বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নাটকীয় হারের পর আবেগাপ্লুত হয়ে রেফারিং নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিশরের উইঙ্গার মোস্তাফা মোহামেদ জিকো। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি দাবি করেন, তাঁদের দল ‘স্পষ্ট ও প্রকাশ্য অবিচারের’ শিকার হয়েছে। এমনকি বিশ্বকাপকে ‘পাতানো টুর্নামেন্ট’ বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি ২৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। তিনি বলেন, ‘এটা অন্যায়, অন্যায়, অন্যায়। রেফারি অন্যায় করেছেন। এটা অবিচার, স্পষ্ট এবং প্রকাশ্য অবিচার।’
ম্যাচে মিশরের হয়ে দুটি বল জালে পাঠিয়েছিলেন জিকো। এর মধ্যে একটি গোল স্বীকৃতি পেলেও অপরটি ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় বাতিল করা হয়। ম্যাচের ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সময় দ্রুতগতির এক পাল্টা আক্রমণ থেকে তাঁর করা গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্তই ম্যাচের অন্যতম বিতর্কিত মুহূর্ত হয়ে ওঠে। রিপ্লেতে দেখা যায়, আক্রমণ শুরুর আগে মিশরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করেছিলেন। সেই কারণেই গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
এই সিদ্ধান্তসহ ম্যাচের একাধিক রেফারিং নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসানও। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে। আমরা অবিচারের শিকার হয়েছি।’
তবে কোচের চেয়েও কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান জিকো। তাঁর অভিযোগ, পুরো ম্যাচজুড়েই রেফারির সিদ্ধান্ত আর্জেন্টিনার পক্ষেই গেছে।
তিনি বলেন, ‘রেফারি মোটেও ভালো ছিলেন না। শুরু থেকেই তিনি আমাদের বিরুদ্ধে ছিলেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আমরা ২-০ গোলে এগিয়ে থাকব, সেটা যেন তিনি মেনে নিতে পারেননি। বারবার আমাদের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। একটি জাতির স্বপ্ন ও পরিশ্রম তিনি নষ্ট করে দিয়েছেন।’
এরপর আরো বিস্ফোরক মন্তব্য করে জিকো বলেন, ‘এটা পাতানো টুর্নামেন্ট। মনে হচ্ছে, বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনাকে দিয়েই দেওয়া হয়েছে। তাদের আগাম অভিনন্দন জানিয়ে রাখছি। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই সর্বোত্তম বিচারক ও সবকিছুর নিয়ন্ত্রক।’
বিশ্বকাপ শুরুর অল্প সময় আগে জাতীয় দলে অভিষেক হলেও দ্রুতই মিশরের অন্যতম নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠেন জিকো। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন তিনি। তবে দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলতে না পারায় দেশের সমর্থকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন এই উইঙ্গার।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষকে আনন্দ দিতে চেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। কিন্তু আল্লাহর কসম করে বলছি, ফল আমাদের হাতে ছিল না, সেটি ছিল রেফারির হাতে। আমার কাছে পুরো টুর্নামেন্টই পাতানো মনে হয়েছে।’
তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জিকোর এই অভিযোগ তাঁর ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া। ম্যাচ পরিচালনা বা ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য দেওয়া হয়নি।
সানা/ডিসি/আপ্র/০৮/০৭/২০২৬