বর্ষা ও প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রতি বছর বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, তাই সচেতন থাকাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। সহজ কিছু নিয়ম মেনে চললে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ঘরের ভেতরে থাকলে যা করবেন
* দরজা-জানালা বন্ধ রাখুন
* বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (টিভি, কম্পিউটার, চার্জার) ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
* ল্যান্ডফোন ব্যবহার করবেন না
* পানির সংস্পর্শ (শাওয়ার, কল, ট্যাংক) থেকে দূরে থাকুন
কারণ বজ্রপাত সরাসরি না পড়লেও বিদ্যুতের লাইন বা পানির মাধ্যমে ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বাইরে থাকলে সতর্কতা
* গাছের নিচে আশ্রয় নেবেন না
* উঁচু জায়গা, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা ধাতব বস্তু থেকে দূরে থাকুন
* খোলা মাঠে থাকলে নিচু হয়ে বসে পড়ুন (শুয়ে পড়বেন না)
* সম্ভব হলে দ্রুত পাকা ভবনের ভেতরে আশ্রয় নিন
গাড়িতে থাকলে
* গাড়ির ভেতরে থাকাই তুলনামূলক নিরাপদ
* জানালা বন্ধ রাখুন
* ধাতব অংশ স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন
ব্যক্তিগত সুরক্ষা
* খালি পায়ে হাঁটবেন না
* রাবারের সোলযুক্ত জুতা বা স্যান্ডেল পরুন
* ঝড়ের সময় মোবাইল ব্যবহার কমিয়ে দিন (বিশেষ করে খোলা জায়গায়)
ঝড় থামার পরও সতর্কতা
* বজ্রধ্বনি থামার অন্তত ৩০ মিনিট পর বাইরে বের হন
* অনেক সময় ঝড় শেষ হলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকে
শিশুদের জন্য
* আগে থেকেই সহজ ভাষায় নিরাপত্তা নিয়ম শেখান
* আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে যেতে অভ্যস্ত করুন
মনে রাখবেন
বজ্রপাত অত্যন্ত শক্তিশালী এবং প্রাণঘাতী। এর ফলে পুড়ে যাওয়া, খিঁচুনি, শ্রবণ সমস্যা এমনকি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সচেতনতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং নিরাপদ আশ্রয়—এই তিনটিই বজ্রপাত থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এসি/আপ্র/২৮/০৪/২০২৬