বিদেশে চাকরি, কর্মী ভিসা ও লিখিত পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড় এলাকা থেকে একটি দালাল চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-৪)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাঁদের মধ্যে সাতজনকে সাত দিন থেকে তিন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন শরীয়তপুরের সুরুজ মিয়া; পটুয়াখালীর সবুজ; পাবনার শাহিন; সিরাজগঞ্জের সুজন ও শামীম; কিশোরগঞ্জের আবুল বাশার, দুর্জয় ও কাইয়ুম; ভোলার হারুন, রিয়াজ ও কামরুননাহার এবং রংপুরের রেজাউল করিম।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর টেকনিক্যাল মোড়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-৪-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-কোরিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিকেটিটিসি) ও বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রটির বিষয়ে ছায়াতদন্ত চালানো হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর শুক্রবার সকালে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আইনের আওতায় আনা হয়।
যেভাবে প্রতারণা করত চক্রটি
এসআরবি জানায়, বিদেশে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের স্বল্প খরচে কর্মী ভিসা এবং লিখিত পরীক্ষায় পাস করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিত চক্রটি। এ জন্য প্রার্থীদের কাছ থেকে ক্ষেত্রবিশেষে ৪০ হাজার থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। পরে নানা অজুহাতে সেই অর্থ আত্মসাৎ করতেন চক্রের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন বোয়েসেল সরকারিভাবে বিদেশে কর্মী নিয়োগ করে। এ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো ফি নেওয়া হয় না। কেবল পাসপোর্ট থাকলেই পরীক্ষার মাধ্যমে বিনা খরচে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া যায়। প্রতি শুক্র ও শনিবার বিকেটিটিসি ভেন্যুতে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা প্রার্থীদের লক্ষ্য করেই মূলত দালাল চক্রটি সক্রিয় ছিল।
বিকেটিটিসি সরাসরি চাকরি বা কর্মী পাঠায় না
লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, বিকেটিটিসি একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন মেয়াদের মোট ২৪টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এসব প্রশিক্ষণের সনদ বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে সহায়ক হলেও প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি কর্মী পাঠায় না বা চাকরির ব্যবস্থা করে না। তাই প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং চাকরি পাওয়ার বিষয় দুটি এক নয়। এ বিষয়ে প্রার্থীদের সচেতন থাকা জরুরি।
বিদেশে চাকরি কিংবা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে কেউ অর্থ দাবি করলে যাচাই-বাছাই ছাড়া লেনদেন না করার অনুরোধ জানিয়েছে এসআরবি। সংস্থাটি বলেছে, প্রতারণা এড়াতে সরকারি দপ্তর ও অনুমোদিত এজেন্সির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করতে হবে। কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে বাহিনীটি।
সানা/আপ্র/১০/১০/২০২৬