তথ্যের অধিকার আইনের বিভিন্ন আবেদনের নথিপত্র সম্পাদনার ক্লান্তিকর কাজ কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। দেশটির বিচার বিভাগের বহুল আলোচিত এপস্টাইন ফাইল প্রকাশের সময় লাখ লাখ নথির গোপন অংশ কালো দাগ দিয়ে মুছে দেওয়ার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়ার পর এমন উদ্যোগের কথা সামনে এলো।
প্রযুক্তি সংবাদবিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেট জানিয়েছে, ওয়াশিংটন পোস্টের দেখা গিটহাবের কিছু নথিতে মার্কিন সরকারের এ পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে।
নথি অনুযায়ী, মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম ব্যবহার করবে। এসব সরঞ্জাম তথ্যের অধিকার আইনের কর্মকর্তাদের জন্য নথি থেকে কোন তথ্য বাদ দেওয়া প্রয়োজন, তা চিহ্নিত বা সুপারিশ করবে।
সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তথ্যের অধিকার আইনের আবেদনের আওতায় আসা ১০ শতাংশের বেশি নথিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করবে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার নথি এতে অন্তর্ভুক্ত হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দেওয়া বিভিন্ন সুপারিশ অবশ্যই যাচাই করবেন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কর্মীরা। আবেদনকারীরা যাতে নথির ভাষায় ‘নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ’ তথ্য পান, তা নিশ্চিত করতেই এই পর্যালোচনা করা হবে।
নথিতে বলা হয়েছে, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাটি নথিপত্র প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় অনেক কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের অনুসন্ধানে জানা গেছে, অন্যান্য মার্কিন সরকারি সংস্থাও নথির গোপন অংশ বাদ দেওয়ার কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সরঞ্জাম ব্যবহার করছে বা তা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এর মধ্যে আইনজীবী ও মক্কেলের মধ্যকার গোপন তথ্য মুছে ফেলতে মাইক্রোসফটের একটি সরঞ্জাম ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র বিভাগ। অন্যদিকে মার্কিন যুদ্ধ বিভাগ বা বিচার বিভাগ ভিডিও সম্পাদনার মাধ্যমে গোপন অংশ বাদ দিতে ভারিটনের ‘এআইওয়্যার’ নামের একটি সরঞ্জাম ব্যবহার করছে।
এ ছাড়া অজানা তথ্য মুছে ফেলার জন্য ‘ফ্রেড’ নামে নিজেদের একটি সরঞ্জাম তৈরি করছে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ।
ওয়াশিংটন পোস্টকে এক মুখপাত্র বলেছেন, তথ্যের অধিকার আইনের কর্মীদের আরো দক্ষতার সঙ্গে নথিপত্র প্রক্রিয়াজাত করতে সহায়তার জন্য খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন দায়িত্বশীলভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সীমিত ব্যবহারের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
মার্কিন সরকার সময় বাঁচানোর উপায় হিসেবে এসব সরঞ্জামের ব্যবহারকে গুরুত্ব দিলেও এর ফলে নথিপত্রে অতিরিক্ত মাত্রায় কালো দাগ দিয়ে তথ্য ঢেকে ফেলা বা তথ্য গায়েব হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার একজন তথ্যের অধিকার আইন বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, নথিপত্র সম্পাদনা বা গোপন অংশ বাদ দিতে সরকার কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এটি গোপনীয়তা রক্ষার শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩০/৯/২০২৬