গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ডেঙ্গু বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি বিপদ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৫৭ পিএম, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:১৯ এএম ২০২৬
ডেঙ্গু বাড়ছে, বাড়ি বাড়ি বিপদ
ছবি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১১৫ জন, যা এ বছর কোনো মাসে সর্বোচ্চ -ছবি সংগৃহীত

রাজধানীতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি এখন আর শুধু ড্রেন, ময়লার স্তূপ কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দুই বহুতল ভবনের মাঝের অন্ধকার ফাঁক, নিরাপত্তাকর্মীর ঘরের পাশে জমে থাকা পানি, ছাদের কোণ, বারান্দার ফুলের টব, টবের নিচের ট্রে, বালতি, প্লাস্টিকের ড্রাম, এসির পানি জমার স্থান কিংবা পরিত্যক্ত কোনো পাত্র-সামান্য জমে থাকা পানিই হয়ে উঠতে পারে এডিস মশার প্রজননস্থল।

রাজধানীর লালমাটিয়ার নিউ কলোনিতে সাম্প্রতিক মশকনিধন অভিযানে দুই ভবনের মাঝের স্যাঁতসেঁতে জায়গা ও আশপাশের জমে থাকা পানিতে এডিসের লার্ভা পাওয়ার ঘটনা সেই ঝুঁকিই সামনে এনেছে। বাইরে থেকে প্রায় চোখে না পড়া এমন স্থানই এডিসের জন্য নিরাপদ প্রজননক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ার আরেকটি কারণ ডেঙ্গুর দ্রুত বিস্তার। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯৫৫ জন। মারা যাওয়া দুজনই ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন দুজনের মৃত্যু নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১১ জনে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বরেই মারা গেছেন ১১৫ জন, যা এ বছর কোনো মাসে সর্বোচ্চ। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে ৭৬ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা বিভাগের অন্যান্য এলাকায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪১ জন। এ ছাড়া বরিশালে ৪৪, চট্টগ্রামে ২৪৬, খুলনায় ১৩০, ময়মনসিংহে ৩৭, রংপুরে ৪৪ এবং সিলেটে চারজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯৫৩ জন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭০ হাজার ১০৪ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৬৪ হাজার ৮২৭ জন। 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর তথ্য সংরক্ষণ করছে। এ সময়ে ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।

গত বছরও ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল ব্যাপক। সরকারি হিসাবে, ২০২৫ সালে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন প্রায় ১ লাখ ২ হাজার মানুষ।

চলতি বছর সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুর সংক্রমণ ও মৃত্যু দ্রুত বেড়েছে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি হিসাবে মাসটিতে ১১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল; পরের ২৪ ঘণ্টায় আরো দুজনের মৃত্যু হওয়ায় সেপ্টেম্বরের মৃত্যুসংখ্যা ১১৫-তে উঠেছে।

আগেরদিন ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৭৮২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং মারা গেছেন আটজন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ নতুন করে চিকিৎসার আওতায় আসছেন।

আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো, সেপ্টেম্বরে সংক্রমণের গতি দ্রুত বেড়েছে। এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর এক দিনে ১ হাজার ৬৫৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি ছয়জনের মৃত্যু হয়েছিল। তখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬২৭ এবং মৃত্যু ১৯০-এ পৌঁছেছিল।

ডেঙ্গু কি শুধু মশার কামড়ের ভয়? না। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হচ্ছে জ্বরকে অবহেলা করা কিংবা প্রতিটি জ্বরকে ডেঙ্গু ধরে নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়া - দুই চরম প্রবণতাই।

রাজধানীর মুগদা এলাকায় জ্বরে আক্রান্ত এক নারী প্রথমে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিয়ে দুই দিন অপেক্ষা করেছিলেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু নেগেটিভ আসে। আবার একই এলাকার আরেক পরিবারের সাতজনের মধ্যে ছয়জন জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর সবাই ডেঙ্গু পরীক্ষা করান; ফল নেগেটিভ আসে। অর্থাৎ রাজধানীসহ সারাদেশে নানা ধরনের ভাইরাস ও অন্যান্য সংক্রমণের জ্বরও চলছে।

কিন্তু ডেঙ্গুর মৌসুমে জ্বরকে সাধারণ জ্বর ভেবে দিনের পর দিন অপেক্ষা করাও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণের মধ্যে উচ্চ জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব ও শরীরে র‌্যাশ থাকতে পারে। এসব লক্ষণ অন্য অনেক রোগেও দেখা যায়। তাই শুধু উপসর্গ দেখে ডেঙ্গু নিশ্চিত করা যায় না।

