উচ্চ কোলেস্টেরল বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। নিয়ন্ত্রণে না থাকলে এটি হৃদরোগ, স্ট্রোক এবং করোনারি আর্টারি ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে ক্ষতিকর এলডিএল (LDL) কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কঠোর ডায়েটের চেয়ে স্বাস্থ্যকর ও সুষম খাদ্যাভ্যাস বেশি কার্যকর। বিশেষ করে আঁশসমৃদ্ধ, স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত এবং কম প্রক্রিয়াজাত খাবার নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
দ্রবণীয় আঁশসমৃদ্ধ খাবার এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের আঁশ পরিপাকতন্ত্রে কোলেস্টেরলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তা শরীর থেকে বের করে দিতে সহায়তা করে। ওটস, বার্লি, শিম, মসুর ডাল, আপেল ও বিভিন্ন ধরনের বেরিজাতীয় ফলে এ ধরনের আঁশ প্রচুর থাকে।
মৌসুমি ফল ও শাকসবজিও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে উপকারী। এসব খাবারে ভিটামিন, খনিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আঁশ থাকায় রক্তনালির স্বাস্থ্য ভালো থাকে। পাশাপাশি এগুলোতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্যালোরির পরিমাণও কম। শাকসবজি, ব্রকলি, গাজর, আপেল ও বিভিন্ন রঙের ফলমূল নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখা উচিত।
স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মাখন বা ঘির পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে সরিষার তেল, চিনাবাদামের তেল, অ্যাভোকাডো ও বিভিন্ন ধরনের বাদাম খাওয়ার পরামর্শ দেন। এসব খাবারে থাকা আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া বাদাম, বীজ ও তৈলাক্ত মাছও খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী। অন্যদিকে কেক, বিস্কুট, প্রক্রিয়াজাত মাংস, ভাজাপোড়া ও ফাস্টফুডের মতো অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে। এসব খাবারে অস্বাস্থ্যকর চর্বি, অতিরিক্ত চিনি ও লবণ থাকায় কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একটি খাবার নয়, বরং প্রতিদিনের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসই কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে কার্যকর। তাই শস্যদানা, ডাল, ফল, শাকসবজি, স্বাস্থ্যকর চর্বি, বাদাম, বীজ এবং চর্বিহীন প্রোটিনসমৃদ্ধ সুষম খাদ্য নিয়মিত গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
সূত্র: এইচএন
এসি/আপ্র/০৮/০৭/২০২৬