লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি না করায় নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়াকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুই নেতার কথোপকথনের একটি কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ওই অডিওতে গিয়াস উদ্দিন পলাশকে নিজের দলীয় পদ পেতে ৫০ লাখ টাকা খরচ করার দাবি করতে শোনা যায়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে প্রায় তিন মিনিট ২৫ সেকেন্ডের ওই কলরেকর্ড একটি সংবাদসংস্থার প্রতিবেদকের হাতে আসে। এতে দুই নেতার মধ্যে অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে কার নাম থাকবে, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং দলীয় পদ নিয়ে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শোনা যায়। কথোপকথনের কিছু অংশ অপ্রকাশযোগ্য।
অডিওতে গিয়াস উদ্দিন পলাশকে বলতে শোনা যায়, ‘মনোয়ার প্রধান অতিথি, আমনে বিশেষ অতিথির ব্যানার কইরছেন।’ এরপর তিনি অভিযোগ করেন, পানিওয়ালা গ্রামের একটি স্কুলের অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রধান অতিথি করা হয়নি এবং ব্যানারে তাঁর নাম না থাকার বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
একপর্যায়ে পলাশকে মারুফ ভূঁইয়ার উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘আপনে কন পলাইশশা কে?’ এরপর সাংগঠনিক রাজনীতি না বোঝার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তিনি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তাঁর নাম ব্যানারে কেন দেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।
কথোপকথনের একপর্যায়ে পলাশকে বলতে শোনা যায়, ‘নির্বাচিত সেক্রেটারি, ৫০ লাখ টিয়া খরচ করে হালাইছি।’ অর্থাৎ তিনি দাবি করেন, সাধারণ সম্পাদক হতে তাঁর ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে।
এরপর তিনি অনুষ্ঠানে না যাওয়ার কথা জানান এবং মারুফ ভূঁইয়াকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন হুমকিমূলক বক্তব্য দেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে দুই নেতার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
‘ঘটনাটি পুরোনো, পরে সমাধান হয়েছে’: অডিওতে হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে নোয়াগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তাওহীদ হোসেন মারুফ ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাটি পুরোনো। বিষয়টি তিনি সিনিয়র নেতাদের জানানোর পর তাঁরা বসে সমাধান করে দিয়েছেন। গিয়াস উদ্দিন পলাশ পরে তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন পলাশকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে পলাশের ঘনিষ্ঠ এক নেতা বলেন, ঘটনার সময় পলাশ কিছুটা উত্তেজিত ছিলেন। পরে নিজেদের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।
অডিওতে ৫০ লাখ টাকা খরচের যে দাবি করা হয়েছে, সেটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে গিয়াস উদ্দিন পলাশের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
ভোটে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত পলাশ: দলীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রামগঞ্জ পৌর বিএনপির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে শেখ কামরুল কামরুজ্জামান সভাপতি এবং গিয়াস উদ্দিন পলাশ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
সাম্প্রতিক ছড়িয়ে পড়া কলরেকর্ডের সূত্র ধরে এখন তাঁর দলীয় পদ পাওয়া নিয়ে ৫০ লাখ টাকা খরচের দাবি নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ওই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করার মতো কোনো স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দুই নেতার বক্তব্যে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসিত হওয়ার দাবি করা হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১১/৮/২০২৬