল উদ্দেশ্য। সবার সহযোগিতা নিয়ে সুন্দর ও শক্তিশালী দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
দেশে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানানোর কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ অবশ্যই আসবে এবং সরকার তা চায়। তবে একই সঙ্গে দেশের নিজস্ব বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদেরও উৎসাহিত করতে হবে। তাদের ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু নীতি সহায়তা প্রয়োজন, তা দেওয়া হবে।
তিনটি পাটকল ইজারা নেওয়া দুই ব্যবসায়ী গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো সফল হবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী এবং হ্যামকো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা বক্তব্য দেন।
সানা/আপ্র/১১/৮/২০২৬