জ্বর কমলেই বিপদ কেটে গেছে - এই ধারণা ভুল: ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক ভুলগুলোর একটি হলো জ্বর কমে গেলে রোগী সুস্থ হয়ে যাচ্ছেন ধরে নেওয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গুরুতর ডেঙ্গুর সংকটকাল সাধারণত অসুস্থতার তৃতীয় থেকে সপ্তম দিনের মধ্যে, অনেক ক্ষেত্রে জ্বর কমে যাওয়ার সময় শুরু হতে পারে। তখন তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, দ্রুত শ্বাস, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া, অতিরিক্ত দুর্বলতা, অস্থিরতা, বমি বা পায়খানায় রক্তের মতো সতর্কসংকেত দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

তাই জ্বর কমে গেছে বলে স্বাভাবিক কাজে ফিরে যাওয়া কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ বন্ধ করা ঠিক নয়। বিশেষ করে জ্বরের কয়েক দিন পর রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তনের দিকে পরিবারের সদস্যদের নজর রাখা প্রয়োজন।

পরীক্ষা হবে কখন, কোনটি? ডেঙ্গু সন্দেহ হলে রোগের কোন দিনে পরীক্ষা করা হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অসুস্থতার প্রথম সাত দিনে এনএস১ অ্যান্টিজেন বা ভাইরাস শনাক্তকারী পরীক্ষার সঙ্গে অ্যান্টিবডি পরীক্ষা ব্যবহার করা যায়। এনএস১ সাধারণত প্রথম সাত দিনের মধ্যে শনাক্তযোগ্য থাকে। সপ্তম দিনের পর অ্যান্টিবডি পরীক্ষা বেশি উপযোগী হতে পারে। আবার প্রথম দিকে এনএস১ নেগেটিভ এলেই ডেঙ্গু পুরোপুরি বাদ দেওয়া যায় না।

অতএব, জ্বরের প্রথম দিনেই একটি পরীক্ষা নেগেটিভ এসেছে বলে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া ঠিক নয়। রোগীর উপসর্গ, অসুস্থতার দিন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

এডিসের সবচেয়ে কাছের ঠিকানা আপনার ঘরেই: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রাক-বর্ষা জরিপে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি পরিদর্শন করে ২৮১টি স্থাপনায় এডিসের লার্ভা ও পিউপা পাওয়া যায়। লার্ভা পাওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে বহুতল ভবন ছিল ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ। এরপর একক বাড়ি ২৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং নির্মাণাধীন ভবন ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

প্রজননস্থলের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ছিল মেঝেতে জমে থাকা পানি - ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ। এরপর বালতি ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং প্লাস্টিকের ড্রাম ৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জরিপে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ৬৩টিতে এডিসের ঘনত্ব নির্ধারিত সীমার ওপরে পাওয়া যায় এবং ২৭টি ওয়ার্ডকে উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

অর্থাৎ এডিসের বাসা খুঁজতে শুধু রাস্তার পাশে তাকালেই হবে না। নিজের বাসার বারান্দা, ছাদ, গ্যারেজ, সিঁড়িঘর, ফুলের টব, টবের ট্রে, বালতি, ড্রাম, এসির পানি জমার স্থান, পরিত্যক্ত বোতল, ভাঙা পাত্র এবং নির্মাণসামগ্রীর ফাঁকেও নজর দিতে হবে।

পানি ফেলে দিলেই দায়িত্ব শেষ নয়: অনেকে মনে করেন, টব বা পাত্রের পানি ফেলে দিলেই এডিসের ঝুঁকি শেষ। বাস্তবে পাত্রের গায়ে ডিম লেগে থাকতে পারে। আবার পানি জমলে সেখান থেকেই নতুন মশার জন্ম হতে পারে। তাই পানি ফেলার পাশাপাশি পাত্রটি ঘষে পরিষ্কার করাও জরুরি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এডিসের প্রজননস্থল কমানোকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক এক সংলাপেও ডঐঙ বলেছে, প্লাস্টিক বর্জ্য ও দুর্গম নগরস্থানে মশার প্রজননস্থল কমানোর পাশাপাশি নজরদারি, তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থা, জনসম্পৃক্ততা ও চিকিৎসা প্রস্তুতি একসঙ্গে চালাতে হবে।

মশারি-কয়েলের চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু সমাধান কোথায়? ডেঙ্গুর আতঙ্কে রাজধানীর বাজারে মশারি ও কয়েলের বিক্রি বেড়েছে। মোহাম্মদপুর টাউন হলসহ বিভিন্ন বাজারে বিক্রেতারা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহে মশারির চাহিদা বেড়েছে; কোনো কোনো দোকানে দৈনিক বিক্রিও কয়েক গুণ হয়েছে। সাধারণ মশারির পাশাপাশি নানা ধরনের বিশেষ মশারির দাম কয়েকশ থেকে এক হাজার টাকার বেশি।

