যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে আর আলোচনায় আগ্রহী নন। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন তিনি।
বুধবার (৮ জুলাই) তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা শেষ। আমি আর তাদের সঙ্গে কথা বলতে চাই না। আমার দিক থেকে বলতে গেলে, এটা শেষ।’ তিনি আরো বলেন, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা করা এখন ‘সময়ের অপচয়’।
গত মাসে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং ইরানি বন্দরগুলোর অবরোধ প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছিল। চুক্তিটি ৬০ দিনের জন্য কার্যকর থাকার কথা ছিল।
তবে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধে। হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালায়।
মঙ্গলবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসবের মধ্যে ছিল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড ও কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার, জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং আইআরজিসির ৬০টির বেশি ছোট নৌযান। সেন্টকমের দাবি, আন্তর্জাতিক জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাব হিসেবেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন হামলাকে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে। এক বিবৃতিতে তেহরান জানায়, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় তাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রয়োজনীয় জবাব দিতে প্রস্তুত।
উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে শুরু করায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম প্রায় ৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৬০ ডলারে।
সূত্র: সিএনবিসি ও ব্লুমবার্গ
এসি/আপ্র/০৮/০৭/২০২৬