শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের কম্পিউটার সিস্টেমে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনায় প্রায় ২৫ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়ে গেছে বলে তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায় দেশটির কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু করেছে।
শ্রীলঙ্কার কর্মকর্তাদের বরাতে জানা যায়, চুরি যাওয়া অর্থটি ছিল অস্ট্রেলিয়া থেকে নেওয়া দ্বিপাক্ষিক ঋণের একটি কিস্তি পরিশোধের অর্থ। তবে হ্যাকাররা ইমেইলভিত্তিক পেমেন্ট নির্দেশনায় কারসাজি করে এই অর্থ প্রকৃত প্রাপকের বদলে ভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নেয়।
শ্রীলঙ্কার অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব হার্শানা সুরিয়াপ্পেরুমা জানান, চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তখন প্রকাশ্যে আসে যখন অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান কিস্তির অর্থ না পাওয়ার কথা জানায়।
ঘটনার পর সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তায় তদন্ত চালানো হচ্ছে।
কর্মকর্তারা বলছেন, কীভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে এই অর্থ চুরি হলো তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পেমেন্ট নির্দেশনার ইমেইল সিস্টেমে হ্যাকাররা অনুপ্রবেশ করে তথ্য পরিবর্তন করেছিল।
পরবর্তীতে একই ধরনের আরেকটি আন্তর্জাতিক ঋণ পরিশোধের সময়ও অনুরূপ সাইবার হস্তক্ষেপের চেষ্টা ধরা পড়ে। এতে পুরো ঘটনার বিস্তৃতি ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয় এবং বড় ধরনের আর্থিক নিরাপত্তা দুর্বলতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
শ্রীলঙ্কার অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনিলো জয়ন্ত ফার্নান্দো জানিয়েছেন, ঘটনার পর ব্যাংকিং তথ্য যাচাইয়ে গরমিল ধরা পড়ায় সম্ভাব্য আরেকটি জালিয়াতি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
এই সাইবার হামলাকে বিশেষজ্ঞরা শ্রীলঙ্কার জন্য গুরুতর নিরাপত্তা সংকট হিসেবে দেখছেন। কারণ দেশটি এখনো চার বছর আগের ভয়াবহ অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, যখন বিদেশি মুদ্রার সংকট, ঋণখেলাপি পরিস্থিতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঘাটতিতে দেশজুড়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
কলম্বোতে নিযুক্ত অস্ট্রেলীয় হাই কমিশন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং তদন্তে শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
বর্তমানে চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধার, সাইবার নিরাপত্তা দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়-তা নিয়েই তদন্ত জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সানা/আপ্র/২৪/৪/২০২৬