জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখতে আসা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিনে সংসদ অধিবেশনে তিনি শিক্ষা, কৃষি ও পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি রাজধানীর রমনায় প্রতিদিন ধানের শীষ হাতে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানানো এক সাধারণ নিরাপত্তাকর্মীর প্রতিও মানবিক সাড়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ: বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অধিবেশন শুরুর আগে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং লেখাপড়াসহ বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে নিজেদের দক্ষ, যোগ্য ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি লেখাপড়ার পাশাপাশি শারীরিক শিক্ষা, শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
বিএনপি সরকারের উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন সরাসরি দেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবন পরিদর্শন করেন।
এর আগে তারা জাতীয় সংসদ ভবনের অনন্য স্থাপত্যশৈলী ঘুরে দেখেন, সংসদ লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন স্থানে স্মৃতিচারণমূলক ছবি তোলেন। পরে তারা সংসদের অধিবেশন সরাসরি উপভোগ করেন।
এ সময় জিঞ্জিরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংসদের অধিবেশন সরাসরি দেখার সুযোগ করে দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বাড়বে ধাপে ধাপে: জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন ধাপে ধাপে বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
বুধবার সংসদ অধিবেশনে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশের সরকারি ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ের এক কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও স্কুল ব্যাগ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে শিক্ষা খাতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে, কিন্তু মানবসম্পদ উন্নয়নে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
কৃষি খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিভিত্তিক বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কৃষিতে প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন, চীনে বাংলাদেশি কাঁঠাল রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। পুঁজিবাজার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে পুঁজিবাজার ভালো অবস্থানে ফিরছে বলেও জানান তিনি।
ধানের শীষ হাতে দাঁড়ানো নিরাপত্তাকর্মীর পাশে প্রধানমন্ত্রী: রাজধানীর রমনা এলাকায় প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর যাওয়ার সময় ধানের শীষ হাতে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানানো এক সাধারণ নিরাপত্তাকর্মীর প্রতি মানবিক সাড়া দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন রমনা এলাকায় গিয়ে নিরাপত্তাকর্মী আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তার হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয় এবং তার শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়। আব্দুস সালামের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ী ঘাট এলাকায়। অর্থাভাবে গত আট মাস ধরে রাজধানীর পুরোনো রমনা থানার সামনে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন তিনি। এর আগে তিনি গাড়িচালক ছিলেন। স্ট্রোক করার পর গাড়ি চালানো ছেড়ে নিরাপত্তাকর্মীর কাজ নেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে যাওয়ার পথে রমনা এলাকার ওই বুথের সামনে প্রতিদিন ধানের শীষ হাতে দাঁড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাতেন আব্দুস সালাম। তার এই নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে তার খোঁজ নিতে উপহার নিয়ে প্রতিনিধি পাঠান প্রধানমন্ত্রী।
উপহার পেয়ে আব্দুস সালাম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “আমি কখনো কল্পনাও করিনি, এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হবে আর প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।” তিনি বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীর বাবাকে ভালোবাসি, মাকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। তিনি যখন এই পথ দিয়ে যান, আমি প্রতিদিন তাকে সালাম দিই। তিনিও গাড়ির ভেতর থেকে হেসে সালামের উত্তর দেন, হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। আজ আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিন।”
একজন সাধারণ মানুষের নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এমন সাড়া স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসা পেয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দায়িত্বের বাইরে একজন সাধারণ মানুষের আবেগকে মূল্যায়ন করা একটি মানবিক দৃষ্টান্ত।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/৮/৭/২০২৬