পাশাপাশি বেড়েছে কয়েলের বিক্রিও। সন্ধ্যা নামলেই অনেক ঘরে কয়েল জ্বলছে। তবে শুধু কয়েল বা মশারি ব্যবহার করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। কারণ এডিস মশা দিনের বেলাতেও কামড়ায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও অন্যান্য জনস্বাস্থ্য নির্দেশনায় মশার কামড় এড়ানোর পাশাপাশি প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং বাড়িঘর ও কর্মস্থলে সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ফগিংয়ের চেয়ে জরুরি উৎস ধ্বংস: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ফগিং বা লার্ভিসাইডিংয়ের প্রয়োজন থাকতে পারে। কিন্তু শুধু দৃশ্যমান মশা মারলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। কোথায় লার্ভা হচ্ছে, কোন ধরনের পাত্রে বেশি হচ্ছে, কোন এলাকায় রোগী বাড়ছে - এসব তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত নজরদারি ও লক্ষ্যভিত্তিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ও বলছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য খাতের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, নগর ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনগণের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। 
এ কারণে শুধু সিটি করপোরেশনের কর্মীদের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। বাড়ির মালিক, ভাড়াটিয়া, ভবন ব্যবস্থাপনা কমিটি, নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।

সপ্তাহে এক দিন-নিজের বাড়ির এডিস-খোঁজ: এখনই প্রতিটি পরিবার একটি সহজ নিয়ম চালু করতে পারে। সপ্তাহে অন্তত এক দিন পুরো বাড়ি পরীক্ষা করতে হবে। ছাদ থেকে বারান্দা, গ্যারেজ থেকে সিঁড়িঘর - কোথাও পানি জমে আছে কি না দেখতে হবে। ফুলের টবের নিচের ট্রে, বালতি, ড্রাম, এসির পানি জমার স্থান, পরিত্যক্ত বোতল, টায়ার ও ভাঙা পাত্র বিশেষভাবে দেখতে হবে।

পানি পাওয়া গেলে ফেলে দিয়ে পাত্র ঘষে পরিষ্কার করতে হবে। পানির ট্যাংক ও সংরক্ষণপাত্র ঢেকে রাখতে হবে। বাড়ির আশপাশে পানি জমার মতো আবর্জনা থাকলে তা সরাতে হবে। পাশের বাড়ির ছাদ বা ফাঁকা জায়গায় পানি জমে থাকলেও ভবন মালিক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানাতে হবে।

কারণ একটি বাড়ি পরিষ্কার থাকলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি শেষ হয় না। পাশের বাড়ির ছাদে, দুই ভবনের মাঝের অন্ধকার ফাঁকে কিংবা নির্মাণাধীন ভবনের বেজমেন্টে এডিসের প্রজনন চলতে থাকলে পুরো এলাকার মানুষ ঝুঁকিতে থাকবে।

আতঙ্ক নয়, অবহেলাও নয়: ডেঙ্গু বাড়ছে-এটি এখন আর অনুমানের বিষয় নয়। সরকারি হিসাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। একই সঙ্গে ঘরে ঘরে জ্বরের প্রকোপও মানুষকে উদ্বিগ্ন করছে। কিন্তু প্রতিটি জ্বর ডেঙ্গু নয়, আবার প্রতিটি জ্বরকে সাধারণ জ্বর ভেবে বসে থাকাও নিরাপদ নয়।

সুতরাং করণীয় খুব পরিষ্কার-জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করতে হবে, জ্বর কমে গেলেও সতর্ক থাকতে হবে এবং বিপদের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। একই সঙ্গে নিজের ঘর ও আশপাশে এডিসের প্রজননস্থল থাকতে দেওয়া যাবে না।

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর লড়াই শুরু হতে পারে একটি ফুলের টব থেকে, একটি বালতি থেকে, একটি ছাদ থেকে কিংবা দুই বাড়ির মাঝের সেই অন্ধকার ফাঁক থেকে। 
সচেতন পরিবারই হতে পারে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ।
সানা/আপ্র/২৫/৯/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

সোহরাওয়ার্দীতে আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে পানির ফোয়ারা
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সোহরাওয়ার্দীতে আত্মসমর্পণের ভাস্কর্যের বদলে পানির ফোয়ারা

৭ মার্চের ভাষণের উপস্থাপনাতেও পরিবর্তনের উদ্যোগ

আওয়ামী লীগের দোসরদের গ্রেফতারে পুরস্কারের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আওয়ামী লীগের দোসরদের গ্রেফতারে পুরস্কারের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসরদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগানোর নির্দেশ দ...

এবার মোহাম্মদপুরে অফিস ভাঙচুর-লুটপাট করে জমি দখলের অভিযোগ
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এবার মোহাম্মদপুরে অফিস ভাঙচুর-লুটপাট করে জমি দখলের অভিযোগ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিং এলাকায় একটি অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে জমি দখলের চেষ...

কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই